করোনায় আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, মার্চ ২১, ২০২০
  • 105 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

আব্দুল্লাহ মনির, টেকনাফ :
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৪ টি রোহিঙ্গা আশ্রয় ক্যাম্পে প্রায় এগার লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বসবাস। ছোট ছোট ঝুঁপড়ি ঘরে ঠাঁসাঠাসি করে ঠাঁই নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের মাঝে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন দেখা দিলে তার প্রতিরোধে কতটা প্রস্তুত ক্যাম্প প্রশাসন এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মহামারি এই ভাইরাস নিয়ে রোহিঙ্গারাও আতঙ্কিত।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের মাঝে তেমন তৎপরতা নেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকার দেশে সতর্কতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে যে যার মতো চলাফেরা, আড্ডা, বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকে এখনো এই ভাইরাসের বিষয়ে পুরোটা জ্ঞাত নয় বলেও জানিয়েছেন।
টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বৃদ্ধ রোহিঙ্গা আমির হোছন জানান, পুরো দুুনিয়ায় কি যেন অসুখ ছড়াচ্ছে বলে শুনেছি। তবে এ অসুখের ব্যাপারে তেমন কিছু জানিনা। আমরা ঠিক আগের মতোই চলাফেরা করছি।
মোচনী নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বৃদ্ধা নারী জুহুরা খাতুন (৭৬) বলেন, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন কথা শুনেছি। এই রোগের কথা শুনে আমাদের মনে খুব ভয় লাগছে। যদি ক্যাম্পে এমন রোগ ছড়ায়, তবে বাঁচার উপায় দেখছিনা আমি।
একই ক্যাম্পের সচেতন কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জেনেছেন। তবে তাদের দাবি, করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এই মুহুর্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। ক্যাম্পে দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার লোকজন নিয়মিত আনাগোনা করেন, তাছাড়া কিছু দুষ্কৃত রোহিঙ্গা রয়েছে যারা গোপনে মিয়ানমার পর্যন্ত ঘুরে আসে। এসব কারণে ওইসব রোহিঙ্গা যুবকরা ক্যাম্পে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার- আরআরআরসি (জ্যেষ্ঠ যুগ্ন সচিব) মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প গুলোতে নতুন কোন বিদেশি যেতে চাইলে তাকে ক্যাম্পে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। কোয়ারাইন্টানে থেকে আশংকা মুক্ত হলেই রোহিঙ্গা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে যেতে পারবেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রোহিঙ্গা প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। তবে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে আগে থেকেই কর্মরত বিদেশিরা এ নির্দেশনার আওতায় পড়বেনা। কারণ তারা আগেই থেকেই ক্যাম্পে কাজ করার কারণে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখানকার সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের মতোই।
শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দাবি করেন, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪৭ টি করোনা ভাইরাস আইসোলেশন বেড রেডি করা আছে। প্রয়োজন হলে আরো ১৫০ শয্যার বেড প্রাথমিকভাবে প্রাক প্রস্তুতি করে রাখা হয়েছে। তবে ক্যাম্পে এখনো পর্যন্ত কোন করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি। এরপরও রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলো এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, আমরা এই ভাইরাস সম্পর্কে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে লিফলেট ও মাইকিং করে সতর্কতা করেছি স্থানীয় বাসিন্দাদের। ক্যাম্পেও মাইকিং করে এবং যেসব পদ্ধতি রোহিঙ্গাদের মাঝে এ বিষয়ে ধারণা দেয়া সম্ভব সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরার বাসিন্দা আজম উল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা ঘনবসতির মধ্যে থাকে। ক্ষুদ্র পরিসরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা একসাথে জমায়েত ও চলাফেরা করে। এছাড়া ক্যাম্পে কোন ধরনের লোক কোন জায়গা থেকে ঢুকে আর বের হয় তার হিসেব নেই। তাই এ মুহুর্তে ক্যাম্পে করোনার ঝুঁকি বেশি দেখছি।
স্থানীয় এই যুবক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। তবে স্থানীয়রা অনেকটা এই বিষয়ে সচেতন। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে স্থানীয় পর্যায়ে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে এমন সম্ভাবনা বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT