শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে দূর্গা পূজায় হামলা প্রতীমা ভাংচুরের প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন বিদেশে যেতে চায় মুহিবুল্লাহ‘র পরিবার পাহাড়তলীতে বেলালের গ্যারেজে আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা কাপ্তাইয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না সৌদিতে বিনা শুল্কে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানীর নির্দেশ দিলেন অতিরিক্ত বানিজ্য সচিব পাহাড়তলীতে গ্যারেজের আড়ালে চলছে ইয়াবা ব্যবসা টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াবা নিয়ে সহযোগি সহ ঢাকায় আটক পাঁচ কেজি আইসসহ টেকনাফ সিন্ডিকেট প্রধান ঢাকায় আটক পেকুয়ায় ত্রিভূজ প্রেমের বলি দুই প্রেমিক-প্রেমিকা

জমি বেচাকেনার অনুমতি নিতে চরম হয়রানীতে অতিষ্ট মানুষ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১
  • 386 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এলাকার বশির আহামদ (৫২) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ১৭ দিন আগে নিজের ১০ শতক জমি বিক্রি করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে আবেদন করেছেন। তিনি জানান,আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে সেখানে খরচ জোগাড় করতে নিজের কিছু জমি বিক্রি করতে হচ্ছে পার্শ¦বর্তি একজন জমি কিনতে রাজি হয়েছে তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমতি না পাওয়ায় বিক্রি করতে পারছিনা আর মেয়ের বিয়ের তারিখও দিতে পারছিনা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা বলছে চকরিয়া ভুমি অফিসে যোগাযোগ করতে, এর মধ্যে চকরিয়া ভুমি অফিসেও যোগাযোগ করেছি তারা নানান ব্যাস্ততার কথা বলে এখনো কোন কাগজে সই করেনি। এর মধ্যে আমার ৮/১০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েগেছে। ঝিলংজা মোক্তারকুল এলাকার মৃত রমজান আলীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন,আমার স্বামী চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে মৃত্যু বরণ করেছেন। স্বামীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সহ অনেক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছিলাম কিন্তু রোগ ভাল না হওয়ার আত্বীয় স্বজনের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত নিতে চাইলে বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন হয়,সে হিসাবে পাসপোর্ট করেছি কিন্তু টাকা যোগাড় করতে কিছু জমি বিক্রি করতে চাইলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমতি নিতে গিয়ে যে হয়রানীর শিকার হয়েছি তা ভাষায় বলার মত নয়। শুনেছি সেখানে টাকা দিলে সব কিছু হয়। তাই আমি এক মুন্সির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকাও দিয়েছি পরে শুনেছি ফাইল নাকি উপজেলা ভুমি অফিসে গেছে সেখান থেকে অনুমতি আনতে আরো টাকা লাগবে এর মধ্যে স্বামীর অসুখ আরো বেড়ে গেলে আর নেওয়া হয়নি। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইনানী এলাকা মোজাফ্ফর আহামদ বলেণ,সাগরপাড়ের বাসিন্দা হয়ে আমরা জন্মগত অপরাধ করেছি তাই ইনানী মৌজার কোন খতিয়ান তুলতে গেলে তুলা যায়না। আর জমি বিক্রি করতে গেলেতো মনে হয় পাপ করেছি। কিছুদিন আগে আমার জমি বিক্রি করতে গেলে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে অনুমোদন নিতে হয়েছে। এখন আমার বোন কিছু জমি বিক্রি করতে চাইলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ফাইল জমা দেওয়ার পরে জানতে পেরেছি বর্তমান জেলা প্রশাসক নাকি লিখিত আদেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভুমি অফিস থেকে অনুমতি হয়ে আসলে তার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দেবে। তিনি জানান,এতে মানুষের হয়রানীর শেষ নেই একই সাথে টাকাও দ্বিগুন খরচ হচ্ছে। টেকনাফ শাহপরীদ্বীপ এলাকার আবুল কাশেম বলেন,আমার মেয়ের জামাতা প্রবাসী সে একটি জমি কিনতে চাইলে অনুমোদনের জন্য ১৭ দিন আগে জমা দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে তার বিদেশ যাওয়ার সময় হয়ে গেছে তাই জানিনা জমি কিনতে পারবো কিনা। এ ব্যপারে খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি বেনাকেনার উপর নিষেধাজ্ঞার কারনে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন যাবত চরম হয়রানী হয়ে আসছে অন্যদিকে কারন বড় বড় গ্রæপ বা ক্ষমতাবানদের সব কাজ সহজে হয়ে যায়। তাই আমার মতে দ্রæত জমি বেচাকেনার অনুমোদন নেওয়ার বিষয়েটি তুলে দেওয়া দরকার। আর থাকলেও সুনির্দিষ্ট কিছু দাগের উপর হওয়া উচিত।
এদিকে জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,২০১২ সালের ২০ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১১৮ নাম্বার স্বারকমূলে সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত কক্সবাজারের ৩৩ টি মৌজার জমি বেচা কেনা করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের নির্দেশ গ্রহন করার একটি পত্র আসে। যা জেলার কক্সবাজার সদর,রামু,উখিয়া,টেকনাফ,এবং মহেশখালী পর্যন্ত বিস্তৃত এতে প্রায় ১২ লাখ মানুষ ৮ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে আছে। সেই থেকে অদ্যবদি এই ব্যাবস্থা চালু আছে বলে জানান তারা। মৌজা গুলো হল(ধলঘাটা,পুটিবিলা,ঠাকুরতলা,কক্সবাজার,ঝিংলজা,তেতৈয়া,খুরুশকুল,পাতলীমাছুয়াখালী,খরুলিয়া,তোতকখালী,ভারুয়াখালী,চাইন্দা,জঙ্গলখুনিয়াপালং,পেচারদ্বীপ,ধোয়াপালং,েেগায়ালিয়া পালং,জঙ্গল গোয়ালিয়া পালং,জালিয়া পালং,রুমখা পালং,মরিচ্যা পালং,উখিয়ারঘাট,পালংখালী,ঘুমধুম,ইনানী,শিলখালী,বড়ডেইল,লেঙ্গুরবিল,টেকনাফ পৌরসভা,শাহপরীরদ্বীপ,সাবরাং,উত্তরনিলা,জিনজিরারদ্বীপ) এই পত্র থেকে জানা গেছে পরিকল্পিত নগরায়ন ও পর্যটন মহাপরিকল্পনা সুষ্টভাবে বাস্তবায়নের নিমিত্তে কক্সবাজার টাউন এন্ড সী-বীচ আপ টু টেকনাফ মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকার অর্ন্তভূক্ত নি¤œ বর্ণিত মৌজার জমির ক্রয়-বিক্রয় এবং কোনরুপ স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যাণ প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে। এখানে স্পষ্ট উল্লেখ্য আছে মাস্টারপ্ল্যাণ না হওয়া পর্যন্ত অথচ কক্সবাজারের জন্য মাস্টাপ্ল্যান সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে ২০১৩ সালের ৬ মে। এ ব্যপারে কক্সবাজার নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা(ট্রেসার) বদরুল আলম বলেন,আমরা বর্তমানে কক্সবাজারের জন্য প্রণিত মাস্টারপ্ল্যাণ অনুযায়ী কাজ করছি যেটা ৬ মে সোমবার ২০১৩ সালের অনুমোদন হয়। এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় পরিকল্পনা শাখা-৩ কতৃক ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। যা মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী প্রধান মোঃ গোলাম মোছাদ্দেক প্রকাশ করেন। যার কপি আমাদের দপ্তর সহ কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রয়েছে। এদিকে কক্সবাজারে জমি বেচাকেনার অনুমোদন নেওয়াকে অভিশাপ বলে মনে করেন কক্সবাজারের আইনজীবি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, তিনি বলে,আমার জানা মতে বাংলাদেশের কোন জেলায় ব্যাক্তি মালিকানাধীণ জমি বেচা বিক্রি করতে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়না। শুধু ব্যাতিক্রম কক্সবাজার,দেশের অন্যজেলায়তো অনেক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে? আর যে মাস্টারপ্ল্যানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে সেখানে প্রভাবশালীরা প্রতি নিয়ত ইমারত নির্মাণ করছে। ক্ষতিগ্রন্থ হচ্ছে শুধু গরীব অসহায় স্থানীয় বাসিন্দারা। কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমজান আলী বলেন,ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি বেচাবিক্রিতে সরকারের অনুমোদন নেওয়া মানে কক্সবাজারের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্বকরা। এটা কোন ভাবেই কাম্যনয়, আমার মতে দ্রæত এই আদেশ প্রত্যাহার করা দরকার। এপিপি এড,তাপস রক্ষিত বলেন,জমি বেচাকেনার অনুমোদন নিতে গিয়ে কোর্ট বির্ল্ডি চত্তরে অনেক দালাল এবং প্রতারক চক্র তৈরি হয়েগেছে যারা গ্রামের সহজ সরল মানুষদের হয়রানী করে। আমার মতে নিজের জমি নিজে বিক্রি করতে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়াটা মোটেও কাম্য নয় কারন প্রশাসনের অনেক ধরনের কাজ থাকে সেখানে জমির মালিকানা বা সত্বঠিক করার মত কোন কাগজ পত্র তাদের দেখার সময় এবং সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয়না।এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে কোন ব্যাক্তি জমি বেচাকেনার আবেদন করতে চাইলে তাকে অনেক ধরনের কাগজ পত্র দিয়ে সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসকের এল,আর ফান্ডে ১ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাইরের কম্পিউটারের দোকান থেকে ষ্টাম্প এবং ফরম করতে ৪০০ টাকা খরচ করে জমা দিতে হয়। এর বাইরে আছে বাড়তি খরচ।
এ ব্যপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন,ব্যাক্তি মালিনাধীন জমি বেচা কেনার বিষয়ে সত্ব বা মালিকানা যথাযত আছে কিনা সেটা সঠিক ভাবে জানার জন্য উপজেলা ভুমি অফিসে পাঠানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানী হচ্ছে কিনা সেটা আমি বলতে পারবো না তবে সেখানে যাতে কেউ হয়রানী না হয় এবং দ্রæত মানুষ যাতে সেবা পায় সে বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল থাকবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT