জেলায় কুরবানীর পশুর চাহিদা ৯৫ হাজার : মজুদ আছে ১ লাখ ৫৫০

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
  • 288 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩১ জুলাই অথবা ১ আগষ্ট পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাই সারা দেশের ন্যায় ইতি মধ্যে কক্সবাজারে শুরু হয়ে গেছে কুরবানীর পশুর হিসাব নিকাশ। তবে দেশে করোনা সংকটের কারনে পশু ক্রেতা বিক্রেতা সবার মাঝেচিন্তার ছাপ ফেলে দিয়েছে। ইতি মধ্যে অনেকে ব্যাক্তি উদ্দোগে গড়ে তুলা খামারে গরু মোটাতাজা করন অনেকটা শেষ পর্যায়ে তারা এখন শেষ মুহুর্তে গরুকে দেখতে সুন্দর করার চেস্টা করছে। তবে সুসংবাদ দিয়েছে জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর তাদের দাবী মতে এবারে কক্সবাজার জেলা কুরবানীর পশুর চাহিদা ৯৫ হাজার ১৮৮ টি। যা গত বছরে চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কম। আর জেলায় স্থানীয় ভাবে মজুদ আছে ১ লাখ ৫৫০ টি পশু তাই কুরবানীর পশুর সংকট হবে না জানান এই দপ্তরের কর্মকর্তারা।
কক্সবাজার জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম জানান,দেশে চলমান করোনা সংকটের মধ্যেও ইতি মধ্যে কুরবানীর পশু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্ম পরিকল্পনা চলছে। কক্সবাজারের জেলার জন্য চলতি বছর কুরবানীর পশুর চাহিদা(গরু,ছাগল.ভেড়া.মহিষ) ইত্যাদি ৯৫ হাজার ১৮৮ টি । তবে আমরা আনন্দের সাথে জানাতে চায় কক্সবাজারে স্থানীয় পর্যায়ে ১ লাখ ৫৫০ টি পশু মজুদ আছে। এটা যারা ২ টির বেশি গরু পালন করেছে এমন খামীদের হিসাবে এছাড়া শুধু মাত্র ১টি গরু মোটাতাজা করেছে কোরবানীর বাজারে বিক্রির জন্য এরকম গরু কমপক্ষে ১৫ হাজার হবে। হয়তো আরো বেশি হতে পারে তবে একটা কথা আমরা দাবী নিয়ে বলতে পারি কুরবানীর জন্য পশুর সংকট হবে না। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারে চলতি বছর ৫৬ টি কুরবানীর পশুর বাজার বসবে। পশুর রোগ বালাই দেখতে প্রতিটি উপজেলা কমপক্ষে ২ টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। এদিকে কুরবানীরঈদকে সামনে রেখে জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে অনেকে গরু মোটাতাজা করেছে। তবে করোনা সংকটের করানে মানুষের অর্থনৈতিক সঙ্গতি কমে যাওয়া গরু বিক্রি হবে কিনা সে চিন্তায় পড়েছে খামারীরা। আলাপ কালে পিএমখালী ঘাটকুলিয়াপাড়ার শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন বলেণ,আমার নিজের ঘরে ২ টি গরু মোটাতাজা করেছি,আসা করছি এবারের কুরবানীর ঈদ বাজারে সেগুলো কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকার উপরে প্রতিটি বিক্রি করার চিন্তা আছে। তবে এখন সমস্যা হচ্ছে গরুগুলো বেশি পাহারা দিতে হয় কারন প্রতি বছর কুরবানীর সময় আসলে গরু চুরের দল বেড়ে যায়। আর একবার গরু চুরি হলে সেটা আর খুঁেজ পাওয়া যায় না। পিএমখালী ডিকপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম বলেণ,আমার নিজের ঘরে ৩ টি গরু লালন পালন করেছি এছাড়া সম্প্রতী টেকনাফ থেকে আরো ৩ টি কিনেছি সেগুলো এখন ভাল করে পরিচর্যা করছি। আসা করছি কুরবানীর ঈদের বাজারে বিক্রি করে কিছু টাকা বাড়তি আয় করতে পারব। তবে বর্তমানে সাধারণ মানুষের মুখে শুনা যাচ্ছে গরুর দাম পাওয়া কঠিন হবে কারন মানুষের হাতে টাকা নেই। তাছাড়া এখন সব কিছুর দাম বাড়তি আগে গুরুর খাদ্য,ঔষধ,চিকিৎসা সব কিছু কমমূল্যে হত কিন্ত এখন সব কিছুর দাম দ্বিগুন বা ৩ গুন হয়ে গেছে তাই গরু পালন করা খুব মুশকিল। এছাড়া আগে গ্রামে গঞ্জে ঘাষ বা বিলে গুরুর খাদ্য থাকত, এখন সে গুলো আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে ফলে গরু পালন করতে খরচ বেশি পড়ে। চকরিয়া শাহারবিল এলাকার মৌলানা আবদুর রহমান বলেণ,আমার ঘরে ৩ টি গরু আছে যে গুলো গত বছর থেকে আমি কুরবানীর জন্য পরিচর্যা করে আসছিলাম। কিন্তু সম্প্রতী করোনা পরিস্থিতির কারনে আদৌ গরু গুলো বিক্রি করতে পারবো কিনা কারন কোন মানুষের মুখে শুনা যাচ্ছে না ভাল করে কোরবানী করতে পারবে।
এদিকে আসন্ন কুরবানীর ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যাপক আজিম উদ্দিন বলেণ,ঈদ মানে আনন্দ বিশেষ করে কুরবানীর ঈদের মূল আকর্ষন গরু কিনা নিয়ে। তবে এখন করোনা পরিস্থিতির কারনে রোজার ঈদেও কোন আনন্দ করতে পারেনি পরিবারের কেউ আর এবারও মনে হয়না আগের মত আনন্দ করতে পারবে। করান সবার ভেরতে আতংক বিরাজ করছে। আর ৪ মাস কর্মহীন হয়ে মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
টেকপাড়ার ওসমান গনি পুতু বলেন,আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্টানে চাকরী করতাম। আমার এক ভাই করোন পজিটিভ হওয়াতে অফিস থেকে ৩ মাস আগে আমাকে অফিসে না পেতে বলে দিয়েছে এখন চুডান্ত ভাবে চাকরী চলে গেছে। ঠিকমত ৩ বেলা খেতে পারছিনা কোরবানী করবো কিভাবে। একই এলাকার শাহেদ বলেণ,আমি একটি পরিবহণ কোম্পানীতে কাউন্টারে চাকরী করি ৭ মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না। সে খাওয়া দাওয়া নিয়ে কষ্টে আছি কোরবানী কিভাবে করবো আগে কমপক্ষে ২ ভাগ কোরবানী দিতাম।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ইতি মধ্যে অনলাইনে জেলা প্রশাসনের উদ্দ্যেগে গরু বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে যেটা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কুরবানীর পশুর বাজার যেন রাস্তার পাশে না বসে সে জন্য সব ইউএনওকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবং আইনশৃংখলা বাহিনিকে এ বিষয়ে নজরদারী রাখার জন্য বলা হয়েছে। আর করোনা সংক্রামন এড়াতে বাজার গুলোতে স্বাস্থ্য বিধি কঠোর ভাবে পালন করার ব্যবস্থা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT