জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতিকে মারধর

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৭, ২০২১
  • 503 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্স৭১
কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইনের নির্দেশে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী তামজীদ পাশার ওপর হামলা করা হয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে না জানিয়ে সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করায় ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত ১১টায় শহরের কলাতলী রোড়ের সুগন্ধা পয়েন্টে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারীরা কাজী তামজীদ পাশাকে অপহরণের চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহত কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তামজিদ পাশা বলেন, করোনাকালীন সময় থেকে নানা কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটে নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছেন। অনেক ইউনিয়নে নতুন করে কমিটিও গঠন করা হয়নি। এ অবস্থায় সংগঠনকে গতিশীল করতে জেলা ছাত্রলীগের সাথে পরামর্শ করে আমরা কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ঝিমিয়ে পড়া বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। কিন্তু সংগঠনের এ গতিশীলতা মেনে নিতে পারেন নি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন।
তিনি বলেন, কমিটি কেন গঠন করেছি তা নিয়ে একাধিক বার ফোন করে বিভিন্নভাবে আমাকে গালমন্দ করেছেন তিনি। করেছেন বকাঝকাও। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমার সাংগঠনিক অভিভাবক হওয়ায় এ বকাঝকাকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছি। কিন্তু বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা চালায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারীরা।

তিনি আরও বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির সাদ্দামের অনুসারী পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি সাদমান, আরিফ, মুন্না ও শিহাবসহ আরও বেশ কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেয়। ওই সময় হামলাকারীরা আমার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও মোবাইলসহ মূল্যবান পণ্য সামগ্রীও নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি কক্সবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
তামজিদ পাশা বলেন, হামলাকারিরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামকে না জানিয়ে কোন সাহসে কমিটি দিয়েছি জানতে চেয়েই আমার উপর হামলা করে। ‘তোকে আজ মেরে ফেলব’ বলেই আমাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে কাজী তামজীদ পাশার উপর হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও ফুটেছে দেখা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত একদল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে টেনে হেঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি কেন? আমি তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চেয়েছি এটা সত্য। কিন্তু তাকে হামলা করতে কাউকে আমি নির্দেশনা দেয়নি। এর পরেও তিনি যদি দাবি করেন আমি হামলা করতে বলেছি সেক্ষেত্রে আমার করার কিছুই নাই। তবে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, আমি কক্সবাজারে বাইরে আছি। তবে হামলার বিষয়টি শুনেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলার সাথে জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিতও করেছি। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ইউনিয়ন কমিটি করতে জেলা ছাত্রলীগকে জানানোর কোন সাংগঠনিক নিয়ম নেই। তামজিদের উপর যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এর অন্তরালে যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির উপরে হামলার বিষয়ে একটি এজহার পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT