জেলায় দূর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান অব্যাহত থাকবে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯
  • 289 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারে চলমান দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। একই সাথে সাধারণ মানুষের অন্যতম আস্থার এই প্রতিষ্টানকে আরো বেশি দূর্ণীতি প্রতিরোধে ভুমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যদিকে দুদকের র্শীষ কর্মকর্তারা বলছে আগের চেয়ে দুদকের স্বক্ষমতা বেড়েছে,স্বাধীনতা এসেছে তাই দুদকের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সাথে প্রকৃত দূর্নীতি তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানান কর্মকর্তারা।গত ১ সপ্তাহর ব্যবধানে কক্সবাজারে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের কক্সবাজারে ২ টি সফল অভিযানে আটক হয়েছে মহেশখালী উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার ও ভারপ্রাপ্ত কাননগো আবদুর রহমান। মহেশখালী ভুমি অফিসের বেশ কয়েকজন ভোক্তভূগীর মতে ২৮ অক্টোবর দুদকের হাতে আটক হওয়া আবদুর রহমান প্রতিটি নামজারী মামলা থেকে কমপক্ষে ৬০০০ টাকা বাধ্যতামূলত নিতেন। যদি কোন ফাইলে সামান্য কাগজের সমস্যা থাকে তাহলে সেটা ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত চলে দিতে হতো। এছাড়া কোন তদন্ত থেকেশুরু করে যে কোন ধরনের কাজেও বিপুল টাকা ঘুষ হিসাবে আদায় করতেন তিনি। আর তার দূর্নীতিতে সমান সহযোগিতা করতেন ভুমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি স্থানীয়দের দাবী ২৮ অক্টোবর অত্যন্ত গোপনে খুবই সতর্কতার সাথে দুদক যে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে সেটা প্রশংসার দাবীদার। এভাবে আরো কিছু সরকারি দপ্তরে অভিযান চল্লে সরকারি কর্মকর্তারা সাবধান হয়ে যেত এবং তাদের সঠিক দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতো।
এছাড়া ৩০ অক্টোবর আটক হয় টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ ও সাবেক সচিব রিয়াজুল ইসলাম। এই অভিযান জনমনে বেশ শস্তি এসেছে বলে জানা গেছে কারন বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার থেকে শুরু করে মানবপাচার সহ অসংখ্য অভিযোগ আছে। এছাড়া তিনি একজন সরকারি তালিকা ভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ি।
এছাড়া দুদক কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক সহ শীর্ষ কর্মকর্তা,কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ,বিমানবন্ধর,কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সহ বেশ কিছু প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় মামলা করেছে সে মামলায় অনেক শীর্ষ কর্মকর্তারা জেল খাটছে। এছাড়া জেলা কারাগার সহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন আছে। এদিকে দুদকের চলমান কার্যক্রমে সন্তুষ প্রকাশ করে জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সুজন সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেণ, আগে দেখতাম দুদক শুধু কিছু নিয়মিত কার্যক্রমে সীমাবন্ধ থাকতো এখন দেখছি তারা বেশ সক্রিয় এতে নাগরিক হিসাবে আমাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। কারন সরকার নাগরিক দের জন্য উচ্চ বেতন ভাতা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করে সেবা করার জন্য। কিন্তু উনারা মানুষকে প্রজা আর উনারা রাজার ভুমিকায় অবতির্ণ হয়। এছাড়া রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতায় দূর্নীতির বিস্তার বেশি হচ্ছে তাই সব দিকে এখন নজর দিয়েছে দুদক আমরা আশা করি কক্সবাজারেআরো বেশ কয়েকটি সফল অভিযান হলে এখানে মানুষ কিছুটা হলেও নিস্তার পাবে।
আরেক শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর আহামদ বলেন,দূর্ণীতি বটবৃক্ষ অনেক শক্তিশালী এবং বিস্তৃত তাই একদিনে বা একটি প্রতিষ্টান দিয়ে সেটা বন্ধ করা যাবে বলে আমার মনে হয়না। সে জন্য নাগরিকদের সচেতন হতে হবে,আর প্রথমে রাষ্টের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। তবে বর্তমানে কক্সবাজারে দুদকের কয়েকটি অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে সস্তি এসেছে,মানুষ এরকম আরো কিছু অভিযান দেখতে চায়। বিশেষ করে ভুমি সংক্রান্ত অফিস গুলোতে বেশি নগদ টাকার লেনদেন হয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যপারে কক্সবাজার দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন,সব খেত্রে দুদকের স্বক্ষমতা বেড়েছে,দুদক বর্তমানে সততা সংঘ,র্দূনীতি প্রতিরোধ কমিটি করে মানুষকে সচেতন করেছে। সব চেয়ে বড় কথা কোন সাধারণ মানুষ আগে দুদকের কোন কর্মর্কতার সাথে কথা বলতে পারতো না এখন তথ্য প্রযুক্তির কারনে অনেক কিছু সহজ হয়ে গেছে মানুষ অবাধে কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে। সে কারনে দুদক মানুষের আস্থায় আসছে বলে জানান তিনি।
দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এড,জাহাঙ্গির আলম বলেন,দীর্ঘ বছর পর দুদক আইন ২০০৭ সংশোধন করা হয়েছে। দুদক এখন নিজেরা এজাহার করতে পারে আর ফাঁদ মামলাতো আগে থেকে আছেই। তবে একটা বিষয় আমি বলতে চায়। ২০ জুন ২০১৯ যেই প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে সেটা আরো ব্যাপক ভাবে প্রচার করলে মানুষ আরো বেশি জানতে পারতো এবং মানুষের উপকার হতো।
এ ব্যপারে দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ পরিচালক মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন,আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য আমরা পালন করছি। তবে মানুষ সঠিক তথ্য দিয়ে অভিযোগ করলে আরো বেশি ভাল হতো।
এ ব্যপারে দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক সচিব ) মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেণ,আগের চেয়ে দুদকের অনেক স্বক্ষমতা বেড়েছে। দুদক স্বাধীনভাবে সব কাজ করতে পারছে। শুধু কক্সবাজার নয় সারা দেশে আমাদের দূর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।কোন সঠিক তথ্য থাকলে দরকার হলে কক্সবাজারে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT