ঘরবাড়ী ডুবে যাবার প্রাক্কালেও ঘুষ গ্রহণ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, জুন ১৭, ২০২০
  • 368 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

এইচএম এরশাদ:
টানা বর্ষণে ঘরবাড়ি ডুবে যাচ্ছে দেখেও মোটা অঙ্কের ঘুষ হাতছাড়া করলেন না কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা। সকাল ৬টা থেকে টানা ৮ ঘন্টা মুষল ধারে বৃষ্টিতে কক্সবাজার পৌরসভার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন বসতগৃহ তলিয়ে যায়। কতিপয় লোভী ব্যক্তি মাছ চাষ করার উদ্দেশে আলীর জাহালস্থ বাঁকখালী নদী লাগোয়া সামরাই খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কালভার্টটি বন্ধ করে দেয়। এতে পানি নিস্কাশন হতে না পেরে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাবার উপক্রম হয়। বুধবার সকালে এসএমপাড়াবাসি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে, তৎক্ষনাৎ জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন সদর উপজেলা ইউএনও’কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ইউএনও বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরজমিনে টিম পাঠিয়ে বন্ধ কালভার্টটি খুলে দিতে অনুরোধ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামি তার অফিসে দায়িত্বরত তারেক নামে একজন এসও’কে ঘটনাস্থলে পাঠান।
এদিকে বুধবার দুপুরে সরেজমিনে এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে এসও তারেক অবৈধ বাঁধটি কেটে দিতে চাইলে অবৈধ দখলদাররা প্রথমে অনুরোধ ও পরে মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করায় তিনি পানি চলাচলে নামমাত্র দুইটি পাইপ বসিয়ে অবৈধ বাঁধ না কেটে চলে যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় অধিবাসিরা। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য নয় দাবী করে এসও তারেক বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির লোকজন টানা বৃষ্টিতে বন্যায় রূপ নেয়া পানিতে রাতভর ঘরবাড়ি পাহারা দিয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা সমাজ সেবক ইবনে হাসান রিফাত বলেন, সামরাইখালে যেহারে পানি ভর্তি হয়ে রয়েছে, এসব পানি বাঁকখালী নদীতে নিষ্কাশন হওয়া দরকার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও যেই দুইটি পাইপ লাগিয়ে পানি নিষ্কাশনের ধারণা করেছেন, তাতে পানি নিষ্কাশন হবে মাত্র শতকরা ২০ভাগ। কালভার্টটি দেখভাল করার কোন ধরণের কেয়ার টেকার না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মচারীর যোগশাজসে সামরাই খালটি দখলে নিয়ে অবৈধভাবে মাছের ঘের বানানো হয়েছে।
এদিকে এসএমপাড়া, বড়–য়াপাড়া, রোমালিয়ারছড়া, বার্মিজ স্কুল সড়ক, চাউল বাজার সড়ক, টেকপাড়া চৌমুহনী, প্রাইমারী স্কুল সড়ক, হাঙ্গরপাড়া, উপজেলা গেট, জনতা সড়কে বৃষ্টিতেই কোমর পরিমাণ পানি চলাচল করেছে। বৃষ্টির পানি আর নালা-নর্দমার নোংরা পানিতে চলাচল করতে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে। এতে যানবাহন তো দূরের কথা, স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে না সাধারণ জনগণও। দীর্ঘদিন যাবত জনপ্রতিনিধিগণ আশার বাণী শুনালেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো দিক। দীর্ঘ অনেক বছর ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমাগুলো। তাই অল্প বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাচ্ছে প্রত্যেকটি সড়কই। শুধু তাই নয় নালা-নর্দমা ভরে যাওয়ায় মানুষের ঘরেও ডুকে যাচ্ছে নোংরা পানি। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাতে হচ্ছে পৌরবাসিকে। ওইসব সমস্যা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই অত্র ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সকল জনসাধারণ।
এদিকে মুষলধারে বৃষ্টিপাতে দক্ষিন চট্টলার বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের হাসপাতাল সড়ক, মাছ বাজার সড়ক, চাউল বাজার সড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বৃষ্টির পানি জমে জন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়ে পড়েছে। বাজারে আগত লোকজন চলাচলে নিদারুন কষ্ট পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ডিসি সড়কের যত্রতত্র স্থানে পানি জমে কাঁদাজলের সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহনসহ লোকজন যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছে। মাছ বাজারের ময়লা পানি ও দুগন্ধে বিষিয়ে উঠছে পরিবেশ। ঈদগাঁও বাজারস্থ ভূমি অফিস দেয়াল ঘেষে নির্মিত ড্রেনটি পাশ্ববর্তী দোকানদাররা ময়লা আবজর্না ফেলে ভরাট করে রাখার ফলে বৃষ্টির পানি যাতায়াত করতে না পারায় বাজারের নানা উপসড়কে আটকে রয়েছে। জালালাবাদ-ফরাজীপাড়া সড়কের রাবার ড্রাম পয়েন্টে রেল লাইনের সড়কে কাঁদাযুক্ত মাটি পার হয়ে দৈনিক হাজার হাজার লোকজন আসা যাওয়া করছেন বাজারে। সে সঙ্গে হরেক রকম রোগীরা আসছেন অতি কষ্টের বিনিময়ে। অথচ সড়কটি আপাতত সংস্কারে নেই কারও মাথা ব্যাথা। ঈদগাঁও মাইজ পাড়ার ভরাখালের উপর দোকানপাট, ঘরবাড়ী, ঘোয়ালঘর কিংবা চাষাবাদ করার ফলে পানি সুষ্টভাবে চলাচল করতে না পারায় খালের পাশ্বর্বতী বাড়ীঘরে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করার পথে। বাড়ীর উঠানে পানিতে টই-টুম্বুর বললেই চলে। এ খালটিতে যদি পানি চলা চলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। #

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT