কক্সবাজারে সর্বত্র মশার উপদ্রব বেড়েছে

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২০
  • 87 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার পৌর এলাকা সহ সর্বত্র মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে আবারো ডেংগু সহ মশা জনিত অন্যান্য রোগ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে সর্বস্থরের মানুষ। সাধারণ মানুষের দাবী কয়েক মাস আগে ডেংগু নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার কারনে মশার উৎপাত কিছুটা কম ছিল এতে অনেকটা সস্তি পাওয়া গেলেও এখন আবারো মশার উপদ্রব বেড়েছে। তাই দ্রæত কর্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
কক্সবাজার পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের হাঙ্গর পাড়ার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন,গত কয়েকদিন ধরে মশার উৎপাত খুব বেড়েছে। এতে রাতে দিনে শান্তিতে ঘরে থাকতে পারছিনা। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে পারিনা মশার কারনে। তিনি জানান,ঘরে ছোট বাচ্চা আছে এদের নিয়ে মহা সমস্যায় আছি তাই মশা নিধনে খুব দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।একই দাবী করেন পেশকার পাড়ার বাসিন্দা নাছিমা বেগম তিনি বলেণ,আমাদের এলাকা যে পৌর এলাকার একটি পাড়া সেটা বুঝায় যায়না। এখানে সব দিকে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়,রাস্তার ময়লা ৭দিনেও পরিষ্কার করা হয়না। আর নালাতো পরিষ্কার বছরেও হয়না তাই এখানে মশার উৎপাত সব চেয়ে বেশি। মাঝ খানে কিছুদিন সস্তিতে থাকলেও সম্প্রতী মশার উপদ্রব বাড়ায় আমরা মারাতœক অসুবিধায় আছি। শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার কলেজ ছাত্র সোয়েব নুর বলেন,এখন কলেজের পরীক্ষা চলছে একটু রাত জেগে পড়তে চাইলেও মশার উৎপাতের কারনে বসা যায়না। আর রাতে ঘুমাতে গেলেও মশার কারনে ঘুমাতে পারিনা।
৬ নং ওয়ার্ড এলাকার বড়–য়া পাড়া এলাকার সোলাইমান বলেণ,ঘরে ছোট বাচ্চা থাকায় রুমে মশার কয়েল ও বেশি দেওয়া যায়না কারন ডাক্তাররা বারণ করেছে ছোট বাচ্চার যাতে মশার কয়েলেও ধুয়া বেশি না লাগেএতে সর্দিকাশি সহ অনেক রোগ হতে পারে। আবার মশার কয়েক ছাড়া এখন রাতে ঘুমানোটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি জানান,আমরা ছোট বেলায় দেখেছি পৌরসভার পক্ষ থেকে ঘরে ঘরে এসে মশার বিষ মারতো। এখন সে সব কর্মসূচী নাই। আর নালা নর্দমা পরিস্কার করার নাম নেই তাই মশার উৎপাত বেড়েছে। কিছুদিন আগে ডেংগু নিয়ে ব্যাপক দৌড়ঝাপের কারনে সব নালাতে কিছুটা বিষ মারা হয়েছিল তবে এখন আবার মশার উৎপাত বেড়েছে।
এদিকে শুধু পৌরসভা বা অন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্টানের উপর দোষারুপ না করে নিজেদের বাড়ির আশপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিজেদের নিতে হবে জানিয়ে সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী বলেণ,আমরা শুধু অন্যদের দোষারোপ করি এই সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে,এখনো বেশির ভাগ মানুষ বাড়ির ময়লা রাস্তায় ফেলে যায়,নিজের বাড়ির পাশের নালা ঠিতমত পরিস্কার রাখেনা। তবে হ্যাঁ যারা দায়িত্বশীল প্রতিষ্টান তারাও ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছেনা। ডেংগু একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এটা বহুদিনের সৃষ্টি আগে থেকে দায়িত্বনিয়ে কাজ করলে এই পরিস্থিতি সৃস্টি হতো না। তাই পরিস্থিতি ভয়াবহ না হওয়ার আগে মশার উপদ্রব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ ব্যপারে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন বলেণ,শীত কালে সাধারণত মশার উপদ্রব একটু বাড়ে,তবে অপরিস্কার পরিবেশ এবং জমানো পানি থেকে মশার সৃষ্টি হয়। তাই মশা নিধনের চেয়ে মশার জন্মস্থান ধ্বংস করতে পারলে সবার জন্য উপকার হবে। আবার মশার কয়েল স্প্রে সহ যাবতীয় কিটনাশন ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বণ করতে হবে। কারন এসব কিছুর মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ে। তাই রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারী টাঙ্গানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেণ,পৌরসভা এখন যথেষ্ট ফগার মেশিন সহ যাবতীয় সরাঞ্জাম আছে তাই মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা কোন বিষয়না সে বিষয়ে দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT