করোনা সংকটেও জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, মে ১৮, ২০২০
  • 58 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও কক্সবাজারে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি বোরো মৌসুমে কক্সবাজারে ৩ লাখ ৭৭ হাজার মেঃটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আসা করা হচ্ছে এই করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকদের আন্তরিকতার কারনে তার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে। তবে যোগযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারনে মাঠ পর্যায়ে ধান কাটা কহ বিক্রয় বিপনণে কৃষকদের সমস্যা বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে অনেক কৃষক।
কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,চলতি বোরো মৌসুমে কক্সবাজারে বোরোর বাম্পান ফলন হয়েছে। এই মৌসুমে জেলায় ৫২ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার মেঃ টন। বর্তমানে কৃষকের মাঝে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে প্রতি হেক্টর জমিতে ৫/৬ মেঃ টন ধান হয়েছে। সে হিসাবে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে আমরা আশা করছি। তবে করোনা কালিন সময় শ্রমিক এবং পরিবহণ সহ নানান সংকটে ছিল বলে জানান কৃষি অফিস।
এদিকে পিএমখালী ঘাটকুলিয়া পাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেণ,করোনা সংকটে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূলে ধান এবং সার দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি তবে আমরা সেটা পায়নি। অথচ আমি প্রতি মৌসুমে ১৭ কানি জমিতে ধান চাষ করি। মুলত সরকারি দলের নেতাএবং কৃষি অফিস ভিত্তিক কিছু দালাল আছে যারা কৃষক না হয়েও কৃষকের তালিকায় না লেখে সবার আগে সরকারি সুবিধা পায়। আর প্রকৃত কৃষকরা এই সুবিধা পায় না। আর কৃষি কর্মকর্তারা ভাগ পেলে সব কিছু জায়েজ হয়ে যায়। একই এলাকার আলী আকবর বলেণ,অনেকে বলছে শ্রমিক নাই অথচ আমি আগে ধান কাটতাম দৈনিক ৭০০ টাকা দিয়ে (ভাত সহ) এখন ৮০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পায়নি। ইসলামপুর নাপিতখালী এলাকার রুহুল আমীন বলেণ,করোনা সংকটে বিভিন্ন দপ্তরে নানান ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছে শুনেছি কিন্তু কৃষি বিভাগ কোন সুবিধা দিয়েছে সেটা আমরা জানিনা। কোন সার বা বীজ আমি পায়নি। তবে আমার ১২ কানি জমিতে ধান আল্লাহর রহমতে ভাল হয়েছে। তবে গরম বেশি হওয়ার কারনে শ্রমিকরা কাজ করতে চায় না। তাই বেশি টাকা খরচ হয়েছে। সে হিসাবে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। আর সরকারি ভাবে ধান বিক্রি করতে গেলে হয়রানীর কারনে যায় না। আগে ২ বার গিয়েছিলাম সদর খাদ্য গুদামে আমার ধান চিটা এবং কম শুকনো বলে ফেরত দিয়েছিল। তাই রাগ করে সব ধান স্থাণীয় মিলে বিক্রি করে দিয়েছি। আর সেখানেই সব দালালে ভরপুর টাকা দিলে ধান বিক্রি করা যায়। চকরিয়া হারবাং এলাকার কৃষক আবদুস সবুর বলেন,আমার জমিতে ধান আল্লাহর রহমতে ভাল হয়েছে। আমার এলাকায় বেশির ভাগ কৃষকের জমিতে ধান ভাল হয়েছে। মূলত পরিবেশ অনুকূলে থাকার কারনে ধান ভাল হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে প্রচন্ড গরমের কারনে ধান পরিবহণ এবং শ্রমিক পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আর কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা পায়নি বলে জানান তিনি।
এব্যপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেণ,বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিকালে কৃষকরাই হচ্ছে দেশে প্রাণ তাই সরকার তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ইতি মধ্যে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT