চকরিয়ায় তরছঘাট পয়েন্টে একটি সেতুর অভাবে ৪৫ হাজার মানুষের দূর্ভোগ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯
  • 128 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মো. সাইফুল ইসলাম খোকন, চকরিয়া.
সেতু না থাকায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী পূর্ব বড় ভেওলা এলাকার অন্তত ৪০ গ্রামের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বছরের ছয় মাস কাঠের সাঁকো ও অবশিষ্ট সময় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী পার হতে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষত বর্ষায় মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি পেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব ভেওলা ইউনিয়ন, বিএমচর ও সাহারবিলের অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষকে নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথ তরছঘাটা-পূর্ব বড় ভেওলা সংযোগকারী অস্থায়ী কাঠের সেতুটি। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী সাহারবিল ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের লোকজন এ কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করে। পূর্ব ভেওলা ইউনিয়নের মাবিয়াবাপের পাড়া, আনিসপাড়া, সেকান্দর পাড়া, নোয়াপাড়া, বুড়ির পাড়া, খরি বাপের পাড়া, কালাগাজী সিকদার পাড়া, ফজল রহমান সিকদার পাড়া, অলি বাপের সিকদার পাড়া, শাহাবখান পাড়া ও পূর্ব নয়াপাড়া গ্রামের লোকজন এ পথে নিয়মিত যাতায়াত করে। ওইসব এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে উপজেলা সদর চিরিংগা বাজারে যাতায়াতে ওই কাঠের সাঁকোটিই একমাত্র ভরসা। বর্তমানে ওইসব গ্রামের মানুষ উল্টোদিকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে বাটাখালী সেতু পার হয়ে উপজেলা সদরে আসতে হয়।
ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ সেবক রফিকুল কাদের কালামনুসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশের খবরকে জানান, একটি সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত কৃষকরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করেও পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের জন্য সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকরাই তাদের উৎপাদিত সবজি ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করতে পারত যদি একটি পাকা সেতু তৈরি করা হতো।
এলাকার সেকান্দর পাড়া গ্রামের আলহাজ্ব ফজলুল কাদের জানান, যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে উপজেলা সদর থেকে ওই এলাকার মানুষ অনেকটা বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ লোকজনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ফলে হাসপাতালে নেয়ার পথে অনেক সময় রোগী বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে এলাকায় মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ কৃষকরা সুফল পেত।
মাতামুহুরী নদীর তরছঘাটা পয়েন্টে ব্রীজ নির্মাণের ব্যাপারে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)র সংসদ জাফর আলম বিএ (অনার্স) এম এ জানান, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের স্থানীয় বেশ কিছু লোকজন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে। আশা করি মাতামুহুরী নদীর তরছঘাটা পয়েন্টে খুব শিগগিরই একটি ব্রীজ নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই পয়েন্টে সেতু নির্মানের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চেষ্টা করা হচ্ছে।##

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT