খরুলিয়ার ইয়াবা ডনরা অধরা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • 49 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সঃ৭১ রিপোর্ট

সারা অঙ্গে ব্যাথা-ঔষধ দেব কোথা। সদরের ঝিলংজার খরুলিয়ার অবস্থা বর্তমানে তেমন। সন্ধ্যার পর পুরো খরুলিয়া যেন অঘোষিত মাদকের হাট। প্রশাসনের মাদক নিমূর্লের প্রচেষ্টা ২ বছর আগে থেকেই। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। মাদক বহুগুনে বেড়েছে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাচঁতে অনেক পরিবার যারা একটু অবস্থাসম্পন্ন তারা অনেক আগেই এলাকা ছেড়ে শহরে সন্তানদের নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে। খরুলিয়ার মাদক নিমূর্লে জনপ্রতিনিধিরা জুমার নামাজে মসজিদে মসজিদে ক্যাম্পেন করে সচেতন করার চেষ্টা চালালেও তার প্রভাব পড়েনি নিয়ন্ত্রনে। নিয়ন্ত্রনের চেষ্টাকারি কয়েকজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের গোপনে আশ্রয় দানের অভিযোগ ও রয়েছে। বেশ কয়েকদিন যাবৎ খরুলিয়ায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির কারনে কয়েক বছরে ২৫টির মত মামলায় ৬০/৭০ জন আসামি করা হয়েছে যারা জেলে যায় এবং বের হয়। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। প্রশাসন অনেক প্রচেষ্টার পর ও ইয়াবা নিমূর্লে সফল হচ্ছেনা কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কারনে। কয়েকজন ঝিলংজা ইউনিয়নের মেম্বার রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার কারনে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় এবং ১২/১৪ জন পরিচিত ইয়াবা কারবারির সাথে উক্ত মেম্বারদের দহরম সর্ম্পক থাকার ফলে সন্দেহ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে পুরো খরুলিয়ার ২টি ওয়ার্ডে রয়েছে শতাধিক ছোট বড় ইয়াবা ব্যবসায়ি। স্থানীয় সচেতনমহল, শিক্ষক, রাজনীতিবীদ, চেয়ারম্যান, ইমামসহ রাজনীতিবীদদের নিয়ে একটি ইয়াবা ব্যবসায়িদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তালিকায় ৩০ জনের ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায়ির নাম রয়েছে যারা অনেকে পূর্ব থেকে মাদক মামলায় জেল খেটেছে। অনেকে সম্প্রতি প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে এলাকা থেকে পালিয়েছে। তালিকার প্রথমে থাকা নুরুল ইসলাম নুরু ২১ জুলাই রাতে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছে যা প্রশাসন তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছেনা।
উক্ত তালিকায় নাম থাকা চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়িরা হলো- আটক ফকির মোহাম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম , তার ভাই ঈমাম শরীফ ও জেলে থাকা জুহুর আলম, খামার পাড়ার খুইল্ল্যা মিয়ার পুত্র নবাব মিয়া, সিকদারপাড়ার মোস্তফার ছেলে ইরহান, কোনারপাড়ার জাফর আলমের ছেলে জিয়াউর রহমান, খুইল্ল্যা মিয়ার ছেলে মনছুর মিয়া ও সিরাজ মিয়া, খরুলিয়া বাজারপাড়ার ইউসুফ আলীর ৩ ছেলে শওকত আলী, সাদ্দাম, ও রাজা মিয়া, ডেইংগা পাড়ার মৃত মোস্তফার ছেলে সাইফুল ইসলাম, পূর্ব খরুলিয়ার নাপিতপাড়ার শামসুল আলমের পুত্র আরমান। এছাড়া খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ি হিাসবে যাদের নাম রয়েছে তারা হলো-বাজারপাড়ার ইউসুফ আলীর ২ ছেলে বর্তমানে মাদক মামলায় জেলে থাকা লিয়াকত ও দেলোয়ার, ঘাটপাড়ার গফুর মাঝির ছেলে মোস্তাক, কোনারপাড়ার বদিউজ্জামানের ছেলে শহর মুল্লুক, নয়াপাড়ার আদর মিয়া, কোনারপাড়ার মৃত জাফরের ছেলে মনিয়া, নয়াপাড়ার আবু তাহের, আবদুল খালেকের ছেলে বাদশাহ মিয়া, খামারপাড়ার সিরাজ মিয়া, মুন্সির বিলের মুছা আলীর ছেলে জুবাইর, কবির হোসেনের ছেলে জাহেদ, সুতারচরের নওয়াজ শরীফ, চরপাড়ার আবুল কাসেমের ছেরে জসিম, নয়াপাড়ার মোনাফের ছেলে সালাম মিয়া, সিকদার পাড়ার জাফর সাদেক, ও তার ভাই রাশেদ, নাপিত পাড়ার মৃত শামসুল আলমের স্ত্রী মিনুআরা বেগম, পূর্ব মোক্তার কুলের রশিদ আহমদ ধলু, আবদুল্লাহ প্রকাশ বাদুল্লাহ অন্যতম।
ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন- আমরা পাড়া-মহল্লা এবং মসজিদে ব্যাপক ইয়াবা বিরোধি সমাবেশ করেছি কিন্তু কাজ হচ্ছেনা। খরুলিয়ার মাদকের বিস্তার প্রকট হওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছি । তিনি ইয়াবা নির্মূলে স্থানীয় জনসাধারনকে সচেতন হয়ে সার্বিক সহযোগিতার আহবান জানান।
এদিকে ইয়াবার জন্য ছিনতাই এবং সামাজিক অবক্ষয়রোধে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের জরুরি সভায় ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে রেজোলেশন করে লিখিত আবেদন করেছে জনপ্রতিনিধিরা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ২ জন মেম্বার। এ ৪ জন হলো আরমান, শওকত আলী পুতু, রাজা মিয়া এবং সাদ্দাম হোসেন। তারা ৪ জনই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি এবং খরুলিয়ার পরিচিত মাদক কারবারি বলে জানান উক্ত ইউপি সদস্যগণ।
খরুলিয়ার ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরীফ উদ্দিন জানান, আমরা ২ বছর যাবৎ মাদক ব্যবসায়িদের সাথে যুদ্ধ করে চলেছি। আমাদের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিষদ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি ইয়াবার মত মাদক নিমূর্লে।
উক্ত তালিকাভুক্ত কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ির সাথে খরুলিয়া ও মুক্তারকুলের ২ জন মেম্বারের সখ্যতা আছে এবং তাদের ছত্র ছায়ায় মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে এবং ২ মেম্বার মাসোহারা নিচ্ছে এমন অভিযোগ মাঠে রয়েছে। ব্যবসায়িদের সাথে সখ্যতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের বিষয়ে স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুর রশিদ বলেন -আমার ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসায়ি বেশি আছে তাদের সাথে আমার সখ্যতা থাকার প্রশ্নই আসেনা। আমি সবসময় প্রতিবাদ করি, এমনকি নিজে ইয়াবা ব্যবসায়িক পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি । ফলে অনেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আমি চাই আমার এলাকা থেকে ইয়াবা নির্মূল হোক। তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত বলে জানান।
এদিকে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইয়াবা ব্যবসায়িদের তালিকা পাওয়ার বিষয়ের বিষয়ে সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এএইচএম মাহফুজুর রহমান বলেন, ঝিলংজার তালিকাটি পাওয়ার পর আমি কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। তাছাড়া আমাদের আইনশৃংখলা মিটিং এ এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমরা কোন মাদক ব্যবসায়িকে ছাড় দেবনা। প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত আছে ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদক নির্মূলে।
খরুলিয়ার মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশের প্রস্তুতি এবং সদর ইউএনও’র তালিকা পাওয়া বিষয়ে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন- খরুলিয়ার মাদক ব্যবসায়িরা আমাদের নজরদারিতে আছে। আমরা শুরু করেছি এবং শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ি নুরুকে আটক করেছি বাকিরা শীঘ্রই আটক হবে এতে সন্দেহ নেই। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। সদরের খরুলিয়াকে আমরা বিশেষ নজরদারিতে রেখেছি। এলাকার সকলের সহযোগিতায় খরুলিয়াকে আমরা মাদক নির্মুল করতে পারব ইনশেআল্লাহ। খরুলিয়াসহ সদরের আশপাশের যুব সমাজকে বাচাঁতে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়িদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান এলাকাবাসি

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT