ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে লন্ড ভন্ড সেন্ট মার্টিনের পর্যটক জেটি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, মে ২৭, ২০২১
  • 159 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ মনির,টেকনাফ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিনের একমাত্র পর্যটক জেটি লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। আজ বুধবার সকালে উত্তাল সাগরের ঢেউ আঘাত হানলে জেটির অধিকাংশ পন্টুন, রেলিং ও সিঁড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের পানির উত্তাল ঢেউ জেটিতে আঘাত করতে থাকে। এতে জেটির পন্টুনে ফাটল দেখা যায়। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দৈনিক ৫ থেকে ১২ হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই জেটি দিয়ে জাহাজে ওঠানামা করতেন। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নূর আহমেদ এ
তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন,ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দ্বীপের দক্ষিণ সৈকতে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও দ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু গাছপালা, হোটেলের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গেছে। দ্বীপের চারদিকে লোনাপানি প্রবেশ করায় মিষ্টি পানির সংকট হতে পারে।’

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার বাসিন্দা ও দ্বীপে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সুবিধার্থে ২০০২-০৩ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত¡াবধানে এই জেটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। জেটি দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা এলজিইডির।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে জেটির পার্কিং পয়েন্ট স¤পূর্ণ বিধ্বস্ত ও দুটি গাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন থেকেই জেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রতি বছর জেলা পরিষদ এই জেটি ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করলেও কোনো ধরনের মেরামতকাজে হাত দেয়নি। তবে গত বছর কিছু টাকা ব্যয় করে দুই পাশে দুটি লোহার পন্টুন স্থাপন করে। এই জেটি ব্যবহার করে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে ১০টি জাহাজ পর্যটক পরিবহন করে আসছিল।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন,জেটিটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছিল। অবশেষে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। জেটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ভেঙ্গে যাওয়া পর্যটক জেটি নির্মাণ না করার কথা বলছেন পরিবেশবিদরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন, এর পরিবেশ ও জীববৈচির্ত্য রক্ষায় এখানে পর্যটক সীমিত করনের কথা বলে আসছি আমরা দীর্ঘদিন থেকে। তাই সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচির্ত্য রক্ষায় এখানে জেটি পুননির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহŸান জানাচ্ছি।

এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, সেন্টমার্টিনে ডিজেডিটি এলজিইডি নির্মাণ করার পর জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তার করেন। এরপর থেকে সে যেটির রক্ষণাবেক্ষণসহ সবকিছু জেলা পরিষদের তত্ত¡াবধানেই চলছে। সুতরাং পুনরায় জেটি নির্মাণ করা বা সংস্কার করার বিষয়টি জেলা পরিষদই নির্ধারণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT