করোনা সংকটে কমেছে রক্তদাতা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২০
  • 207 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.

করোনা সংকটের মধ্যে কক্সবাজারে রক্ত দাতার সংকট বেড়েছে। অন্যদিকে রক্ত সংগ্রহে সরকারি ভাবে খরচ এবং ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ভূক্তভোগীরা। এছাড়া রক্তদাতাদের সরকারি ভাবে কোন সম্মাননা কিংবা প্রণোদনা না থাকায় রক্তদাতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানান সচেতন মহল।কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগি খুরুশকুল মনুপাড়ার রাশেদ আলম বলেন, আমার বোনের ডিলিভারীর সময় ‘ও’ পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন বলেছিল ডাক্তার তবে আগে শুনেছিলাম হাসপাতালের ব্লড ব্যাংকে রক্ত পাওয়া যায়। সে জন্য হাসপাতালে ব্লড ব্যাংকে গিয়ে রক্তের প্রয়োজন জানালে তারা বলেন, রক্ত নাই পরে আমার পরিবারে ‘বি’ পজিটিভ একজনের রক্ত দিলেও তারা আমাদের ‘ও’ পজিটিভ রক্ত দিতে পারেনি। পরে অনেক চেস্টা করে এলাকা থেকে একজনকে এনে রক্ত জোগাড় করেছি। তবে সেখানেও রক্তের ব্যাগ কিনে দিতে হয়েছে ১৫০ টাকা দিয়ে এছাড়া রক্ত নেওয়ার লোকদের ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। অর্থাৎ রক্তও আমাদের টাকাও আমাদের দিতে হয়েছে।জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগি রামু মিঠাছড়ির হাফেজা বেগম (৬৫) প্রচন্ড দূর্বলতা এবং শারীরিক নানান সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। পরে ডাক্তারের পরামর্শ মতে রক্ত শূন্যতা দেখা দেওয়ায় রক্তের প্রয়োজন হলে জেলা সদর হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকে যোগাযোগ করলে তারা বলেন এখনে কোন বøাড নেই। পরে তাদের নিজ এলাকা থেকে ৩ জনকে এনে প্রত্যেককে রক্ত পরীক্ষা করে একজনের সাথে মিলায় এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এতে ব্লড ব্যাংকে নিয়েছে ৫০০ টাকা। আর ব্যাগ কিনতে হয়েছে ১৫০ টাকা দিয়ে। এভাবে রক্ত পেতে চরম ভুগান্তি হচ্ছে বলে জানান সেবা প্রার্থীরা।আলাপ কালে কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটির পরিচালক আশরাফুল হাসান রিশাদ জানান, করোনা কালীন সময়ে আগের মত ব্লাড ডোনারদের পাওয়া যায় না। আবার পরিবহণ সংকটের কারনেও অনেকে আসতে চাননা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন কেউ হাসপাতালে আসতে চাননা। তবে এই সংকটের মুহুর্তে ব্লড ব্যাগ না থাকায় মানুষকে নিজের টাকা দিয়ে ব্যাগ কিনে এনে দিতে হচ্ছে তাই ব্লাড ব্যাগ সরকারি ভাবে আগের মত সরবরাহ করার জন্য আহবান জানান তিনি।শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকার এড. মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, এখন অনেক রক্ত দাতা আছে এক সময় একজন রক্ত দাতা খোঁজার জন্য আমরা ১০০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়েছি সেই টাকাও রক্ত গ্রহীতা দিতে পারেনি এমন ঘটনাও আছে, আর এখন অনলাইন ফেসবুকের সময়। আগে এগুলোর ব্যবহারও ছিলনা। যাই হউক আমার মতে যারা স্বেচ্ছায় রক্ত দেয় তাদের একটি তালিকা করে সরকারিভাবে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন বা তাদের জন্য সম্মাননার ব্যবস্থা করলে রক্ত দাতার সংখ্যা বাড়বে। তবে করোনা কালীন সময়ে সরকারি ফি মওকুফ করার দাবী জানান তিনি।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হাসপাতালের কর্মচারী বলেন, যে কেউ রক্ত দিতে গেলে হাসপাতালের হলে ২৫০ টাকা আবার বাইরের হলে ৫০০ টাকা নির্ধারিত ফি আছে। তবে সেটা মানুষ অনেকসময় বুঝে আবার অনেকসময় বুঝেনা। মনে করে অনেক বেশি নিচ্ছে আবার প্রতিদিন যা আদায় হয় সেটা ঠিকমত জমা হয় কিনা এটা নিয়েও সন্দেহ।এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে জানতে চাইলে সেখানে কর্মরত একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, আমাদের এখানে বর্তমানে ১৫ টির মত ব্লাড জমা আছে আগে এক সময় ১০০ টিও বেশী থাকতো। বর্তমানে করোনা সংকটের কারনে রক্ত দাতা পাওয়া যাচ্ছেনা যাদের প্রয়োজন হয় তারা নিজের আত্বীয় স্বজন এনে দেয়।এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহীন আবদুর রহমান বলেন, এক সময়তো রক্ত কোথায় পাওয়া যাবে বা রক্তের জন্য কোথায় যোগাযোগ করতে হবে সেই ঠিকানাও ছিলনা। এখন অন্তত একটা ঠিকানা হয়েছে ব্লাড ব্যাংক নামের একটি প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে। তবে করোনা কালীন সময় রক্ত দাতা সংকট আছে এটা সত্য। আর ব্লাড ব্যাগের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে এখনো আসেনি। তবে যত বেশি রক্ত দাতা তৈরি করা যাবে সবার জন্য ততই মঙ্গল হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT