চামড়ার খবর রাখতে চায় না কেউ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, জুলাই ১৯, ২০২১
  • 98 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

মাহাবুবুর রহমান.
আসছে ২১ জুলাই কোরবানীর ঈদ। যেহেতু কোরবানীর প্রধান উপকরণ হচ্ছে গরু তাই এবারে প্রায় ১ লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করেছে চামড়া ব্যবসায়িরা। তবে স্থানীয় ভাবে চামড়া কিনলেও তা ঢাকা চট্টগ্রামে বিক্রি করতে না পারায় টানা কয়েক বছরের ধারাবাহিক লোকসানের ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের চামড়া ব্যবসায়িরা। এছাড়া দেশে করোনা সংকটের কারনে সব কিছুতেই স্থবিরতা তাই এখন আর চামড়া নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। আর চামড়া কিনে এখন বিপাকে পড়তে হয় বলে জানান স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়িদের। এতে আসন্ন কোরবানীর মৌসুমে বেশি টাকা পুঁিজ দিয়ে চামড়া কিনতে আগ্রহী নয় ব্যাবসায়িরা। তাদের দাবী বাংলাদেশের জন্য একটি খুবই সম্ভবনাময় শিল্পখাত আস্তে আস্তে সম্পর্ণ ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে এদিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার। আর কক্সবাজারে আগে প্রায় অর্ধশত পাইকারী চামড়ার আড়ত থাকলেও বর্তমানে তা সর্বোচ্চ ১০ জনের মধ্যে সিমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে
কক্সবাজার শহরের উপজেলা গেইটস্থ চামড়ার আড়তে গিয়ে বর্তমানে চামড়া ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলে ব্যবসায়ি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে চামড়া ব্যবসার অবস্থা খুবই সূচনীয়, একটু বড় চামড়া ২ বছর আগে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় আমরা কিনতাম গত বছর সে চামড়া কিনছি ২০০ টাকা দিয়ে। আর বর্তমানে চামড়া কিনার কোন চিন্তা নেই। আর চামড়া কিনে এখানে লবন দিয়ে দীর্ঘ দিন রেখে আমাদের দোকান ভাড়া সহ সব মিলিয়ে যে খরচ হয় সেটা উঠাতে পারি না। চলতি বছর আমি ২ দফা ঢাকাতে চামড়া নিয়ে গিয়ে বিপুল টাকা লোকসান দিয়েছি। তিনি বলেন,আমার মতে আসন্ন কোরবানীর মৌসুমে চামড়ার বাজার দর খুব কম হবে। আগে কোরাবানীর ঈদের আগে ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে চামড়া ব্যবসায়িরা উল্টো টাকা দিয়ে আমাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহকরতো। কিন্তু এখন আমরা ফোন দিলে কেউ রিসিভও করেনা। কেউ চামড়া নিতে চায় না।
আর ঢাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়িরা চামড়া কিনে সেটাতো তারা ফেলে দিচ্ছেনা,তারা ঠিকই বিপুল টাকা দিয়ে বিদেশীদের কাছে বিক্রি করছে মূলত ট্যানারী মালিক সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি আমরা।
আলাপ কালে জানারঘোনা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ি বদিউল আলম বলেন, চামড়া ব্যবসার এখন সর্বোচ্চ দূর্দিন চলছে। আগে কোরবানীর সময় অনেক স্থানীয় মানুষজন সখের বসত চামড়ার ব্যবসার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করতো। কিন্তু এখন কেও এই পেশায় আসতে চাইছে না। এখন বাজারে ২০০ টাকার উপরে কোন চামড়া নেই। আর সেটা ঢাকাতে আমরা বিক্রি করি ৩০০ টাকায়। আগে চামড়া কিনে এখানে রাখার সময় পেতাম না ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে আমাদের ফোন করতো চামড়া দেওযার জন্য এখন আমরা ফোন করলে ধরে না কেউ চামড়া কিনতে চায় না। আসলে জানি না কি কারনে দেশের এরকম একটি শক্তিশালী শিল্প ধ্বংসের শেষ প্রান্তে চলে আসলো। আমরা এখান থেকে যে চামড়া কিনি দীর্ঘ দিন লবন দিয়ে গাড়ী ভাড়া দিয়ে ঢাকাতে নিয়ে যায় সেখানে ঢাকার আড়ৎদার তাও নিতে চায় না। সে জন্য চামড়া ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি । শহরের পাহাড়তলী এলাকার জসিম উদ্দিন বলেণ,২ বছর আগে আমরা কয়েক বন্ধু মিলে চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কিনেছি। পরে বিক্রি করতে গিয়ে দেখা গেছে আমাদের সেই দাম দিচ্ছেনা। যেহেতু আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ি আমাদের চামড়া ধরে রাখার কোন ব্যবস্থা নেই তাই লুকসান দিয়ে বিক্রি করেছি সেই থেকে আর কোন দিন চামড়ার ব্যবসা করেনি। আমরা আগে দেখেছি বাড়ি থেকে প্রতিটি চামড়া ১ হাজার টাকা দিয়েও কিনেছে, কিন্তু এখন ফ্রিতে দিলেও নিতে চায়না। কিন্তু অপর দিকে চমড়াজাত পন্যের দাম কিন্তু দিন দিন বাড়ছেই।
ঈদগাঁও এলাকার ব্যবসায়ি রজিম আলম বলেন আমাদের আগে চামড়া নিতে বাজারে বাজারে ঘুরতে হতো এখন চামড়া নিয়ে আমাদের কাছে আসে তবুও আমরা কিনতে পারি না। কারন কিনে কি করবো সেটা আমরা বিক্রি করতে পারি না। আগে যে চামড়া ৮০০ টাকা দিয়ে কিনতাম এখন সেটা কিনছি ১০০ টাকা দিয়ে। সেটা আমরা পরিচর্যা করে চট্টগ্রামে বিক্রি করে চামড়া প্রতি ১০০ টাকাও লাভ করতে পারি না। তাহলে কেন ব্যবসা করবো। সামনে কোরবানীর ঈদ আসছে জানি না কি হয়। এ ব্যপারে চট্টগ্রাম চামড়া ব্যবাসয়ি সমিতির সহ সভাপতি ছালাউদ্দিন জানান সরকারের ভেতরে একটি অংশ পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশে সয়ং সম্পূর্ন শিল্প মাধ্যম চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আর জানি না কেন ট্যানারী মালিকদের সাথে এরকম আচরন করা হচ্ছে যেন তারা কোন অপরাধ করেছে এদেশে ব্যবসা করে। কোথাও বর্জ্য ফেলতে দিচ্ছে না, কোন কেমিক্যাল বিক্রি করছে না। আর চড়া ভ্যাট টেক্সতো আছেই তাই অনেকে এই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া লকডাউনে সব ধরনের ব্যবসায়িদের প্রণোদনা দেওয়া হলেও চামড়া ব্যবসায়িদের কোন ধরনের সহায়তা করা হয়নি। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে প্রায় দেখি ব্যবসায়িদের জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে কিন্তু আমরা সেটা দেখিনা।
ঢাকার চমড়ার আড়ৎদার কাজী রুমী বলেন,মুলত বিদেশী ক্রেতা না থাকায় চমড়া ব্যবসায় ধব নেমেছে। আগে আমাদের কাছে প্রচুর বিদেশী ক্রেতা আসতো এখন তারা আসেনা এমনকি আমরা মাল দিতে চাইলেও নেয় না। এছাড়া কেমিক্যালের দাম অনেক বেশি তাই খরচে পোষাতে পারি না। তাই চামড়া ব্যবসায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া করোনার প্রভাবতো আছেই।
ঢাকার আরেক আড়ৎদার ব্যবসায়ি সরওয়ার উদ্দিন বলেন, মুলত বাইরের ক্রেতা না থাকায় চামড়া ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সরকারের উচিত হবে বিদেশে বাংলাদেশী চামড়ার প্রচারনা করা এবং ব্যবসায়িদের কিছুটা প্রনোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT