কক্সবাজারে ৪ মাস ধরে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র ঈদের আগেই খুলে দেয়ার দাবি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২০
  • 1058 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

আহমদ গিয়াস
করোনা সতর্কতায় গত চার মাস ধরে বন্ধ পর্যটন কেন্দ্রগুলো আসছে ঈদের আগেই খুলে দেওয়ার দাবী তুলেছেন পর্যটনকর্মীরা। এই দাবীতে আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিচ্ছে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস অফিসার্স এসোসিয়েশন।
করোনা সতর্কতায় গত ১৮ মার্চ থেকে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন, শহরকে রেডজোন ঘোষণা করে সকল ধরনের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাস পর গত ১ জুলাই থেকে লকডাউন শিথীল করে কক্সবাজার শহরের দোকানপাট খুলে দেওয়া হলেও এখনও খুলে দেওয়া হয়নি পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এরফলে কক্সবাজার শহরসহ জেলার পর্যটন কেন্দ্রসমূহে অবস্থিত ৭ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও সহস্রাধিক রেস্তোরাঁর প্রায় ৪০ হাজার মালিক-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাশপাশি সাগরপাড়ের ঝিনুক মার্কেট, আচারের দোকান, কিটকট চেয়ারছাতাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার মালিক-কর্মচারীও হয়ে পড়েছেন বেকার। তাদের জীবিকা রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হলেও ঈদের আগে হোটেল-মোটেল ও সমুদ্র সৈকত খুলে দেওয়ার দাবী জানান হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস অফিসার্স এসোসিয়েশন। এই দাবীতে সংগঠনটি আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিচ্ছে বলেও জানান সংগঠনটির সভাপতি সুবীর চৌধুরী বাদল ও করিম উল্লাহ কলিম।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমাদের করোনার মধ্যে বসবাস করতে হবে, আবার অর্থনীতির গতিও সচল রাখতে হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালত, গণ পরিবহনসহ সব কিছু স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে খুলে দেয়া হয়েছে। তাই আমাদের দাবী কক্সবাজার পর্যটন সেক্টরও খুলে দেওয়া হউক। কারণ পর্যটন শিল্প বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে হোটেলের ৩০হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এ খাতে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ দিন পর্যটন সেক্টর বন্ধ থাকায় এসব পরিবারে অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে। দক্ষ ও যোগ্য পর্যটন কর্মীরা পেশা পরিবর্তন করে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। ফলে পর্যটন শিল্পে দক্ষ ও যোগ্য কর্মীর অভাব দেখা দিবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মীরা এখন সম্পূর্ণ কর্মহীন রয়েছে। দীর্ঘ দিন হোটেল বন্ধ থাকার ফলে হোটেলে আসবাবপত্র এসিসহ মুল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া রেস্তোঁরার কর্মচারী, ঝিনুক ওয়ালা, বীচ হকার, জীপ গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপার, কিটকট কর্মচারী, শুটকী বিক্রেতা, বার্মিজ শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ বেকার রয়েছে। তাই আমরা মনে করি সব কিছু খুলে দিয়ে শুধু মাত্র কক্সবাজার পর্যটন সেক্টর বন্ধ রাখা অনুচিত।
তারা আরো বলেন, ইতোমধ্যে দেশের লক্ষাধিক মানুষ করোনা জয় করে সুস্থ হয়েছে। তাদের মানসিক প্রফুল্লতার জন্য তারা কক্সবাজার আসতে চায়। অনেকে ৪ মাস ধরে ঘরে বদ্ধ অবস্থায় থাকতে থাকতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। তারাও মানসিক সুস্থতার জন্য কক্সবাজারে আসতে চায়। তাছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লবণাক্ত হাওয়া করোনা প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা রাখে। তাই আমাদের দাবী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস সমূহ খুলে দেয়া হউক। পাশাপাশি হোটেল কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-বোনাস প্রদান, কর্মচারীদের কাজে বহাল ও চাকুরীর নিশ্চয়তা প্রদানেরও দাবী জানাই আমরা।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইতোমধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের হোটেল গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৫টি বিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাসমূহ খুলে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। একই বিধি মতে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা।
করোনার কারণে হোটেল কর্মচারীদের বেতনভাতা গত ৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে সুদমুক্ত ঋণ দাবী করেছে হোটেল মালিকরা। পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রসমূহ খুলে দেওয়ার দাবী তুলেছেন তারা।
ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ ট্যুরিজম সার্ভিসেস এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন- গত চার মাস ধরে হোটেল-মোটেলসমূহ বন্ধ থাকায় মালিকপক্ষ ব্যাপক লোকসানের শিকার হয়েছে। এখন এই লোকসান পুষিয়ে আনতে পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসায়ীদের সুদমুক্ত ঋণ দেয়া ও বেকার হওয়া কর্মচারীদের রেশনভুক্ত করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেছি।
তিনি দাবী করেন, করোনা লকডাউনের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প দৈনিক ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং গত চারমাসে এ ক্ষতির পরিমাণ ১২শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে গেছে। পাশাপাশি ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোন রকমে বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া সাগরপাড়ের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের মালিক-কর্মচারী মিলে আরো লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার দাবী জানান তিনি।
এবিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, পর্যটন কেন্দ্র ও পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঈদের পরেই খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে হোটেল মোটেল মালিক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ঈদের আগে খুলে দেয়ার দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি দেয়া হলে তা যথাযথভাবেই প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পৌঁছে দেয়া হবে।
এছাড়া হোটেল মালিক-কর্মচারীদের জন্য কোন ধরনের প্রণোদনা পাওয়া গেলে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT