জেলায় ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে অসংখ্য প্রতিষ্টান

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২০
  • 183 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

কক্স৭১
কক্সবাজারে ভ্যাট টেক্স আদায়ের বিশাল সম্ভবনা থাকলেও বেশির ভাগ খেত্রে ভ্যাট টেক্স ফাঁিক দেওয়ার প্রবণতা বেশি। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব অন্যদিকে ভ্যাট ফাঁিক দিয়ে অনেকে গড়ছে কালো টাকার পাহাড়। আবার অনেক খেত্রে যারা নিয়মিত ভ্যাট টেক্স দিচ্ছে তাদেরকেই বেশি চাপ দেওয়া হচ্ছে অন্যদিকে যারা বছরের পর বছর ভ্যাট টেক্স ফাঁিক দিয়ে আসছে তাদের ভ্যাটের আওতায় আনছে না কর্তৃপক্ষ। এতে নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করা ব্যবসায়িদের উপর চাপ বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়িরা। অন্যদিকে ভ্যাট আদায়ের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারাও নিজেরা বাড়তি সুবিধা নিয়ে নতুন ভ্যাটের আওতা বাড়াচ্ছে না এছাড়া একই পরিমান ব্যবসা করে অনেকে নূন্যতম আবার অনেক ব্যবসায়িকে বেশি ভ্যাট দিতে হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়িরা।
কক্সবাজার কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে প্রায় ২৫০ টির মত রেষ্টুরেন্ট আছে এছাড়া প্রায় ৪ শতাধিক হোটেল আছে তার মধ্যে প্রায়র ২‘র কাছাকাছি রেষ্টুরেন্ট ভ্যাট টেক্স দেয় এছাড়া আবাসিক হোটেলের মধ্যে অনেকে এখনো ভ্যাট টেক্সের আওতায় আসেনি। এছাড়া কলাতলী এলাকার বিশাল একটি অংশে পর্যটকদের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে আয় করছে বিপুল টাকা কিন্তু তারা এখনো ভ্যাট দেয়নে কেউ। এতে সরকারের রাজস্ব আয় মেটাতে আবাসিক হোটেল গুলোর উপরের চাপ বাড়ছে। অথচ ফ্ল্যাট মালিকরাও পর্যটকদের কাছ থেকে আয় করছে সমান টাকা। অথচ তাদের খরচ অনেক কম। এদিকে হোটেল জোন এলাকার রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ি শহিদুল ইসলাম বলেন,আমরা যারা নিয়মিত ভ্যাট টেক্স আদায় করি সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করে। প্রতি মাসে আমাদের ভ্যাট বাড়িয়ে দিতে চাপ দেয় অথচ আমাদের পাশে অনেক রেষ্টুরেন্ট আছে যারা আমাদের চেয়ে ভাল ব্যবসা করে কিন্তু আমাদের ৫ ভাগের ১ ভাগ ভ্যাটও দেয়না। আবার দেখা গেছে অনেক গ্রামে গঞ্জের রেষ্টুরেন্ট আছে ভাল ব্যবসা করে কিন্তু তারা ভ্যাট টেক্স কি জানেও না। কোন দিন ভ্যাট কর্মকর্তরা সেখানেও যাইনি। উনারা ভ্যাট আদায় করে শুধু হোটেল জোন এলাকায়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভ্যাট আদায়কারী কর্মকর্তা বলেন,এটা সত্যি কিছু প্রতিষ্টান আছে যারা দীর্ঘদিন ধরে কম ভ্যাট আদায় করছে যেখানে সরকারি হিসাব মতে তাদের অনেক বেশি ভ্যাট আসে। তারা অনেক সময় কিছু অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে ভ্যাট ফাঁকি দিতে চায়। কিন্তু বর্তমান সরকার ভ্যাট টেক্সের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কারন রাজস্ব না বাড়লে সরকার এত কিছু উন্নয়ন কিভাবে করবে ? তাই ভ্যাট আদায়ের ব্যাপারে সবাইকে আরো বেশি সচেতন হওয়া দরকার। এ ব্যপারে গতকাল সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক দপ্ততির কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,আমরা ৩ দিন ধরে কক্সবাজারের একটি তারকা মানের হোটেলে আছি আমরা সেখানে একটি চা খেলেও ভ্যাট যোগ করে দিচ্ছে কিন্তু বাস্তব সেই ভ্যাট সরকার পাচ্ছে কিনা এটা কেউ জানেনা। তিনি বলেন,আমার জানা মতে প্রত্যেক বিলের ১৫% ভ্যাট দেওয়ার কথা কিন্তু আদৌসেটা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করা দরকার। তবে হোটেল বা রেষ্টুরেন্টে কিন্তু আমাদের কাছ থেকে ঠিকই ভ্যাট হিসাবে টাকা আদায় করছে। এ ব্যপারে কক্সবাজার রেষ্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন,আমাদের সমিতির তালিকা ভুক্ত সবাই এখন নিয়মিত ভ্যাট আদায় করছে তবে এখনো কিছু রেষ্টুরেন্ট ভ্যাট আদায়ের বাইরে আছে আমরা তাদের তালিকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। তিনি বলেন,যারা নিয়মিত ভ্যাট আদায় করছে তাদের চাপ না দিয়ে ভ্যাটের নতুন আওতা বাড়াতে পারলে সবার জন্য উপকার হবে। এ ব্যপারে কাস্টমস কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা সুশান্ত পাল বলেন,আমাদের গত মাসে টার্গেট ছিল প্রায় ১৩ কোটি টাকা। চলতি মাসে তা আরো বাড়বে তাই ভ্যাট আদায়ের খেত্রে কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া যারা গোপনে ব্যবসা করছে অথচ ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে তাদের যদি কোন তালিকা থাকে আমাদের দিলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। একই সাথে নতুন করে ভ্যাট আদায়কারী বাড়াতে কাজ চলছে বলে ও জানান তিনি। একই সাথে রাষ্ট্রের উন্নয়নের স্বার্থে নিয়মিত ভ্যাট দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT