জমি নিয়ে বিরোধে ইমামকে ফাঁসাতে শিশু ধর্ষণঃ ৩ জন শ্রীঘরে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১, ২০১৯
  • 57 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

কক্সঃ৭১ রিপোর্ট
কক্সবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ এক মসজিদের ইমামকে ফাঁসাতে আপন ভাগ্নিকে ধর্ষণ করেছেন মামা। এমনকি মামিকে ভিকটিমের মা সাজিয়ে ধর্ষণ মামলা করা হয়। এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য শেষমেশ উদ্ঘাটন করেছেন সদর মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। পুলিশের তদন্তে ধর্ষণ ঘটনায় মামা, মামির সম্পৃক্ততা থাকায় অবশেষে অভিযুক্তদের শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো কক্সবাজার জুড়ে চলছে তোলপাড়। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া গ্রামের মৃত কবির আহমদের ছেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভোজপুর হাজিরখিল হাজী আবদুল ওয়াহাব জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. ফরিদুল আলমের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে নুরুন্নবীর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও রয়েছে। এরই জেরে ইমাম ফরিদকে ফাঁসাতে শেষ পর্যন্ত নিজের ভাগ্নিকে ধর্ষণ করে ইমাম ফরিদের বিরুদ্ধেই উল্টো ধর্ষণের মামলা করেন নুরুন্নবী। তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশুর সঙ্গে কথা বলে প্রথমেই সন্দেহ হয়। বিষয়টি আমি থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভহিত করি। মামলায় কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায় খোরশেদ আলমের বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনাস্থল দেখানো হলেও তদন্তে সেখানে ওই রকম কোনো ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। এক পর্যায়ে জানতে পারি মামলার বাদী ভিকটিমের প্রকৃত মা নয়, বরং মামি। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ১৬ জুলাই রাতে ধর্ষণের শিকার শিশু, তার মা, ভাই-বোন, মামা-মামিসহ কয়েকজন প্রতিবেশীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরদিন ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার মাকে আদালতে জবানবন্দির জন্য পাঠিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এদিকে এই ঘটনায় ১৯ জুলাই ভিকটিমের প্রকৃত মা বাদী হয়ে, নিজের ভাই নুরুন্নবী, ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা বেগম ও ইউপি সদস্য আলমগীরকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ পরদিন ওই মামলার প্রধান আসামি নুরুন্নবী, তার স্ত্রী আমিনা বেগম ও পেকুয়া উপজেলার মগনামার ইউপি সদস্য আলমগীরকে গ্রেফতার করে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, জমির বিরোধে একজন মসজিদের ইমামকে ফাঁসাতে এত বড় জঘন্য ঘটনা কেউ ঘটাতে পারে ভাবতেও পারিনি। তদন্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT