চকরিয়ার হাফেজ বশিরের বিরুদ্ধে এতিমের টাকা আত্মসাৎ ও এতিমখানা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৯
  • 314 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলার কাকারা তাজুল উলুম মাদ্রাসার কারী শিক্ষক ও পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম দিগরপানখালী গনি সিকদার পাড়া এলাকায় অবস্থিত শাহ জব্বারিয়া এতিমখানার সভাপতি হাফেজ বশির আহমদের বিরুদ্ধে এতিমের টাকা আত্মসাৎ ও এতিমখানার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার জালিয়তি করে একই ওয়ার্ডে রাজধানী পাড়া গ্রামে নিজস্ব বসত ভিটায় নতুন ভাবে রহমানিয়া হাফেজিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ এনেছেন এলাকাবাসী। একই ব্যক্তি দু’টি প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে কি ভাবে চাকুরীও দায়িত্ব পালন করেন তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম দিগরপানখালী গনি সিকদার পাড়া এলাকায় ০১-০১-১৯৯৫ সালে এলাকার জনগনের আর্থিক সহায়তায় শাহ জব্বারিয়া এতিমখানা নামক একটি প্রতিষ্ঠান মসজিদের নিজস্ব জায়গায় গড়ে উঠে। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার কক্স- ২৯৪/০৫।
এ এতিমখানাটি ২৩-১১-২০০৫ সালে সরকারী ভাবে ক্যাপিটেশনের তালিকা ভুক্ত হয়ে ২০১৭ সালে এসে বর্তমানে ২২ জন এতিমের নামে প্রথম কিস্তি জানুয়ারী- জুন/১৯ইং ১লাখ ৩২ হাজার টাকা করে এতিমদের খাবারের জন্য বরাদ্দ পেয়ে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই এতিমখানার একজন শিক্ষককে মাসে মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতন প্রদান করে বাকি টাকা গুলো বিভিন্ন ভুঁয়া বিল ভাউচার তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করে আসছে তিনি।
এলাকাবাসী জানান, ওই ২২ জন এতিম বিভিন্ন বাড়িতে লজিং থেকে খাওয়া দাওয়া করে আসছে। অথচ এদের পেছনে সমাজসেবা অধিদপ্তর ঢাকা আগারগাঁও অফিস থেকে খাওয়া বাবদ বরাদ্দ দেয়া এক টাকাও খরচ হচ্ছেনা এতিমদের জন্য।
এদিকে হাফেজ বশির গনি সিকদার পাড়া শাহ জাব্বারিয়া এতিমখানার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার কক্স- ২৯৪/০৫ জালিয়তি করে নিজস্ব বসত ভিটায় নতুন ভাবে রহমানিয়া হাফেজিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা ও এতিম খানা প্রতিষ্ঠার জন্য পাঁয়তারা ও ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
নতুন ভাবে রহমানিয়া হাফেজিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠার জন্য অতি গোপনে চকরিয়া ও কক্সবাজার সমাজ সেবা অফিসকে ম্যানেজ করে ফাইলটি অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে ফাইলটি ঢাকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে পৌঁছার পর এলাকাবাসী জানতে পেরে ওই অফিসে অভিযোগ করার পর শাহ জব্বারিয়া এতিমখানা নামটি বহাল রেখে একটি তদন্ত টিম গঠন করার জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে হাফেজ বশির আহমদ দাবী করেন, শাহ জব্বরিয়া এতিমখানাটি যে খানে অবস্থিত সে জমির মালিক হচ্ছে মসজিদ এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হচ্ছেন তিনি। ১৯১৭ সাল থেকে ২২ জন এতিমের নামে ক্যাপিটেশন ভুক্ত হয়। এর পূর্বে ২০০৭ সালে মাত্র ২ জন এতিম ক্যাপিটেশন ভুক্তছিল। পারবর্তীতে ক্রমগত বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে এসে ২২ জনে দাঁড়ায়। যেহেতু শাহ জব্বারিয়া এতিমখানাটি অনুমোদন নেয়ার সময় যে জায়গা এতিম খানার নামে রেজিষ্ট্রেরি করে দেয়া হয়েছিল সে জায়গার অবস্থান হচ্ছে বর্তমান প্রতিষ্ঠিত রহমানিয়া হাফেজিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ও জায়গার মালিক তিনি। তার বিরুদ্ধে আনিত অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে, তিনি আরো দাবী করেন, বর্তমান ২টি প্রতিষ্ঠানই তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ##

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT