শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে দূর্গা পূজায় হামলা প্রতীমা ভাংচুরের প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন বিদেশে যেতে চায় মুহিবুল্লাহ‘র পরিবার পাহাড়তলীতে বেলালের গ্যারেজে আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা কাপ্তাইয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না সৌদিতে বিনা শুল্কে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানীর নির্দেশ দিলেন অতিরিক্ত বানিজ্য সচিব পাহাড়তলীতে গ্যারেজের আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াবা নিয়ে সহযোগি সহ ঢাকায় আটক পাঁচ কেজি আইসসহ টেকনাফ সিন্ডিকেট প্রধান ঢাকায় আটক পেকুয়ায় ত্রিভূজ প্রেমের বলি দুই প্রেমিক-প্রেমিকা

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের অচলাবস্থা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৯
  • 131 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান,কক্সবাজার
ভুল চিকিৎসা রোগি মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলার ঘটনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও কোন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না গত দুইদিন ধরে। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
গত ৪ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেন নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী মারা যান। তার বাড়ি শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায়। এর আগে ২ এপ্রিল পেটের ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এসময় রোগীর স্বজনেরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় ৫ম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসক ফাহিম মোহাম্মদ তাজনুন গুরুতর আহত হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়।
ঘটনার পর থেকেই কর্মবিরতিতে শুরু বেশির ভাগ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। তবে জরুরি বিভাগ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রাখা হয়। ওয়ার্ড গুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় অনেক রোগি বাধ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। ওয়ার্ডেও ৫ এপ্রিল থেকে রোগি ভর্তি বন্ধ রয়েছে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে শনিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের রোগী ও দর্শণার্থীদের জট নেই। হাসপাতালজুড়ে সুনশান নিরবতা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেইটের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সদর হাসপাতালের ২য় তলায় প্রসূতি ও গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগির সংখ্যা একেবারেই কম। বেশির ভাগ শয্যা খালি। কয়েকজন রোগি রয়েছে। তারাও অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার। ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মেহেরুন্নেছা (২৪) বলেন, তিনি ভর্তি হয়েছেন ৩ এপ্রিল। আজ (শনিবার) সারাদিন কোন ডাক্তার আসেনি। অনেকে ডাক্তার না আসায় বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ওই ওয়ার্ডে ৫ এপ্রিল থেকে নতুন কোন রোগি ভর্তি হতে দেখেননি তিনি।
৩য় তলার শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও রোগির সংখ্যা কম দেখা যায়। তবে ওই ওয়ার্ডে একজন চিকিৎসক এবং বেশ কয়েকজন নার্সকে দায়িত্বপালন করতে দেখা যায়। ওই ওয়ার্ডে বরাদ্দ শয্যা ৪০টি হলেও রোগি ভর্তি ছিল মাত্র ১১ জন।
৫ম তলার সার্জারী ওয়ার্ডের রোগি নুরুল আজিম ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, আনোয়ার হোসেন নামে ওই রোগির অবস্থা ভাল ছিল না। এক সাথে কয়েকজন ডাক্তার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল তাকে বাঁচানোর। কিন্তু দুর্ভাগ্য তিনি মারা যান। চিকিৎসা সেবায় আমরা কোন গাফেলতি দেখিনি। কিন্তু রোগির স্বজনেরা অহেতুক উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলা করেছে। একজনের ভুলের কারণে এখন আমরা সবাই কষ্ট পাচ্ছি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল বলেন, চিকিৎসা সেবা বন্ধ নেই। তবে ঘটনার পর থেকে সবাই আতঙ্কিত। এমনকি রোগিরাও আতঙ্কে ভুগছেন। একারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে এমনিতেই ডাক্তার-নার্স ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এই ধরণের নেক্কারজনক ঘটনা। এরপরও আউটডোর, ইনডোর, জরুরিসহ সব বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সদের সাধারণ ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, চিকিৎসকদের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ওই চিকিৎসকের যদি ভুল হয়ে থাকে বা অপরাধ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাকে তো মারধর করা যায় না। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ঘটনার পর পরই কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু উভয়পক্ষ সমঝোতা করার কারণে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন যদি মামলা দায়ের করে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাহাবুবুর রহমান,কক্সবাজার
ভুল চিকিৎসা রোগি মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলার ঘটনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও কোন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না গত দুইদিন ধরে। সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
গত ৪ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেন নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী মারা যান। তার বাড়ি শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায়। এর আগে ২ এপ্রিল পেটের ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এসময় রোগীর স্বজনেরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় ৫ম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসক ফাহিম মোহাম্মদ তাজনুন গুরুতর আহত হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়।
ঘটনার পর থেকেই কর্মবিরতিতে শুরু বেশির ভাগ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। তবে জরুরি বিভাগ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রাখা হয়। ওয়ার্ড গুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় অনেক রোগি বাধ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। ওয়ার্ডেও ৫ এপ্রিল থেকে রোগি ভর্তি বন্ধ রয়েছে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে শনিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের রোগী ও দর্শণার্থীদের জট নেই। হাসপাতালজুড়ে সুনশান নিরবতা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেইটের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সদর হাসপাতালের ২য় তলায় প্রসূতি ও গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগির সংখ্যা একেবারেই কম। বেশির ভাগ শয্যা খালি। কয়েকজন রোগি রয়েছে। তারাও অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার। ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মেহেরুন্নেছা (২৪) বলেন, তিনি ভর্তি হয়েছেন ৩ এপ্রিল। আজ (শনিবার) সারাদিন কোন ডাক্তার আসেনি। অনেকে ডাক্তার না আসায় বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ওই ওয়ার্ডে ৫ এপ্রিল থেকে নতুন কোন রোগি ভর্তি হতে দেখেননি তিনি।
৩য় তলার শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও রোগির সংখ্যা কম দেখা যায়। তবে ওই ওয়ার্ডে একজন চিকিৎসক এবং বেশ কয়েকজন নার্সকে দায়িত্বপালন করতে দেখা যায়। ওই ওয়ার্ডে বরাদ্দ শয্যা ৪০টি হলেও রোগি ভর্তি ছিল মাত্র ১১ জন।
৫ম তলার সার্জারী ওয়ার্ডের রোগি নুরুল আজিম ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, আনোয়ার হোসেন নামে ওই রোগির অবস্থা ভাল ছিল না। এক সাথে কয়েকজন ডাক্তার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল তাকে বাঁচানোর। কিন্তু দুর্ভাগ্য তিনি মারা যান। চিকিৎসা সেবায় আমরা কোন গাফেলতি দেখিনি। কিন্তু রোগির স্বজনেরা অহেতুক উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলা করেছে। একজনের ভুলের কারণে এখন আমরা সবাই কষ্ট পাচ্ছি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল বলেন, চিকিৎসা সেবা বন্ধ নেই। তবে ঘটনার পর থেকে সবাই আতঙ্কিত। এমনকি রোগিরাও আতঙ্কে ভুগছেন। একারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে এমনিতেই ডাক্তার-নার্স ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এই ধরণের নেক্কারজনক ঘটনা। এরপরও আউটডোর, ইনডোর, জরুরিসহ সব বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সদের সাধারণ ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, চিকিৎসকদের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ওই চিকিৎসকের যদি ভুল হয়ে থাকে বা অপরাধ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাকে তো মারধর করা যায় না। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ঘটনার পর পরই কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু উভয়পক্ষ সমঝোতা করার কারণে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন যদি মামলা দায়ের করে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT