শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চোরাই পণ্যের ব্যবসা জমজমাট কক্সবাজারের দুই পৌরসভা ও ১৪ ইউপিতে ভোট ২০ সেপ্টেম্বর রামু উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দোকান বরাদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ঈদগাঁও বটতলী-ইসলামপুর বাজার সড়কের বেহাল দশা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা পৌর কাউন্সিলার জামশেদের স্ত্রী‘র ইন্তেকাল : সকাল ১০ টায় জানাযা উখিয়ায় বিদ্যুৎ পৃষ্টে একজনের মৃত্যু কক্সবাজারে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত মদপানে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু টেকনাফে নৌকা বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে; সাবরাং পথসভায় মেয়র মুজিব ৮ হাজার পিস ইয়াবা, যৌন উত্তেজক সিরাপ নগদ টাকা সহ আটক ১

টেকনাফে ১৪৬ কোটি টাকার নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ উদ্ধোধনের আগেই ধসে পড়ল সিসি ব্লক!

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২০
  • 259 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

জসিম মাহমুদ :
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষার বেড়িবাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে জোয়ারের পানির আঘাতে স্থাপিত সিসি বøক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল। এতে করে ওই এলাকার ৪০হাজার মানুষের মাঝে আবারো আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দাবি, নকঁশার কিছুটা ত্রæটি থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নকঁশা পরিবতনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বেড়িবাঁধ নিমাণাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণকাজে তড়িৎগড়ি করায় জোয়ারের পানিতে সিসিবøক গুলো সরিয়ে সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে অন্তত ১০টি মতো অধিক স্থানে সিসি বøকগুলো ধসে পড়ছে। দ্বীপের ১৪৬কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন দক্ষিণ পাশের মাঝের পাড়া, দক্ষিণ পাড়ার আধা কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অংশে ডাম্পিং বøক কম দেওয়ায় জোয়ারের পানির আঘাতে সিসি বøক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে। এতে নির্মাণাধীন এ বেড়িবাঁধের টেকসই ও স্থায়ীত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পাউবো সূত্র জানায়,২০১২ সালের ২২জুলাই শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বেড়িবাঁধের ৬৮নং ফোল্ডারের একাংশ সাগরের জোয়ারের পানির তোড়ে বিলীন হয়ে যায়। সংস্কারের অভাবে প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়িবাঁধ অরক্ষিত হয়ে শত শত পরিবার বসতঘর-দোকানপাট-মসজিদ- মাদ্রাসা ও রাস্তা-ঘাট সাগরে বিলীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ভোগান্তির পর অবশেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে ১০৬ কোটির টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে এ প্রকল্পে আরও ৪০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নৌবাহিনীর তত্ত¡াবধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন নারায়ণগঞ্জের সেনাকান্দায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ডকইয়াড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়াকস লিমিটেড। এরপর তারা কাজটি সহযোগি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটিএ গ্রæপ বরাদ্দ দেন। চলতি ২০২০ অর্থবছরের জুন মাসে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও অদ্যবধি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ রক্ষার বেড়িবাঁধটি বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষা। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের পানি নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়ছে। পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া থেকে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধের সাগরের অংশে দুই রকমের সিসি বøক স্থাপিত করা হয়। মাঝের পাড়া থেকে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত আধা কিলোমিটারের গত কয়েক দিনের জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে অন্তত ১০টি স্থানে বøক ধসে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ঘর ভিটা হারানো ফজল আহমদ বলেন, গত বছর বেড়িবাধ নির্মাণ কাজ শুরু হলে এলাকার শত শত লোকজন আশার আলো দেখতে পেলেও বাঁধে ধসের খবরে আবারো স্থানীয়রা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। কিছুদিন আগে দক্ষিণপাড়া এলাকার বাঁধের শেষাংশে বøক বসানোর কাজ গুলো খুবই তাড়াহুড়ার মাধ্যমে করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক কলিম উল্লাহ বলেন, এলাকার শত শত পরিবার বসতঘর-দোকানপাট-জমি-জমা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত কয়েক বছরের সাতশতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে অন্যত্রে চলে গেছে।
সাবরাং ইউপির ৭নং ওয়াডের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, সাত বছর অরক্ষিত থাকার পর বাঁধ নির্মাণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বাঁধের কাজ শেষ না হতেই জোয়ারের পানিতে যেভাবে সিসি বøকগুলো ধসে যাচ্ছে তাতে পুরো দ্বীপের মানুষ হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। আবারো ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হলে এখননি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক জাহেদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রথম দিকে কাজগুলো খুব টেকসই ভাবে করতে দেখেছি। কিন্তু দক্ষিণপাড়া অংশে যেখানে সাগরের আগ্রাসন বেশি সেখানে এসে কাজে তাড়াহুড়া করতে দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা বøক স্থাপিত করার আগে বিছানো বালু পর্যন্ত রোলার গাড়ি দিয়ে ভালো ভাবে চেপে দেওয়া হয়নি। তাই জোয়ারের আঘাতে বøকগুলো ধসে পড়ছে।
সহযোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটিএ গ্রæপের প্রতিনিধি উত্তম কুমার শাখারী বলেন, নৌবাহিনীর তত্ত¡াবধানে এবং পাউবোর নিয়মিত তদারকিতে বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে। সেখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে জোয়ারের পানিতে সিসি বøকগুলো সরে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমরা একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করব। চলতি ২০২০ অর্থবছরের জুন মাসে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও অদ্যবধি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটি আসলে নকশার ত্রæটির জন্য হয়েছে। ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। নকশা পর্রিবতনের ব্যাপারেও আমাদের মতামত পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি দ্রূত সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন,বাঁধের যে অংশে এখন ঝুঁকি দেখা দিয়েছে নকশা করার সময় সেখানে চরটা অনেক দুরে ছিল। সাগরের অব্যাহত ভাঙনে বর্তমানে বাঁধের কাছে চলে আসায় বড় ঢেউগুলো বাঁধের বøকের ওপর আছড়ে পড়ছে। বাঁধের প্রতিরক্ষা বøকের সামনে আরও বেশি বøক দেওয়ার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT