শিরোনাম :

ডিককুল,লারপাড়া,বাসটার্মিনাল,হাজীপাড়া,জানারঘোনা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়িদের দৌরাত্ম বাড়ছে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৯, ২০২১
  • 963 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারে অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ইয়াবা ব্যবসা। আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনির ব্যাপক তৎপরাতার পরেই দিন দিন বিভিন্ন এলাকায় বেড়েই চলেছে ইয়াবা ব্যবসায়ি এর মধ্যে অনেকে পুরাতন ব্যবসায়ি যারা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হলেও পরে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসে আবারো জড়িয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়। আবার অনেকে নতুন করে যোগ দিয়েছে এই ব্যবসায়। শহরের ইয়াবারডিপু বাসটার্মিনাল,লারপাড়া,উত্তর ডিককুল,দক্ষিণ ডিককুল,মেডিকেল কলেজ এলাকার স্থানীয় সমাজ কমিটি এবং বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষের দেওয়া তথ্যমতে এসব এলাকায় এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়িরা।
পশ্চিম লারপাড়ায় বর্তমানে সব চেয়ে বেশি আলোচিত লাল মোহাম্মদের ছেলে কালাম এবং বশির এর মধ্যে লাল মোহাম্মদ এবং বশির ইয়াবা সহ গ্রেফতার হলে জামিনে এসে আবারে ফিরেছে পুরানো পেশায়। আর কালাম গত বছরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার সময় মালয়েশিয়া পালিয়ে গেলেও বর্তমানে ফিরেছেএলাকায়। ছৈয়দ হোসেন সেই পূর্বে আটক হয়েছিল এখন আবারো ব্যাপক তৎপরতায় চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। কামাল যার প্রকৃত বাড়ি খুরুশকুল মনুপাড়া কিছুদিন আগে সামান্য কাজ করলেও বর্তমানে বাসটার্মিনাল এলাকায় কয়েকটি দোকানের মালিক। এছাড়া তার নিজস্ববাহিনি দিয়ে চালায় দখল থেকে শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা। সম্প্রতী বাস টার্মিনাল এলাকার বাইপাস গেষ্ট হাউজ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই করে তার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে বিপুল টাকা আয় করেছে যা এলাকার সবাই জানে। পূর্ব লারপাড়া এলাকার শামসু হচ্ছে বর্তমান সময়ে সব চেয়ে আলোচিত ব্যবসায়ি,সাইফুল পিতা জুনু শামসুর বোনের জামাই ইদ্রিস মমতাজ,ইয়ার মোহাম্মদের ছেলে মিজান সহ অনেকে প্রকাশ্য চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা তারা এখন প্রত্যেকে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক। দক্ষিণ ডিককুল এলাকা বড় মহাজন হচ্ছে আবদু শুক্কুর কিছুদিন আগে সামান্য আয়ের মানুষ হলেও বর্তমানে অন্তত ১০/১২ জমির মালিক। তার রয়েছে অল্প বয়সি তরুনদের একটি বিশাল সিন্ডিকেট। গাছ জাফরের ছেলে ছালাম,মহেশখালীর বাসিন্দা সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আবদুর রাজ্জাক এবং তার স্ত্রী হাসিনা এলাকার বেশির ভাগ মানুষ জানে তাদের ইয়াবা ব্যবসার কথা। এছাড়া রাজ্জাক ড্রাইভার সহ অনেকে আছে যারা প্রকাশ্য চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। এই এলাকার বড় ইয়াবা গডফাদার হিসাবে পরিচিত নফর বর্তমানে এলাকা ছাড়া হলেও মাঝেমধ্যে আসেন। তবে এখনো তার সঙ্গিরা অক্ষত বলে জানান এলাকাবাসী।উত্তর ডিককুল এলাকায় সব চেয়ে বড় ইয়াবা ডিলার হচ্ছে মৃত শফিক আহামদে ছেলে রাসেল সেও পূর্বে গ্রেফতার হলেও বর্তমানে এলাকা এসে সে নিজে এবং তার কিছু আত্বীয় স্বজন নিয়ে এবং এলাকা কিছু উঠতি বয়সের যুবককে দিয়ে চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। ওয়াহিদ ফেরদৌস একজন চিহ্নিত মাদক কারবারী। ছৈয়দ হোসন পিতা ওয়াদুল হক ফকির,ইয়াছিন পিতা জামাল হোসেন উত্তর ডিককুল,নুরুল আমিন পিতা বদরুজ্জামান নাপাঞ্জপাড়া,লারপাড়ার আবু সুফিয়ান,রশিদ আনচারী পিতা নুর মোহাম্মদ আনচারী,ফজল দক্ষিণ ডিককুল। দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় নিরবে ইয়াবা ব্যবসা করে সফল হয়েছেন নুরুল হকের ছেলে এরশাদুল হক। এই যুবকের কখনো কোন দৃশ্যমান আয় না থাকলেও তার চলাফেরা সব সময় রাজকীয়। বর্তমানে প্রাইভের কার ছাড়া চলাফেরা করেনা বাড়িতেও সাজিয়েছেন কোটি টাকার দামী আসভাবপত্র দিয়ে। এছাড়া তার রয়েছে নিজস্ব তরুন গ্রæপ যারা হ্নীলা থেকে ইয়াবা এনে সারা জেলায় ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া সম্প্রতী গ্রেফতার হওয়ার হাবিব সওদাগরের ছেলে নাছির ইয়াবা নিয়ে আটক হয়ে জেল খেটে এসে আবারো নিজস্ব গতিতে চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। এছাড়া উপজেলা অফিসের পাশের গলিতে আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ি হিসাবে পরিচিত অসংখ্য মামলা আসামী ফয়সাল পিতা বার্মাই সেলিম,বাবু পিতা মৃত শামসুল আলম,গত সপ্তাহে ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয় বেবীর বাড়ি থেকে সে বাবু মা। এলাকায় রহস্যজনক এক ব্যাক্তি আছে তার নাম নুরুল ইসলাম,কিছুদিন আগে ইয়াবা নিয়ে গ্রেফতার হওয়া মৃত গুরা মিয়ার ছেলে ফোরকান,তার বোনের জামাই সহ অনেকে প্রকাশ্য ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। আব্বাস পিতা কবির আহামদ,মীর আহামদ মৌলভীর দুই ছেলে খাদ্যগুদামের ভেতরে প্রতিদিন ইয়াবার হাট বসায়,এছাড়া দক্ষিণ হাজী পাড়া শহিদুল্লাহ নামের এক যুবকও ইয়াবা নিয়ে কয়েকবার আটক হয়ে বর্তমানে এলাকায় এসে আবারো ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। এদিকে উত্তর ডিককুল,দক্ষিণ ডিককুল,বাসটার্মিনাল এলাকা,জানারঘোনা এলাকার সমাজকমিটি সহ স্থানীয়রা দাবী করেন এই তালিকা আমরা প্রশাসনকে কয়েকবার দিয়েছি। অনেক সময় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায় তবে কাজের কাজ কিছ্ইু হয়না বরং কিছুদিন পর ইয়াবা ব্যবসায়িরা এলাকায় ফিরে এসে আমাদের হুমকি ধমকি দেয়। আবার অনেকে আছে যারা নানান ভাবে বর্তমানে সমাজে প্রতিষ্টিত এবং অনেক জনপ্রতিনিধি সহ সমাজপতিদের আত্বীয় স্বজন তাই ভয়ে কাউকে কিছু বলা যায় না। তবে এ সব ইয়াবা ব্যবসায়িদের কারনে এলাকা ছেলে মেয়ে নিয়ে বসাবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রশাসন সহ সবার কাছে দাবী জানাচ্ছি ইয়াবা ব্যবসায়িদের সমুলে ধ্বংস করা হউক। এ ব্যপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,বর্তমানে বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক ইয়াবা বিস্তার বেড়েছে সেটা অনেকটা সত্য,সে বিষয়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। আমরা অনেক সফল অভিযানও করেছি সামনে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT