শিরোনাম :

ওসি প্রদীপের অন্যতম সহযোগি চকিদার আবছার এখন কোটি পতি

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০
  • 1146 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

বার্তা পরিবেশক
টেকনাফের আলোচিত ওসি প্রদীপ আটকের পর বেরিয়ে আসছে তার প্রেতাত্বাদের নাম। এ কর্মকর্তার আর্নিং সোর্স হিসাবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত টেকনাফ ৩নং সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চকিদার নুরুল আবছার। পুরো ৩ নং ওয়ার্ডজুড়ে ছিল তার চরম আধিপাত্য। মামলা, বন্দুক যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে এ চকিদার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে সাধারণ মানুষ, জেলে ,সিএনজি চালক, প্রবাসিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। প্রদীপ আটকের পর অনেক ভুক্তভোগি সাংবাদিকদের চকিদার কর্তৃক হয়রানির বিষয়টি জানান। গেল ২২ মাসে প্রদীপের সাথে কালো টাকার মালিক বনে চকিদার আবছার ১৫টি টমটম, প্রায় ১২৩ শতক জায়গাসহ অপ্রদর্শীত লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে। চকিদারের হাতে মামলা ও হয়রানি হয়ে মামলা থেকে বাছতে টাকা দেয়া কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম হলো তুলাতলির বসরের কাছ থেকে নিয়েছে ৪ লাখ টাকা, দ.ল্ঙেুর বিলের আমিনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, একই এলাকার ইউনুচের কাছ তেকে ২ লাখ টাকা, জেলে জহিরের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং প্রতিািদন মাছ দিতে হয়। একই এলাকার কিশোর জিয়াউল হকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দাবি করে টাকা দিতে না পারায় ৬টি বন্দুক যুদ্ধের মামলায় নাম টুকে দেয় চকিদার আবছার। দ.লম্বরির আবদুল্লাহ সওদাগর তাদের দাবীকৃত টাকা দেওয়ার পরও ৩০০ পিচ ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে চালান দেয়। এছাড়া চকিদার আবছারকে মাসোহারা না দেওয়ায় বন্দুক যুদ্ধের মামলায় আসামি করা হয় ১০/১২ জনকে। তার হাতে হয়রানি ও টাকা না দেওয়ায় মামলার শিকার হয়েছে এমন একজন নুরুল আমিন জানান, আমি প্রতিমাসে চকিদারকে টাকা দিতাম। টাকা না দিলে বাড়িতে পুলিশ এনে হয়রানি করত। আমার ভাইকে ইয়াবা মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হয়রানির কারনে আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিতাম চকিদারকে। পরে ২ মাস টাকা না দেওয়ায় বন্দুক যুদ্ধের ৪ টি মামলায় আমাকে আসামি করে চকিদার । পুলিশ তার কাছ থেকে টাকা নিত প্রতিমাসে। টাকা না দিলে রেহায় পেতনা কেউ। স্থানীয় তোফায়েল, জহির, মুর্শেদ, দিদার,সুজন, নুরু, জিয়াউল হক, ফরিদুল আলমের স্ত্রীসহ অর্ধ শতাধিক লোক চকিদারের চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে। যারা তার দাবীর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করত রাতে তাদের বাড়িতে পুলিশ লেলিয়ে নানা হয়রানি করত চকিদার আবছার।
চাঁদাবাজি, মামলা এবং হয়রানির বিষয়ে জানার জন্য চকিদার আবছারকে কল করলে উল্টো চ্যালেন্জ করে চকিদার জানায়, পুলিশ আমার কাছ থেকে খালী সাদা কাগকে স্বাক্ষর নিয়ে রাখত। পরে এগুলো দিয়ে হয়ত মামলা দিত। আমি প্রায় ২০০ সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছি হয়ত এ গুলো দিয়ে মামলা করত। তবে আমি কাউকে হয়রানি করিনি এবং চাঁদা গ্রহন করিনি।
চকিদার আবছারের অপকর্ম এবং পুলিশের গণহারে চাঁদাবাজির অন্যতম স্বাক্ষি হতে পারে এই চকিদার। তাকে গ্রেফতার করলে সাবেক ওসি প্রদীপের অনেক অবৈধ আয়ের পথ এবং মাসোহারার খবর পাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়কারি চকিদার আবছারের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT