শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিমান উড্ডয়নের সময় ধাক্কাতে ২ টি গরুর মৃত্যু : বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা চকরিয়ায় ব্যালট পেপার বিনষ্টের অভিযোগে মামলা: প্রিজাইডিং অফিসার কারাগারে খুরুশকুল এলাকায় অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-আটক ১ কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদী এখন প্রভাবশালীর ব্যাক্তিগত জমি বদরখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নৌকা প্রার্থীর ভাগ্নেকে পিটিয়ে হত্যা ঈদগাঁওতে শীতমৌসুমে গরম কাপড় কিনতে ক্রেতাদের ভীড় চকরিয়ায় ১০ ইউপিতে আ‘লীগ ৫ স্বতন্ত্র ৫ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা, মহেশখালীর মেয়রসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা পিএমখালীতে ইয়াবা সহ আটক হোসেনের সিন্ডিকেট এখনো অধরা নাফ নদ থেকে ১ কেজি আইসসহ পাচারকারী আটক

চকরিয়ায় অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত,  নিহত ১

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯
  • 236 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মো. সাইফুল ইসলাম খোকন, চকরিয়া :
ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে হয়েছে। বৃষ্টির পানি অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড় ধসে একব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত এখনো থাকায় বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গত চারদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি ও উজানের পানিতে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে ঢুবে রয়েছে। শতশত বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে কালভার্ট, ব্রিজ ও অধিকাংশ রাস্তাঘাট বন্যার পানির নিচে রয়েছে। সড়ক গুলো পানিতে ঢুবে থাকায় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বৃষ্টির অব্যাহত থাকায় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী জানান, বন্যার পানি ও ভারি বর্ষণে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে ২নং ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়ার সুইচ গেটটিও। তিনি আরও বলেন, ৫নং ওয়ার্ডের একাধিক স্থানে বন্যার পানি থাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরকে জলবদ্ধতা মুক্ত রাখতে সবধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি সরানোর জন্য লোকবল কাজ করছেন।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক জানিয়েছেন, বন্যার পানির প্রবল স্রােতে তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়ন মাতামুহুরী নদীর নিকটতম হওয়ায় দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড়ধরণের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, ভারি বর্ষণের ফলে তাঁর ইউনিয়নের বেশিরভাগ নীচু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চকরিয়া চিংড়ি জোনখ্যাত চরণদ্বীপ ও সওদাগরঘোনায় হাজার হাজার একর চিংড়িঘেরে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ঘের মালিক ও মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা রয়েছে।
কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানান, মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি বন্যা নেমে আসার পর বিভিন্ন শাখাখাল ও স্লুইচ গেইট দিয়ে তার ইউনিয়নে লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। ইউনিয়নের অধিকাংশ নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, তার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, পহরচাঁদা ও মইচ্ছনাকাটার লোকালয়ে ঢুকছে ঢলের পানি। মইছন্নাকাটা পাহাড় ধসে মোহাম্মদ হারুন (৪২) নামের এক ব্যবসায়ি মৃত্যু হয়েছে। তার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বেশিরভাগ এলাকায় পানি নিস্কাশনের গতিপথ বন্ধ, আবার বিভিন্ন স্থানে পুরানো আমলের সরু ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে সহজে বৃষ্টির পানি চলাচল করতে পারছেনা। এ অবস্থার কারনে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ। অপরদিকে বর্ষণের পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবাহ বেড়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী জনপদের বেড়িঁবাধের ভাঙ্গাঅংশ দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে জনগনের দুর্ভোগ আরো বেড়ে চলছে। এদিকে বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জনসাধারণ পানিবন্দি হবার পাশাপাশি বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ভারিবর্ষণে উপজেলার বেশিরভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ও স্লুইচ গেইট সমুহ পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব এলাকা বন্যা ঝুকিতে আছে, জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে মনিটরিংসেল খোলা হয়েছে। ##

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT