জেলেদের সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি ॥ অপেক্ষার দিন শেষ প্রান্তে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, জুলাই ১৪, ২০২১
  • 89 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

এইচএম এরশাদ, ॥ সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধে সরকারের বিধিনিষেধ মেনে জেলেরা অপেক্ষায় ছিল- কখন ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে রওনা হবে। অপেক্ষার দিন প্রায় শেষের দিকে। তাই বোট মেরামত শেষে বর্তমানে তারা সাগরে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।জানা যায়, গত ২০ মে থেকে ২৫জুলাই পর্যন্ত সাগরে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিষেধ ছিল। এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলে পরিবারের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ করে। ইতোমধ্যে জেলেদের পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘবকল্পে সরকার জেলে পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসহায়তা প্রদান করেছে। তারা কোন রকমে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়টুকু পার করার চেষ্টা চালিয়েছে। শহরের আলীর জাঁহাল এলাকা এসএম পাড়ার জহির আহমদ সওদাগর নামে একজন বোট মালিক জানান, সরকারের নির্দেশনাটি আমাদের লাভের জন্য। দেশে মাছের চাহিদা পূরণের জন্য। ৬৫ দিনের বন্ধের নির্দেশ এই তো কয়েকদিন আগের বলে মনে হচ্ছে। কখন যে সময় ফুরিয়ে গেছে, তা টেরও পাওয়া যায়নি। প্রায় শেষের দিকে ৬৫ দিনের এই বিধিনিষেধ। বেশি মাছ পেতে প্রত্যাশী জেলেরা এখন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আগামী ২৫ জুলাই রাতে তারা সাগরে বোটসহ মাছ শিকারে যাবেন। ৬৫ দিন ধরে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে পারেনি। ফিশিং বোট, ট্রলার ও ছোট ছোট ইঞ্জিন নৌকা ডাঙ্গায় তুলে রেখেছিল মৎস্যজীবীরা। কেউ বোট মেরামত, কেউ আবার জালসহ উপকরণ সংগ্রহে ৫৪ দিন কাটিয়ে দিয়েছে। আর মাত্র ১১ দিন পর ২৫ জুলাই থেকে জেলেরা নেমে পড়বে বঙ্গোপসাগরে।কক্সবাজার ফিশারিঘাট, নুনিয়াছড়া, খুরুশকুল, মাঝেরঘাট, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, মগনামা, বাঁশখালী, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, শামলাপুর ও উখিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় দুই মাস ধরে ফিশিং বোট-ট্রলার উপকূলে তুলে রেখেছিল মালিকরা। আবার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর থেকে টেকনাফের সাবরাং রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য ইঞ্জিন নৌকা তুলে রাখা হয়েছিল। রবিবার ও সোমবার থেকে ওইসব নৌকা সাগরউপকূলে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ সামান্য গভীরে নোঙর করে রেখেছে বোটগুলো। ২৫ জুলাই রাতে সবাই মাছ শিকারে নামবে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

জানা যায়, কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ১৮ হাজার ফিশিং বোট রয়েছে। এসব ফিশিং বোটে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মাঝিমাল্লা। এসব জেলে পরিবার সরকারের দেয়া ত্রাণ সহায়তা ও বিভিন্ন পেশায় শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছে এ পর্যন্ত। জেলেদের নামে আসা বরাদ্দ থেকে চকরিয়া পৌরসভাসহ কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি ভাগ বসিয়েছে। লুটে নিয়েছে জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত চালের কিছু অংশ। জেলেরা বলেন, এই তো ৬৫ দিন প্রায় শেষ প্রান্তে। ঈদ-উল-আজহার ৩-৪ দিন পর আমরা সাগরে রওনা হব। সরকারের নির্দেশ মেনে চলায় আমরা গত বছর ২০২০ সালে যথেষ্ট পরিমাণ মাছ ধরতে পেরেছি। লাভ হয়েছে বহদ্দার তথা বোট মালিক এবং আমরা মাঝিমাল্লাদের।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT