শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চোরাই পণ্যের ব্যবসা জমজমাট কক্সবাজারের দুই পৌরসভা ও ১৪ ইউপিতে ভোট ২০ সেপ্টেম্বর রামু উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দোকান বরাদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ঈদগাঁও বটতলী-ইসলামপুর বাজার সড়কের বেহাল দশা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা পৌর কাউন্সিলার জামশেদের স্ত্রী‘র ইন্তেকাল : সকাল ১০ টায় জানাযা উখিয়ায় বিদ্যুৎ পৃষ্টে একজনের মৃত্যু কক্সবাজারে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত মদপানে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু টেকনাফে নৌকা বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে; সাবরাং পথসভায় মেয়র মুজিব ৮ হাজার পিস ইয়াবা, যৌন উত্তেজক সিরাপ নগদ টাকা সহ আটক ১

কক্সবাজার পৌরসভার প্রকৌশলী মনতোষ চাকমার বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০
  • 539 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার পৌরসভার এক উপ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ঠিকাদারদের জিম্মিকরে প্রতি নিয়ত টাকা আদায় করা,ঠিকাদারের বিল তুলে নিজে রেখে দেওয়া,সরকারি কাজ করতে গিয়ে ব্যাক্তি মালিকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া,আবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে গরীব অসহায় মানুষের জমি সরকারি উন্নয়ন কাজের নামে জমি দখল করা,সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস না করে নিজের ইচ্ছামত অফিস করা,মদ পান করে অফিস করা সহ নানান অভিযোগের পাহাড় কক্সবাজার পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মনতোষ চাকমার বিরুদ্ধে। পৌর মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে এই প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে নানান অপকর্ম করে আসলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেনা। সংশ্লিষ্টদের দাবী পৌরসভায় চলমান ইউজিএফ-৩ প্রকল্প থেকে অন্তত কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন এই প্রকৌশলী।
কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,পৌরসভায় বর্তমানে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে তার মধ্যে ইউজিএফ-২ শেষ হয়ে বর্তমানে ইউজিএফ-৩ চলমান যার মাধ্যমে কয়েক শত কোটি টাকার কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন এলাকার ড্রেইন নির্মাণ,রাস্তা নির্মাণ,সহ বহু উন্নয়ন কাজ আছে যা তদারকির দায়িত্বে আছে পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মনতোষ চাকমা কিন্তু প্রকৌশলীর চরম অনিয়ম দূর্নীতি এবং অত্যাচারে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে শুরু করে ঠিকাদাররা এখন অতিষ্ট। হোটেল মোটেল জোনের রাস্তায় ড্রেইন নির্মাণ কাজের এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন মনতোষ চাকমা যখনি কাজ পরিদর্শনে আসেন তখনি কোন না কোন বাহানা দিয়ে টাকা খুজেন, না দিলে বিল বন্ধ করে দেওয়া, কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। না পারতে টাকা দিলেও আবার কিছুদিন পর টাকা খুজেন। তিনি সব সময় মদ খেয়ে মাতাল থাকায় তার সাথে কথাও বলা মুশকিল। আবার বিল প্রতি একটি কমিশনতো আছেই। সে হিসাবে তিনি গক ২ বছরে অন্তত ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানা গেছে। ভোক্তভোগীদের দাবী প্রয়োজনে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকও যদি আমাদের স্বাক্ষী দিতে হয় দিব। এছাড়া সম্প্রতী আমাদের প্রায় কোটি টাকার বিল তুলে সেই প্রকৌশলী নিজে রেখে দিয়েছে এখন উল্টো আমাদের আস্তে আস্তে টাকা দিচ্ছে। এদিকে রুমালিয়ারছড়ার এলাকার শাহাবুদ্দিন,নাছির সহ অনেকে জানান,উত্তর রুমালিয়ারছড়ার বর্তমান ড্রেইন হয়েছে প্রায় ৩০ ফুট,এই ড্রেইনের কাজ করতে গিয়ে সম্প্রতী আমাদের এলাকার স্থানীয় কয়েকজন গরীব মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দিয়ে ড্রেইন করেছে কারন তার অপর পাশে আর কিছু প্রভাবশালীর জমি ছিল। সে সময় আমরা পৌর মেয়রকে সরজমিনে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি দেখিয়েছিলাম তিনি গরীব মানুষের বাড়িঘর না ভাঙ্গার জন্য নির্দেশ দিলেও মনতোষ চাকমা তা না শুনে ঘর ভেঙ্গে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এড,এরশাদ নামের এক ব্যাক্তির বাড়ির পাশে গিয়ে হঠাৎ করে ড্রেইন ২০ ফুট করে করের নির্দেশ দিয়েছে মনতোষ চাকমা। পরে খবর নিয়ে জেনেছি সেই প্রভাবশালীদের কাছ থেকে বিপুল টাকার উৎকোচ নিয়েছেন মনতোষ চাকমা। এতে ভবিষ্যতে বর্ষার পানিতে এলাকা সয়লাভ হয়ে যাবে। এদিকে পৌরসভা কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে,উপসহকারী মনতোষ চাকমা শুধু ইউজিএফ-৩ প্রকল্পে নয় বস্তি উন্নয়ন,বিদ্যূৎ শাখার দায়িত্বে আছে সেখান থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল টাকার অনিয়ম দূর্নীতি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পৌরসভার কর্মচারী জানান,বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের সব জায়গা থেকে টাকা খুজে তিনি। এমনকি সামান্য উঠান বৈঠক থেকে ২০০ টাকা রিজার্চ চেয়ে নেয়। এছাড়া ৭০ টাকা বিদ্যূৎ ভাল্ব নিয়ে ২৫০ টাকা বিল করে। এছাড়া তার আপন ভাই সন্তোষ চাকমাকে ও নিজের প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। সেই প্রকল্পে শামীম সহ কয়েকজন মিলে ইউজিএফ-৩ প্রকল্পের টাকা লোটপাট করছে। এদিকে কয়েকজন ঠিকাদার জানান,মনতোষ চাকমা তার নিজের বাড়ি রাঙ্গামাটিতে বাড়ি করবে সে জন্য আমাদের কাছ থেকে রট সিমেন্ট চায়ছে। আর সম্প্রতী মোহাজের পাড়া এলাকার এক ঠিকাদার থেকে জোর পূর্বক মটর সাইকেল নিয়েছেন তিনি। ঠিকাদারদের দাবী সব চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে উক্ত প্রকৌশলীকে ঠিকমত অফিসে পাওয়া যায়না। তিনি বেশির ভাগ সময় মদ খেয়ে মাতায় অবস্থায় থাকে তার সাথে কথাও বলা যায় না। এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলম বলেন,এ বিষয়ে আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি। আর অন্যান্য প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়নি তিনি। এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মনতোষ চাকমা বলেন,উত্তর রুমালিয়ারছড়ার যে ড্রেইনের কথা বলা হচ্ছে সেখানে বি.এস সিটে নালা ২৩ ফুট আছে। আর কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তার কোন প্রমান নেই কেউ মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এছাড়া কোন ঠিকাদারের টাকাও জমা রাখেন নি বলে জানান। আর অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মাঠে গিয়ে খবর নেওয়ার কথা বলে ফোন রেখে দেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন,আমি অনেক চেস্টা তদবির করে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি সেখানে কোন অনিয়ম দূর্নীতি সহ্য করবো না। বিষয়টি আমি তদারকী করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ব্যপারে নাম প্রকাশ না করে দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন,কক্সবাজার পৌরসভার বেশ কয়েকটি বিষয়ে তদন্ত চলছে সেখানে আরো কিছু সঠিক তথ্য যদি কেউ দেয় তাহলে আমাদের কাজে সহযোগিতা হবে।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT