কে এই আবু আবদুল্লাহ মিশরী! রোহিঙ্গাদের ভয়ে নির্ঘুম রাত যাপন

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, মে ৩১, ২০২০
  • 284 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

এইচএম এরশাদ \
সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপহরণ থেকে রক্ষা পেতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠি। আশ্রয় শিবিরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রæপগুলো স্থানীয় যার কাছে টাকা-কড়ি আছে, এমন লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। তাদের দাবীকৃত মুক্তিপণ না পেলে খুন করছে ধারাবাহিকভাবে। এমন পরিস্থিতিতে ভয় ও আতঙ্কে দিন পার করছে স্থানীয়রা। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইক্যং মিনাবাজার গ্রামের তিন যুবককে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ না পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে হত্যা করেছে রোহিঙ্গারা।
সচেতন মহল জানান, উখিয়া টেকনাফে ৩৪টি শিবিরে আশ্রিত প্রায় ১২লাখ রোহিঙ্গা এখন স্থানীয়দের জন্য বিষফোঁড়া। ইতোমধ্যে গুলি ও জবাই করে হত্যার শিকার যুবকরা হচ্ছে-মোহাম্মদের পুত্র শাহেদ, মৌলবি আবুল কাসেমের পুত্র আক্তার উল্লাহ এবং মিয়া রশিদের পুত্র আবদুর রশিদ। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অপহৃতদের উদ্ধারকল্পে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। এর আগে হত্যা করেছে টেকনাফ যুবলীগের নেতা ওমর ফারুককে। অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় ক্যাম্প ইনচার্জ কিছু সংখ্যক এনজিও এবং রোহিঙ্গা নেতাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা। কুতুপালং রেজিষ্ট্রাট ক্যাম্প, টু-ইস্ট ক্যাম্প, বালুখালী, চাকমারকুল, উনচিপ্রাং, নয়াপাড়া ক্যাম্পে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের কাছে অন্তত চার শতাধিক অস্ত্র রয়েছে। তন্মধ্যে ৮৭টি হচ্ছে ভারী অস্ত্র। রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের সময় ও পরবর্তীতে মিয়ানমারে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা আরসা ক্যাডারদের কাছ থেকে এনে ওসব অস্ত্র জমা করেছে রোহিঙ্গা শিবিরে। সূত্র মতে, এ বিষয়ে প্রশাসন ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও তথ্য রয়েছে। তবে প্রশাসনের লোকজন অভিযানে যাচ্ছে দেখলেই রোহিঙ্গারা মূহুর্তে খবর পৌছে দেয় সন্ত্রাসীদের কাছে। এ কারণে অপহরণ ও খুনখারাবি করেও পার পেয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা অপরাধীরা।
সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রিত কুতুপালং ক্যাম্পে অপরাধীর সংখ্যা যেমন বেশী, তেমনি বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের ক্যাডারদের বিচরণও বেশী। এই ক্যাম্পে আনাগোনা রয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রথম সারির জঙ্গী আবু আবদুল্লাহ মিশরী নামে এক ক্যাডারের। জঙ্গীপনাসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ। ক্যাম্পে যাতায়াত সহজ করতে তিনি কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ক্যাম্প ইনচার্জ খলিলুর রহমান টাকা গ্রহণের কথা সত্য নয় দাবী করে জনকণ্ঠকে বলেন, মিশরীয় ঐ ব্যক্তিকে আমি চিনিনা।
জানা গেছে, কাতারের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিদেশ থেকে অর্থ এনে মৌলবি আবু আবদুল্লাহ ক্যাম্পে বহু রোহিঙ্গার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। আফগানিস্তানে ট্রেনিংপ্রাপ্ত (বিন লাদেনের সহযোদ্ধা খ্যাত) এই জঙ্গী এক সময় আত্মগোপন হয়ে পড়েছিল। কৌশলে সৌদি আরবে আশ্রয় নিয়ে সেদেশের নাগরিকত্ব লাভ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তার অপরাধের তথ্য জানতে পেরে নাগরিকত্ব বাতিল করে দিলে পালিয়ে যায় আরব আমিরাতে। সেখানেও থাকতে না পেরে ঢুকে পড়ে মালয়েশিয়ায়। মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে ২বছর ধরে যাওয়া-আসা করছে বাংলাদেশে। একটি এনজিও’র ব্যানারে ২২টি কুতুপালং ক্যাম্প অভ্যন্তরে স্কুলের নামে রোহিঙ্গা যুবকদের ট্রেনিং প্রতিষ্টান তৈরী করে দেন তিনি। সরকারের অনুমতি না থাকলেও বিয়ে করেন কুতুপালং-১নং পাহাড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গা মৌলবি লোকমানের সুন্দরী মেয়েকে।
এদিকে সরকারি নীতিমালা ও শরণার্থী আইন অনুযায়ী আশ্রয় ক্যাম্পে কোন প্রকার দালান কোটা, দোকান-পাট নির্মাণ করতে পারেনা আশ্রিতরা। তবে ক্যাম্প ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রথম সারির এই ক্যাডার কুতুপালং ক্যাম্পের এ- বøকে এবং ডি-ফোর বøকে দুইটি মসজিদ নির্মাণ (দালান) করে রোহিঙ্গা নেতা হাফেজ জালাল ও মাঝি সলিমকে দায়িত্ব দেয়। ওই জালাল ইতোপূর্বে বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে বিভিন্ন দেশে সফর করেছে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ তাকে আটক করলেও ক্যাম্প ইনচার্জ খলিলুর রহমান খানের সুপারিশে ছাড়া পেয়ে যায়। তবে ক্যাম্প ইনচার্জ থানায় সুপারিশ করেননি বলে দাবী করেছেন। মিশরীয় এই জঙ্গী কুতুপালং ক্যাম্পে ২টি মাদ্রাসা নির্মাণ করে পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে দেয় রোহিঙ্গা নেতা মৌলবি জানে আলম, মৌলবি হামিদ ও মৌলবি আবদুল মান্নানকে। সেখানে রোহিঙ্গা যুবকদের শিক্ষার নামে বিভিন্ন ট্রেনিং দেয়া হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্প ইনচার্জ মো: খলিলুর রহমান খান রোহিঙ্গাদের সাহায্যের নামে মিশরীয় ওই নাগরিকের কাছ থেকে ২লক্ষ আশি হাজার টাকা নিয়ে ১১ জন রোহিঙ্গা নারীকে পাঁচ হাজার টাকা করে প্রদান করে বাকী টাকা আত্মসাত করেছেন। ক্যাম্প ইনচার্জের নমনীয় ভাব দেখে মিশরীয় ঐ নাগরিক কুতুপালং শিবিরে বিভিন্ন বেআইনী কাজ ও সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করে চলেছে।
উল্লেখ্য কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে শিবির অভ্যন্তরে স্থানীয়দের বসতবাড়ী ভাংচুরসহ নানান অভিযোগ তুলে গ্রামবাসি ইতোপূর্বে সংবাদ সম্মেলন করেছে। স্থানীয় মুফিজ উদ্দিন বলেন, ক্যাম্প ইনচার্জ খলিলুর রহমান খান যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছে স্থানীয়রা। রাজাপালং ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা বেলাল উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিছুদিন ধরে কুতুপালং ক্যাম্পে বিভিন্ন অপকর্ম বেড়েই চলেছে

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT