শিরোনাম :
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে জেলা আনসারও ভিডিপি’র বর্ণাঢ্য পতাকা র‌্যালী অনুষ্ঠিত ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াতে ইসলামপুরে তরুনীর আত্মহত্যা ঈদগাঁও রাবার ড্রাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নিবার্চন সম্পন্ন সড়ক দূর্ঘটনায় মহেশখালী থানার পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু গণপরিবহনে হাফ ভাড়া চান চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরাও কক্সবাজারে বিমান উড্ডয়নের সময় ধাক্কাতে ২ টি গরুর মৃত্যু : বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা চকরিয়ায় ব্যালট পেপার বিনষ্টের অভিযোগে মামলা: প্রিজাইডিং অফিসার কারাগারে খুরুশকুল এলাকায় অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-আটক ১ কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদী এখন প্রভাবশালীর ব্যাক্তিগত জমি বদরখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর ভাগ্নেকে পিটিয়ে হত্যা

জেলার ৫ হাজার শিক্ষকের মানবেতর জীবন : খবর রাখেনি কেউ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২০
  • 347 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম. বেদারুল আলম
শহরের নামকরা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক জসিম উদ্দিন। প্রাতিষ্ঠানিক বেতনেই চাকুরি করেন। সাথে সকাল বিকাল ২টি টিউশনি করে কালুর দোকানে ৪ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় ছেলে মেয়ে স্ত্রী নিয়েই সংসার। গত এপ্রিল থেকে করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেতন টিউশনি সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবন চলছে খেয়ে না খেয়ে। বাড়িওয়ালা প্রথম মাসে ভাড়া মাফ করে দিলেও এখন তাগাদা দিচ্ছেন বাসা ছেড়ে দিতে। তার জীবনে নেমে এসছে ঘোর অন্ধকার। এখন জীবন বাছানোই দায় হয়ে পড়েছে শিক্ষক পরিবারের।
শহরের বাহারছড়ার নাম করা কেজি স্কুলের শিক্ষক বেলাল উদ্দিন। বাবা মা স্ত্রী বোন নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস। করোনার পর থেকে স্কুল থাকায় বন্ধ ও বন্ধ। বাধ্য হয়ে চলে গেছেন গ্রামে। বাড়ি ভাড়া থেকে রেহায় পেলেও পেটে তো দিতে হবে। একমাত্র উর্পাজনক্ষম হওয়ায় বাড়িতে চলছে নিরব কান্না। অভাবের তাড়নায় শখের মোটর সাইকেল বিক্রি করে চলেছেন গেল ২ মাস। এখন টাকা শেষ । সংসারে জগড়া শুরু।
করোনায় এভাবে জীবন পার করছে জেলার সাড়ে ৩শ কিন্ডার গার্টেন স্কুল, বেসরকারি কলেজ, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৫ হাজার শিক্ষক পরিবার। গত ১৭ মার্চ করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন। ফলে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অনামিষা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগন এবং এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন ভাতা পেলেও বন্ধ হয়ে যায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন। উক্ত শিক্ষকদের বেশিরভাই সামান্য প্রাতিষ্ঠানিক বেতনের পাশাপাশি টিউশনি করে পরিবার পরিজনের ব্যয় নির্বাহ করত। বাসা বাড়িতে গিয়ে টিউশনিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার ৫ হাজার শিক্ষকের জীবন চলছে অর্ধাহারে –অনাহারে।তাদের জন্য নেই কোন সরকারি প্রনোদনা, নেই কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা। অনেক বেসরকারি শিক্ষকদের দেখা যাচ্ছে শহরে টমটম চালাতে। পেটের দায়ে অনেকে আবার পেশা পরির্বতন করে বিভিন্ন দোকানে কাজ করছে।
কক্সবাজারের শিক্ষাবীদ আইসিটির মাস্টার ট্রেইনার কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের বৃহৎ একটি অংশ দেশের শিক্ষার অগ্রগতির অন্যতম হাতিয়ার। তাদের অভুক্ত রেখে শিক্ষার অগ্রগতি সম্ভব নয়। সরকারের উচিত এ করুনাকালিন সময়ে তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানো।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে নন এমপিও স্কুল ,মাদ্রাসা, এবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্খ কর্মচারিদের তালিকা পাঠানোর জন্য আমাদের জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে । আমরা মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারিদের তালিকা এখনো পাঠাইনি ,কাজ শেষহলে পাঠিয়ে দেব তবে স্কুলেরটা পাঠিয়ে দেব। আশা করি সরকার বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা, কেজি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য হয়ত কিছু সহায়তা দিবেন। তবে কখন এ সহযোগিতা দেওয়া হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।
বেসরকারি শিক্ষক বিষেশকরে কেজি স্কুল, ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারিদের জন্য করোনাকালিন এ সময়ে সরকারি কোন বরাদ্দ কিংবা প্রণোদনার ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন- এ পর্যন্ত সরকারি তরফ থেকে তাদের জন্য কোন ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কোন নিদের্শনা ও আসেনি। যা বরাদ্দ এসেছে কুলি, দৈনিক শ্রমিক, অসহায় ভবঘুরে যারা রয়েছে তাদের জন্য। সরকারি নির্দেশনা আসলে কিংবা বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জেলার উক্ত শিক্ষকগণের জন্য কিছু একটা করার কথা জানান জেলা প্রশাসক।
জেলার ৮ উপজেলার, ৮টি পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ৩শ কেজি স্কুল রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সংখ্যক এবতেদায়ি মাদ্রাসা, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ। জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান অনস্বীকার্য। কি›তু করোনা মহামারির এ কঠিন সময়ে তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। তাদের জীবন চলছে চরম অনিশ্চয়তায়। সন্তানের মুখে, পরিবার পরিজনের মুখে দুবেলা আহার জোগানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য বিশেষ করে জীবন গঠনে , জাতী গঠনে যারা জীবনের সোনালী অধ্যায়টুকু অতিবাহিত করে শেষ হয়ে যাচ্ছেন তাদের পাশে দাড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য। জেলার ৫ সহ¯্রাধিক শিক্ষক –কর্মচারির শংকিত জীবনে পাশে থাকার জন্য, তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভুক্ত দারিদ্রকষাঘাতে জর্জরিত এসব শিক্ষকগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT