শিরোনাম :

এ ভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হলে মেরিন ড্রাইভ হুমকির মুখে পড়বে- এমপি কমল

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২০
  • 226 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
উখিয়ার ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপের সামনে সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিত করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের বিষয়ে কক্সবাজার জেলাবাসীর ক্ষোভ, মনের ভাষা ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার কথা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
সমুদ্র সৈকতে বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদের সভাপতিত্বে কউক এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় নৌবাহিনীর চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহ আলম এ কথা বলেছেন। ক্যাপ্টেন শাহ আলম আরো বলেন, পরিবেশের ক্ষতি হবে, সমুদ্রে সৈকতে ভাঙ্গন ধরবে, সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হবে-এমন কোন কাজ নৌবাহিনী কখনো করবে না। কক্সবাজারবাসীকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন-রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানটির জন্য এ বাঁধটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। সভায় কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, এ ভাবে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন পরিবেশের বিন্দু পরিমাণ ক্ষতি হয়, এমন কাজ কক্সবাজারে করা যাবেনা। তবে একটি আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানের জন্য যে বাঁধটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছিলো, সেটি হোটেল রয়েল টিউলিপের সামনে সমুদ্র সৈকতে না করে বিকল্প হিসাবে রেজুখালের মোহনায় যেখানে নৌবাহিনীর জমি রয়েছে, সেখানে জেটি করার প্রস্তাব করেন তিনি। নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রেখে তাঁর প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনি আরো বলেন, সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিত করে নির্মাণাধীন বাঁধটির কারণে হয়ত সমুদ্র গতি পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভের ভয়াবহ ভাঙ্গন ধরাতে পারে।
সভায়, কউক চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, এই বাঁধ নির্মাণে নির্মাণকারী সংস্থা নৌবাহিনী তাদের অনুমতি নেয়নি। সমুদ্র সৈকতে অনুমোদনহীন বাঁধ নির্মাণ মেনে নেওয়া যায়না। মুক্তিযুদ্ধকালীন জয়বাংলা বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন হলে যেকোনো কাজে কক্সবাজারবাসী সহযোগিতা করতে রাজি। তবে পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। আমাদের গর্ব দীর্ঘ সৈকত খন্ডিত করে নয়।
সভায় কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, বাঁধ নির্মাণ না করতে নৌবাহিনীকে তাঁর অফিস ও চট্টগ্রাম অফিস থেকে পত্র দেওয়া হয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী,সিভিল সোসাইটিজ ফোরামের সম্পাদক আ ন ম হেলাল উদ্দিন, বাপার
সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুর রহমান খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক শামশুল হক শারেক, সাংবাদিক সাঈদ আলমগীর, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল মামুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় ডিজিএফআইয়ের সিও কর্নেল আবুল হাসনাত চৌধুরী, নৌবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ মিনহাজ সহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রত্যেকে তাঁদের বক্তব্যে উখিয়ার ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপের সামনে সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিত করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াইঘন্টা এ সভা চলে। সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা উখিয়ার ইনানীতে হোটেল রয়েল টিউলিপের সামনে সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখন্ডিত করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের ৩৫ টি দেশের নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বঙ্গোপসাগরে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি মহড়া প্রদান অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত এ বাঁধটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। এই আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT