কক্সবাজারে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে রমরমা সিজার বানিজ্য

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১, ২০১৯
  • 96 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে চলছে রমরমা সিজার বানিজ্য। শুধু মাত্র ডেলিভারী রোগির সিজার করানোকে কেন্দ্র করেই টিকে আছে বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতাল। তারা নিজেরাই স্বিকারকরছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে মূলত আয়ের প্রধান উৎস সিজার রোগি। প্রতিটি সিজারের জন্য সর্বনি¤œ ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে হাসপাতাল গুলো। মূলত ডাক্তারদের কথায় এবং হাসপাতাল গুলোতে নরমান ডেলিভারীর জন্য চেস্টা না করে টাকা আয় করার মানসিকতার কারনেই বেশির ভাগ মহিলার সিজার হচ্ছে বলে মনে করেন ভোক্তভোগীরা।
কক্সবাজারের সব কটি প্রাইভেট হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,নরমাল ডেলিভারীর ৪ গুন সিজার হচ্ছে নিয়ত। আর প্রতিটি সিজার করতে সর্বনি¤œ ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকাও আদায় করছে হাসপাতাল গুলো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জুন মাসে ডিজিটাল হাসপাতালে নরমান ডেলিভারী হয়েছে ৭ জনের কিন্তু সিজার হয়েছে ৪১ জনের। তবে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে আল ফুয়াদ হাসপাতাল আর জেনারেল হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাদের দেওয়া তথ্য মতে জুন মাসে আল ফুয়াদ হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ২০ জনের আর সিজার হয়েছে ২৬ জনের,মে মাসে নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ১৯ জনের আর সিজার হয়েছে ২৩ জনের তবে একই হাসপাতালের অপরেশন থিয়েটারে দায়িত্বরত ২ জন কর্মচারীর কাছ থেকে জানা গেছে এটা মিথ্যা তথ্য এখানে ১০০ সিটের হাসপাতাল জেলার সব চেয়ে বেশি সিজার হয় এখানে। দৈনিক অন্তত ২/৩ টি সিজার হয়। অনেক সময় আছে ৭ টাও হয়েছে। সে হিসাবে আমাদের ধারনা মতে মাসে সিজারের সংখ্যা অন্তত ১০০ র কাছাকাছি হবে। একই ভাতে জেনারেল হাসপাতাল থেকে দেওয়া তথ্য মতে জুন মাসে নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ৩২ টি আর সিজার হয়েছে ৪১ টি। একই ভাবে উক্ত হাসপাতালের বেশ কয়েক জন নার্সের সাথে বলে জানা গেছে এটা সঠিক না এখানে বেশির ভাগই সিজার হয়ে। কারন সিজার না হলে হাসপাতাল চলাই কঠিন হয়ে পড়বে। এখানে মাসে অন্তত ৬০/৭০ টি সিজার হয়। এদিকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদের কাছে ডেলিভারীর তথ্য চাইলে তিনি তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান। তবে এই হাসপাতালে দৈনিক বেশ কয়েকটি সিজার হয় বলে জানান কর্মচারীরা। অন্যদিকে সব চেয়ে বেশি সিজার হয় সী সাইড হাসপাতালে। সেখান কার কর্মচারীদের দেওয়া তথ্য মতে এখানে সব সিটে ডেলিভারী ও অপারেশন রোগি। ডাক্তাররা চুক্তি করে এখানে আনে উনারা এখানে অপারেশন করে সেটা দিয়েই হাসপাতাল চলে। তবে এখানে বেশির ভাগ রোগি সিজার করাতেই ভর্তি হয়।
এ ব্যপারে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন,আমাদের রামু হাসপাতালে মাসে ৮০ থেকে ১০০ টি নরমাল ডেলিভারী হয়। এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে প্রায় ২০ টি নরমাল ডেলিভারী হয়। এখানে কোন সিজার হয়না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,মেডিকেল নিয়ম অনুযায়ী নরমাল ডেলিভারীর চেয়ে সিজার কিন্তু ভাল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অপারেশন করতে গিয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তখন বিপদ। আবার ২/৩ টা বাচ্চা নেওয়ার পর মহিলাদের নানান ধরনের বাহ্যিক সমস্যা দেখা যায় তখন এটা স্থায়ী সমস্যা হয়ে উঠে।
এদিকে কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতালের এক নারী পরিচালক জানান,বেশির ভাগ সময় দেখা যায় মহিলারা ইচ্ছা করেই সিজার করছে কারন তারা ব্যাথা সহ্য করতে রাজি না।আবার অনেক সময় বাচ্চা জটিল অবস্থায় থাকার কারনে বাধ্যতামুলক সিজার করতে হচ্ছে। তবুও আমরা চাই সিজারের সংখ্যা কমে আসুক।
এ সময় পাশর্^বর্তি সেন্ট্রাল হাসপাতালে এক ভর্তি রোগির স্বজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তার বোনের এটা প্রথম বাচ্চা স্বামি সৌদি আরব থাকে। এতদিন একজন নারী চিকিৎসকের পরামর্শে ছিল,ডেলিভারীর সময় আরো বাকি আছে এখন ডাক্তার বলছে বাচ্চার অবস্থা খারাপ তাই সিজার করে বাচ্চা নিয়ে ফেলতে হবে সেজন্য সিজার করাচ্ছি।
উখিয়ার আব্বাস উদ্দিন বলেণ,আমি সিআইসিতে গাইনী ডাক্তার দেখাতে এসেছি। আমার ২ বাচ্চা দুটাই সিজার হয়েছে। এখন স্ত্রীর সব সময় কোমর ব্যাথা,সুজা করে দাড়াতে পারেনা সব সময় সমস্যা লেগেই থাকে সে জন্য ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এরকম আরো বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা সবাই আগে সিজার করিয়েছে এখন নানান ধরনের শারিরিক জটিলতায় ভুগছে। উল্লেখ্য ২৩ জুলাই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক ডাক্তারদের সাথে মত বিনিময় কালে অপয়োজনীয় সিজার বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। এখন সেটার বাস্তবতা দেখতে চায় জেলাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT