জেলায় হোম কোয়ারেন্টোইনে ২৭৯ জন (রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪,কারাগারে ৪৭)

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০
  • 270 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২২৮ জন এছাড়া কারাগারে আছে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৭ বৌদ্ধ নাগরিক এদিকে টেকনাফ উপজেলার ২৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারত থেকে আসা ৪ জন রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। সব মিলিয়ে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২৭৯ জন। তবে এখনো জেলায় কোন করোনা রোগি আইসোলেশনে নেই বলে জানান সিভিল সার্জন। এদিকে করোনা রোগির চিকিৎসাএবং প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সর্বাত্বক প্রস্তুতি আছে বলে জানান স্বাস্থ্য বিভাগ এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইনানীর ৩ টি আবাসিক হোটেলকে সেবা কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনে সেবা কেন্দ্র আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন,এ পর্যন্ত জেলায় করোনা সম্ভবনায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২২৮ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগই প্রবাসী আর কয়েক জন তাদের আত্বীয় স্বজন। তিনি জানান আল্লাহর রহমতে এখনো কক্সবাজারে কোন করোনা রোগি আইসোলেশনে নেই। এবং কক্সবাজার থেকে কাউকে করোনা রোগি হিসাবে সনাক্ত করা হয়নি। তবে সরকারের নিদের্শনা মতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমাদের জেলা সদর হাসাপাতাল সহ রামু এবং চকরিয়াতে ১০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আগে এখানে কোন চিকিৎসা সরাঞ্জাম না থাকলেও এখন অনেক সরাঞ্জাম চলে এসেছে। বিশেষ করে চিকিৎসক এবং নার্সদের সুরক্ষার জন্য সরাঞ্জাম আনা হয়েছে। এদিকে কক্সবাজার কারাগারে ৪৭ জন বৌদ্ধ মিয়ানমার নাগরিককে কারাগারে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে আমাদের টেকনাফ সংবাদদাতা জানান,টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা আতংকে আছে রোহিঙ্গারা এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা ৪ রোহিঙ্গা কোয়ারান্টাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
( সোমবার) ২৩ মার্চ দুপুরে তাদের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবির থেকে তাদের কোয়ারান্টাইন এ নেওয়া হয়।
জানা যায়, সোমবার ভোর ৫ টার সময় খুলনা হয়ে সড়ক আশা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২৪ ই বøকে মোস্তাক আহম্মেদ নামক এক ব্যক্তির বাসায় তারা আসেন।বিষয়টি দুপুর ১২ টার দিকে জানাজানি হলে স্থানীয় মাঝি তাদের ক্যাম্প ইনচার্জ ( সিআইসি ) অফিসে নিয়ে আসে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি আব্দুল হান্নান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান গত রবিবার রাতে ভারতের হায়দারাবাদ থেকে বাংলাদেশে আগমন করে। বর্তমানে তাদেরকে লেদা ইউএনএইচসিআর এর মাধ্যমে আইওএম হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রেরন করা হয়েছে । তারা হলেন মোঃ ছাদেক (২৫), তার স্ত্রী হোসনে আরা (২৩), ছেলে পারভেজ ( ৩) ও মেয়ে সাজেদা (১০ মাস)।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের অবৈধ যাতায়াত টেকনাফকে কুলষিত করে ফেলছে। বিদেশ ফেরতদের কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে এরা রোহিঙ্গা।
তবে সচেতন মহলের দাবী এত কড়াকড়ির মধ্যে কিভাবে ভারত থেকে এই রোহিঙ্গারা আসলো সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। এদিকে উখিয়া উপজেলার ইনানী বীচের পাশে মেরিন ড্রাইভ ও এলজিইডি’র সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে লা বেলা রিসোর্ট, পেভেল স্টোন রিসোর্ট ও রয়েল স্টোন রিসোর্টকে জেলার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়ার ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান ।
তিনি জানান, এ ৩ টি রিসোর্ট রিকুইজিশন দিয়ে আপদকালীন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন হিসাবে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। গত ২২ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসন প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০০ বেডের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন তৈরী করতে জরুরী পত্র দেওয়ায় রিকুইজিশন করা লা বেলা রিসোর্ট, পেভেল স্টোন রিসোর্ট ও রয়েল স্টোন রিসোর্টকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে, এই তিনটি রিসোর্টে কমপক্ষে ১৫০ জনের কোয়ারান্টাইন বেড প্রস্তুত করা যাবে। তিনি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন । ৩ টি রিসোর্টে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন সেন্টার হিসাবে ইতিমধ্যে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।
এ ব্যপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন,করোনা ভাইরাস একটি প্রাণঘাতি ছোঁয়াছে ভাইরাস তাই যতটা সম্ভব মানুষকে ঘর থেকে কম বের হতে হবে। এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলে সরকারি নির্দেশনা মেনে জীবন যাপন করতে হবে। এবং ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ঘুয়ে নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সব কিছু করা হচ্ছে এখন প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT