খুরুশকুলের ইয়াবা ডন ফিরোজ জামিনে বের হয়ে দুই দিনের মাথায় কিনেছে ফিশিং বোট

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১
  • 641 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
দুই লাখ ইয়াবা সহ আটক হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় জামিনে বের হয়ে মাত্র ২ দিনের মাথায় ২০ লাখ টাকা দিয়ে ফিশিং বোট কিনেছে খুরুশকুল কুলিয়া পাড়ার ইয়াবা ডন ফিরোজ। বর্তমানে সেই বোট দিয়ে সাগর পথে আবারো জমিয়ে তুলেছে ইয়াবা ব্যবসা। একই সাথে তার সহযোগি সম্প্রতী জামিয়ে বের হওয়া মোস্তাক ও তার ভাই মানিকও নতুন করে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেছে। আবার তাদের দেখে উৎসাহিত হচ্ছে নতুন নতুন ইয়াবা ব্যবসায়িরা। তাই দ্রæত প্রশাসনের নজরদারী সহ ইয়াবা নির্মূলে অভিযান জোরদার করার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।
খুরুশকুল কুলিয়াপাড়া এলাকায় সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ ফেব্রæয়ারী কক্সবাজার পৌর এলাকার মাঝিরঘাট এলাকা থেকে ১ কোটি ইয়াবা লুট করে নেয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তা প্রচার হলে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় ২৪ ফেব্রæয়ারী খুরুশকুল কুলিয়াপাড়া থেকে সেই লুট হওয়া ইয়াবা থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা সহ আটক হয় কুলিয়াপাড়া এলাকার ফজল করিমের ছেলে ফিরোজ এবং একই এলাকার মৃত সোলতান মাঝির ছেলে মোস্তাক। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে তারা ইয়াবা নিয়ে জেলে গেলেও তাদের সেই ইয়াবা সিন্ডিকেট ছিল বেশ সক্রিয়। পরে লুট হওয়ার বিপুল ইয়াবা বিক্রি করে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় জামিনে বেরিয়ে আসে ফিরোজ এবং মোস্তাক। জানা গেছে ফিরোজ জেল থেকে বের হয়ে মাত্র দুই দিনের মাথায় শহরের ৬নং এলাকার আরেক ইয়াবা ব্যবসায়ি সেলিম প্রকাম আলুহাইয়া সেলিম এবং কুলিয়াপাড়ার ওসমানের ছেলে শেখ আবদুল্লাহ লালুর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফিশিং বোট কিনেছে। জানা গেছে ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ৬০ হাজার ইয়াবা সহ শহরের নুনিয়াছড়া থেকে একটি চালান আটক হলে সেখানে বহনকারীরা আটক হলেও সেই ইয়াবা এবং ফিশিং বোট সেলিমের ছিল। বর্তমানেও সেলিম,ওসমান,ফিরোজ,মোস্তাক,মানিকরা সিন্ডিকেট করে সাগর পথে ইয়াবা পাচারের জন্য নিজেদের বেশ কয়েকটি বোট আছে। জানা গেছে মোস্তাক এবং ফিরোজের পরিবার আগে তেমন কোন অর্থবিত্ত ছিল না বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা করে তারা বেশ সফল। আর ২ লাখ ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েও বীর দর্পে ফিরে এসে আবার কোটি কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করায় এখন নতুন করে অনেকে ইয়াবা ব্যবসায় জড়াচ্ছে। এর মধ্যে মোস্তাকের ভাই মানিক বর্তমানে খুচরা ব্যবসা করে অনেক নতুন ছেলেদের বিপদগামী করছে। তাই দ্রæত এবং চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে বড় বড় চালান নিয়ে আটক হয়েও তাদের কোন শাস্তি না হওয়ায় এলাকা অনেক তরুন যুবকরা অপরাধের দিকে ঝুকছে। এ ব্যপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার এখনে কারো কিছু করার নেই। আর জামিন পাওয়ার অধিকার যে কোন নাগরিকের আছে। তবে জামিনে বের হওয়া চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়িদের বিষয়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগনকেও সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশ কে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT