খাস কালেকশনের নামে হরিলুট,ঈদগাঁও বাজার সিন্ডিকেটের দখলে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৯
  • 165 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে
?

 

কক্সবাজার রিপোর্ট
ঈদগাঁও বাজারের খাস কালেকশন (ইজারা) নিয়ে চলছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে পেশী শক্তির মহড়া। এই মহড়া থেকে যেকোন মুর্হতেই গড়তে পারে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। এমন আশংকা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বাজারের ব্যবসায়িরা। তবে উপজেলা প্রশাসন নিজেদের লোকবল দিয়ে খাস কালেকশন সংগ্রহ না করে সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমত মাসিকহারে খাস কালেকশনের জন্য ইজারাদার নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে একদিকে ইজারাদার অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের পকেট ভারি হলেও সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে নামমাত্র রাজস্ব।
সূত্রমতে, ২০১৬/২০১৭ অর্থ বছরে ঈদগাঁও বাজারের সর্বশেষ ইজারা হয়। ওই সময় ৭২ লাখ টাকা বাজারের ইজারা হলেও ভ্যাট, আইটি ২০%সহ সরকারের কোষাগারে জমা হয় প্রায় এক কোটি টাকা। বিগত তিন বছরে এই এক কোটি টাকার সংখ্যা আর দেখেনি সরকার। কোটিকে অর্ধেকে নামিয়ে বাকী টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁও বাজারের ইজারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কারন সব শ্রণীর মানুষের নিত্য দিনের পণ্যের চাহিদা পূরণে কোন প্রকার ঘাটতি থাকেনা এই বাজারে। যেকারনে ব্যবসায়িদের সর্বমহলে এই বাজারের ইজারার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার কৌশল তৈরি হয় রাতারাতি। একপর্যায়ে সিন্ডিকেট করে ২০১৬/১৭ সালের ইজারাদার জৈনক রফিক বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। ওই মামলা নিদৃষ্ট সময়ে শেষ হলেও পরে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে আরমান নামে জৈনক আরেক ব্যক্তি পূণরায় উচ্চ আদালতে মামলা করেন। পরে শুরু হয় নানা আইনি জটিলতা। এই জটিলতার ফাঁদে পেলে গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ভাগবাটোয়া করে খাচ্ছে স্থানীয় রিয়াদ ও ছৈয়দ করিম সিন্ডিকেট এবং রমজান সিন্ডিকেট।
সূত্র জানায়, এই দুই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ত্ব দিচ্ছেন ঈদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্যানেল মেয়র সোহেল জাহান চৌধুরী। মূলত এই সোহেল জাহানেই নানা অপকর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে এই বাজার থেকে প্রতি বছর খাস কালেকশনের লক্ষ লক্ষ টাকা নিজের পকেটে ডুকাচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক সিন্ডিকেট তৈরি করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাজার এলাকায় এক অপ্রীতিক পরিবেশের জন্ম দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই বিষয়ে সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, ছৈয়দ করিম, রিয়াদ ও রমজানুল আলম তারা প্রতি বছর পৃথকভাবে বাজার ইজারা নিয়ে থাকে। এই বছর দুই গ্রুপ মিলে এক সাথে নিয়েছে। কিন্তু তাদের সাথে আমার কোন সর্ম্পক নেই।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার আওতাধীন ঈদগাঁও বাজারের খাস কালেকশনের জন্য ১৭ এপ্রিল ঈদগাঁও ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জেসমিন আকতার স্বাক্ষরিত ৬টি কার্ড ইস্যু করা হয়। উক্ত কার্ড গুলি নিয়ে বাজারের খাস কালেকশন করে পূর্বের উপ-ইজারাদার বদিউল আলম আকাশ ও জামাল পারভেজ গং। কিন্তু ২ দিন যেতে না যেতই পূণরায় একই অফিস থেকে একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরে খাস কালেকশনের জন্য নতুনভাবে কার্ড ইস্যু করেন। এই কার্ডের দায়িত্ব দেয়া হয় এক সময়ের জামাত নেতা বর্তমানে ভুমি অফিসের সব চেয়ে বড় দালাল মৌলবী শামসুদ্দিন, ছৈয়দ করিম, রিয়াদ সিন্ডিকেটকে। পরে বিষয়টি নিয়ে লেগে যায় নানা অপ্রীতিকর ঘটনার।

পূর্বের উপ-ইজারাদার বদিউল আলম আকাশ জানান, পহেলা বৈশাখের আগে বাজারের খাস কালেকশনের দায়িত্ব ছৈয়দ করিম ও রিয়াদ সিন্ডিকেট পেয়েছে দাবী করে তারা আমাকে উপভাড়া দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে আমার (আকাশ) কাছ থেকে ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয়। পরে রজমান সিন্ডিকেট পেয়েছে দাবী করে ৫ এপ্রিল তারা নেয় নগদে ১৪ লাখ টাকা। তবে তারা টাকা নেয়ার পর ১৭ এপ্রিল খাস কালেকশনের জন্য কার্ডও দেয়। কিন্তু কার্ড দেয়ার তিন দিনের মাথায় নিজেরা পূণরায় ভূমি অফিসের কার্ড নিয়ে কালেকশনে নামে। এছাড়া সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জেসমিন আকতার কার্ড ইস্যু করার সময় ১৪ এপ্রিল নিজের জন্য ২০ হাজার টাকা নেয়।

এদিকে উপরোক্ত ধান্ধাবাজির ব্যাপারে জানার জন্য সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জেসমিন আকতারকে ফোন করা হলে বাজারের খাস কালেকশনের কথা তুলতেই ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেনি।

স্থানীয়দের মতে, মূলত সরকারি রাজস্ব লুটপাটের জন্য প্রশাসনের যোগসাজসে বাজার কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটটি বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। আর প্রশাসন তাদের ফাঁদে পেলে মাঝখান থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে নিচ্ছে। সরকারি ইজারা না হওয়ার শর্তেও কেন পুরাতন ইজারাদারদের মাসিকহারে খাস কালেকশনের জন্য ইজারা দেয়া হচ্ছে এটিই জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের প্রতেষ্ট প্রমানও মিলেছে কক্সবাজার সদর এসিল্যান্ড এর বক্তব্যে। তিনি যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না। যার অফিস থেকে ইজারা হয় সেই অফিসের কর্তা এসিল্যান্ড শাহরিয়র মোক্তার বলেন, এগুলো সব ইউনিয়ন ভূমি অফিস দেখে। বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য আমার(এসিল্যান্ড) কাছে নেই। আপনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৪২৩ বাংলায় ইজারা হয়েছিল ৭২ লাখ। ভ্যাট আইটি মিলে সরকারের কোষাগারে জমা হয় প্রায় এক কোটি টাকা। ১৪২৪ বাংলায় লক্ষমাত্রা ধরা হয় ৬৯ লাখ ৫১ হাজার। ১৪২৫ বাংলায় নির্ধারণ হয় ৭১ লাখ ৪৪ হাজার। কিন্তু সরকারি ইজারার লক্ষমাত্র ধরা হলেও ২৪ ও ২৫ সনে কত টাকা খাস কালেকশন হয়েছে তার হিসেব নেই উপজেলা কর্মকর্তার কাছে। এছাড়া ঈদগাঁও ভূমি অফিসের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জেসমিন আকতারের মাধ্যমে এবং নানা হাতে উপজেলা ও এসিল্যান্ড অফিস প্রতিমাসে মোটা অংকের উৎকোচ আদায়ের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এটি সত্য নয়। কারন বাজারের ব্যাপারে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোন সুবিধা নিয়েছি তা কেউ বলতে পারবেনা। তবে হরদম সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জেসমিন আকতার খাস কালেকশনের ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে এই বিষয়ে তার জানা নেই বলে দাবী করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT