ক্যাম্প ইনচার্জদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯
  • 100 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জদের বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। এনজিওদের প্রত্যেক প্রকল্প থেকে ১% ঘুষ দাবী,তাদের পরিবারের লোকজনকে চাকরী দেওয়া,পরিদর্শনের নামে হয়রানী,রোহিঙ্গা মাঝির মধ্যেমে চাঁদা তুলা,ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং ত্রানের মালামাল বিক্রিতে সহায়তা করে টাকা আয় করা সহ অনেক নারী এনজিও কর্মীদের হয়রানীরও অভিযোগ উঠেছে। মূলত ২ সেপ্টেম্বর প্রভাবশালী ৩ জন ক্যাম্পে ইনচার্জ সহ স্বরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার একযোগে বদলী হওয়ায় অনেক এনজিও প্রধানরা গনমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করে এই অভিযোগ করছেন। এছাড়া সস্প্রতী বদলী হওয়া ক্যাম্প ইনচার্জ শামিমুল হক পাভেলের স্ত্রীও আইওএমতে চাকরী করেন বলে জানান তারা। একই সাথে বেশির ভাগ ক্যাম্প ইনচার্জদের পরিবারের সদস্যদের বাধ্য হয়ে চাকরী দিতে হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ৫/৬টি এনজিওর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন ক্যাম্প ইনচার্জদের অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে। তাদের দাবী ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪ জন ক্যাম্প ইনচার্জ দায়িত্ব পালন করেন। উনাদের অন্যায় আবদারের কারনে ক্যাম্পে কাজ করা কঠিন। প্রথমত হচ্ছে ক্যাম্প ইনচার্জরা যে কোন প্রকল্প থেকে মূল বাজেটের ১% ঘুষ দাবী করে। পরে দাতা সংস্থার সাথে কথা বার্তা কিছুটা কম/বেশি করে কোন মতে কাজ করি। এর মধ্যে উনাদের আত্বীয় স্বজনকে এনে দেয় চাকরী দেওয়ার জন্য। যেহেতু কাজ করতে হবে তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে যোগ্যতা না থাকা সত্বেও তাদের আত্বীয় স্বজনকে চাকরী দিতে হয়। আপনারা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন প্রত্যেক ক্যাম্পে ইনচার্জের নিজ উপজেলার বা পরিবারর অন্তত ৫০ জন বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভাল বেতনে চাকরী করছে। যেমন সম্প্রতী বদলী হওয়া ক্যাম্প ইনচার্জ শামিমুল হক পাভেলের স্ত্রী নিজেও আইওএমতে চাকরী করেন। এবং ক্যাম্পে ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের ৪/৫ জন বিভিন্ন এনজিওতে বড় পদে আছেন। আর হঠাৎ করে পরিদর্শনের নামে মারাত্বক হয়রানী করে। যেমন আমরা পানি,স্যানেটারী লেট্রিন,খাদ্য সরবরাহ,জ¦ালানী সরবরাহ সহ অনেক কাজ করি। ক্যাম্প ইরচার্জরা হঠাৎ করে কোন একটি ভুল ধরে পুরু প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। আর কোন কাজই করতে দেয় না। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র স্বাক্ষর করেননা। যেহেতু সব ক্ষমতা তাদের হাতে তাই আমাদের সব কিছু নিরবে সহ্য করতে হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে উনারা ভয়াবহ অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত অনেক এনজিও আছে কাগজে কলমে ১৫ টি সেন্টার চালু থাকার কথা থাকলে বাস্ততে আছে তার চেয়ে কম আবার সেখানে যে সমস্ত স্টাফ থাকার কথা সেগুলোও নেই। তারা ক্যাম্প ইনচার্জকে ম্যানেজ করে সব টাকা লুটেপুটে খায়। কারন এত বড় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কেউ পরিদর্শনে গেলেও সামান্য রাস্তা গিয়ে আর পারেনা।
এ ব্যপারে উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান,আমরা অনেক আগেই ক্যাম্প ইনচার্জদের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধতন কতৃপক্ষতে বলেছিলাম কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেনি সবাই টাকা আয় করার ধান্দায় ছিল। মূলত ক্যাম্প ইনচার্জদের কারনেই রোহিঙ্গা মাঝি প্রথা চালু হয়েছে। এই মাঝিদের দিয়ে তারা যত অপকর্ম করে। সবাই জানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে অন্তত ১০/১২ হাজার দোকান আছে যেগুলোর পরিচালনা করে রোহিঙ্গারাই। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত টাকা নেয় ক্যাম্পে ইনচার্জের লোকজন।
উখিয়া সুজন সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন,রোহিঙ্গাদের ত্রান কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌছে যাওয়ার কারনে ক্যাম্পে ইনচার্জরাই দায়ি,কারন তাদের লোকজনই টাকা দিয়ে এসব মালামাল বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। আমার জানা মতে এখানে বাঁশ,গাছ থেকে শুরু করে যত টেন্ডার হয় বেশির ভাগই সিন্ডিকেটের কবলে থাকে। আর সব কিছু জানে ক্যাম্প ইনচার্জরা,উনাদের কথা ছাড়া সেখানে কেউ কিছু করতে পারেনা। তাদের গ্রামের বাড়ির মানুষ জন এনে এগুলো কাজ করায়।
এদিকে দ্রুত সব ক্যাম্প ইনচার্জদের বিষয়ে কঠোর নজরদারী সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে কক্সবাজারের সচেতন মহল। জানা গেছে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১(ই),১(ডাব্লিউ)৩,৪,এবং ৪ বর্ধিত ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিল সদ্য বদলী হওয়া সরকারের উপ সচিব শামিমুল হক পাভেল, আর ক্যাম্প ২(ই),২ ডাব্লিউ,এবং কুতুপালং স্বরণার্থী ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিল সরকারের সহকারী সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম,ক্যাম্প ৫,ও ৮ এবং ১৭ এর দায়িত্বে আছেন উপ সচিব আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ,ক্যাম্প ৬ এবং ৭ এর দায়িত্বে আছেন হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ,ক্যাম্প ৪(ই)৯ এবং ১০ এর দায়িত্বে আছেন উপ সচিব শেখ হাফিজুল ইসলাম,ক্যাম্প ১১,১২.১৮এর দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ জাহিদ আকতার,ক্যাম্পে ১৩.১৪.১৯ এর দায়িত্বে ছিলেন সদ্য বদলী হওয়া মোঃ আবদুল ওয়াহেদ রাশেদ, ক্যাম্প ১৫এবং ১৬ এর দায়িত্বে আছেন উপ সচিব কাজী ফারুল আহাম্মদ,এবং উপ সচিব মোঃ মাহফুজুর রহমান,ক্যাম্প ২০ এবং বর্ধিত ২০ এর দায়িত্বে আছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক সুফিয়ান,ক্যাম্প ২১ এর দায়িত্বে আছেন উপ সচিব মাহাবুবুর রহমান ভুইয়া,ক্যাম্প ২২ এর দায়িত্বে আছেন সিনিয়র সহকারী সচিব পোলক কান্তি চক্রবর্তী,ক্যাম্প ২৩ এর দায়িত্বে আছেন উপ সচিব মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, এবং মোহাম্মদ হান্নান ক্যাম্প ২৪/২৫ এরও দায়িত্বে মোহাম্মদ হান্নান এবং ক্যাম্প ২৬ এবং ২৭ এর দায়িত্বে আছেন উপ সচিব মোহাম্মদ খালেদ হোসাইন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT