চাঁদা নিয়ে রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান দোকান, যানযট সহ চরম জনদূর্ভোগ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২০
  • 164 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

ওমর ফারুক হিরু
কক্সবাজার শহরে বাজার ডাকের নামে রাস্তার উভর ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। দৈনিক চাঁদা দিয়েই রাস্তার দুই পাশ দখল করে আছে ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা। এতে সৃষ্ট যানযট পথচারী ও চালক সহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজনকে পড়তে হচ্ছে চরম দূর্ভোগে। চাঁদা তুলতে আসা লোকজনের দাপটে কোটঠাসা হয়ে আছেন স্থায়ী ব্যবসায়ীরা। তারা প্রভাব দেখিয়ে বৈধ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের সামনে’ই অবৈধভাবে রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া চাঁদাবাজের একদলের দেখা দেখি অন্য দল সক্রিয় হচ্ছে। এতে যে কোন মুহুত্বে আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশংকা সচেতন মহলের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের পানবাজার সড়ক, ভোলা বাবুর প্রেট্রোলপাম্প, কৃষি অফিস সড়ক, এন্ড্রাসন রোড, বদর মোকাম সড়ক, চাউল বাজার, বার্মিজ মার্কেট, টেকপাড়া, বড় বাজার সহ বেশি কিছু সড়কে চাঁদা দিয়ে বসানো হচ্ছে অন্তত দুই শতাধিক ভ্রাম্যমান দোকান।
খবর নিয়ে জানা যায়, এসব ভ্রাম্যমান দোকান থেকে তারা ৩০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান দোকান ও মানুষের ধরণের উপর ভিত্তি করে এই চাঁদা’র টাকার পরিমাণ আরো বেশি হয়ে থাকে। এমনও অভিযোগ আছে স্থানীয় না হয়ে বহিরাগত বা অন্য জেলার লোক হলে তাদেরকে বাড়তি টাকা দিতে হয়। আর চাঁদা দেওয়া মানেই অবৈধভাবে রাস্তার উপর বসে বিক্রি করাটাই বৈধতার লাইসেন্স। এমনটাই জানা যায় ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে।
প্রায় ৪০ জন ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৈনিক নিয়ম করে চাঁদা তুলতে আসেন শহরের পেশকার পাড়ার মোহাম্মদ সাইফুল, মো: কাদের, আবু আহম্মেদ এবং আবু সাদ্দাম।
বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, উল্লেখিত ব্যক্তিরা বড়বাজারের সবজি বাজার ডাক নিয়েছে। তারা সবজি বাজার থেকে থেকে হাসিল আদায় করার পাশাপাশি অবৈধভাবে রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে হাসিলের নামে চাঁদাবাজী করছে।
পানবাজার সড়কের ভ্রাম্যমান কাপড় বিক্রেতা সাতকানিয়ার বাসিন্দা ওয়াহিদুর রহমান জানান, বাজার ডাক নিয়েছে বওে মো: সাইফুল নামে এক যুবক তার কাছ থেকে দৈনিক ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়। একইভাবে ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্স এর সম্মুখে বসা ১৫-২০ টাক দোকান থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয় মো: সাইফুল।
ভ্রাম্যমান কলা বিক্রেতা সেলিম জানান, তিনি শহরের টেকপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাকে ৩০ টাকার বেশি দিতে হয়না। কিন্তু তার পাশের ভ্রাম্যমান ফল বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন তার বাড়ি অন্য জেলায় হওয়াতে ৭০ টাকা করে দিতে হয়। প্রতিবাদ করার কোন সুযোগ নেই। প্রতিবাদ করলে চাঁদা নিতে আসা লোকজন খুব রেগে যায় এমনকি মারতেও আসে।
মোহাম্মদ এনাম নামে ভ্রাম্যমান কাপড় বিক্রেতা জানান, আবু আহম্মদ তার কাছ থেকে দৈনিক এসে চাঁদা নিয়ে যায়। ভ্রাম্যমান বিক্রেতা মোহাম্মদ তালেব, হোসেন আহম্মদ, কলার দোকানী আব্দুল্লাহ্, কাপড়ের দোকানী শাহেদ, সোহেল, ঘড়ির দোকানদার নাছির উদ্দিন, কাপড়ের দোকানী বিমল কান্তি সহ প্রায় দুই শতাধিক ভ্রাম্যমান বিক্রেতার কাছ থেকে ৩০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হাসিলের নামে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য অনুযায়ী উল্লেখিত ব্যক্তিরা বড় বাজারের সবজি বাজার ডাক নিয়েছে বলে আওয়াজ রয়েছে। যদিও অনেক বলছেন সবজি বাজার ইজারা নেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আবার অনেকে বলছে পুনরায় বাজার ডাক নিয়েছে। এছাড়া বড় বাজারের সবজি বিক্রেতাদেরও এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইৎারার নামে বাড়তি চাঁদা আদায়ের নানা অভিযোগ রয়েছে।
তাই আদৌ সবজি বাজার ডাক নিয়েছে কিনা? আর বাজার ডাক নিলেই যে চাঁদার বিনিময়ে রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান দোকান বসানোটা কতটুকু বৈধ। এসব প্রসঙ্গে জানতে তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করতে চাইলে অন্যদের সাথে কথা বলা না গেলেও মোহাম্মদ সাইফুলের সাথে কথা হয়। তিনি ভ্রাম্যমান দোকানদার থেকে হাসিল নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। কিন্তু বিষয়টা কতটুকু বৈধ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে অবগত নন। এসব বিষয় জানেন আবু সাদ্দাম। যিনি সবজি বাজার ডাক নিয়েছেন। মোহাম্মদ সাইফুল শুধু অর্ডার পালন করেন। তিনি এ ব্যাপারে আবু সাদ্দামের সাথে কথা বলার পরার্মশ দেন। এ ব্যাপারে জানতে আবু সাদ্দামকে ফোন করলে তিনি রং নাম্বার বলে মোবাইল রেখে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT