শিরোনাম :
মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন উপলক্ষ্যে ঈদগাঁওতে ১ হাজার ৫শ জনের মাঝে টিকা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা সিনহা হত্যা মামলার চতুর্থ দফা সাক্ষ্যগ্রহন শুরু উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন

এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গেছেন অনেকেই

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০
  • 237 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

শফিউল্লাহ শফি, থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে টেকনাফের মারিশবুনিয়ায়। সিনহা মো. রাশেদ হত্যার পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে টেকনাফের মারিশবুনিয়ায়।প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির। ফলে সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী অনেক পরিবার ঘরে তালা লাগিয়ে এলাকা ছেড়ে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।মারিশবুনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে অনেকেই কথা বলতে রাজি হননি। আবার যারা কথা বলেছেন, তারা নাম বলতে চাননি।তাদের ভাষ্য, নতুন করে কোনো কথা বলে আর ঝামেলায় জড়াতে চান না। প্রতিদিন রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান ও তার সঙ্গী সিফাত তথ্যচিত্র তৈরির জন্য যে পাহাড়ে উঠেছিলেন, সেটি মারিশবুনিয়া এলাকায় অবস্থিত।টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের এ মারিশবুনিয়াসহ মাথাভাঙ্গা, হামজরপাড়া গ্রামের বেশিরভাগ বসতিই পাহাড়ের পাদদেশে। এ এলাকাগুলোর বাসিন্দা সাইফুল, হোছেন আহমদ, মো. রফিক, মো. ও শফি উল্লাহ, সাইফুলসহ অনেকের ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।গত কয়েকদিন ধরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে পুলিশের মামলার সাক্ষী ও র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া নুরুল আমিনের বাড়িতেও।দিকে বর্তমান পরিস্থিতি ৩১ জুলাই টেকনাফের মারিশবুনিয়ায় কি ঘটেছিল তা নিয়ে কথা হয় মারিশবুনিয়া গ্রামের মাথাভাঙ্গা জামে মসজিদের ইমাম জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিন সিনহা হত্যা মামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী।জহিরুল যুগান্তরকে বলেন, ৩১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে সেনাবাহিনীর মতো পোশাক পরা একজনসহ ব্যাগ নিয়ে পাহাড়ে ওঠেন দু’জন।পথিমধ্যে সেনাবাহিনীর কাপড় পরা লোকটি সালাম বিনিময়ও করেন। আসরের নামাজ শেষ করে এশা পর্যন্ত আমি (জহিরুল) মসজিদেই ছিলাম। কিন্তু এশার নামাজের সময় স্থানীয় আয়াজ উদ্দিন ও নুরুল আমিন পাহাড়ের দিকে যান। যাওয়ার সময় কথা হয় তাদের সাঙ্গে।তারা দু’জন জানান, পাহাড়ে ডাকাত উঠেছে। এটা শোনার পরপরই আমি (জহিরুল) বলেছি পাহাড়ে কোনো ডাকাত উঠেনি। যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, তারা প্রশাসনের লোক।একজনের গায়ে সেনাবাহিনীর মতো পোশাক দেখেছি। আমি (জহিরুল) নিশ্চিত তারা ডাকাত নন। এটা বলার পর আমাকে (জহিরুল) চ্যালেঞ্জ করে আয়াজ উদ্দিন ও নুরুল আমিন। পরে আমার (জহিরুল) টর্চ নিয়ে পাহাড়ের দিকে আলো ফেলে খুঁজতে থাকেন আয়াজ।এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর সেখানে হাজির হন যে পাহাড়ের ডাকাত নিয়ে আলোচনা চলছিল ওই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মো. ইউনুস।ইউনুস বলেন, যাদের ডাকাত বলে মনে করা হচ্ছে, তারা আদৌ ডাকাত নন। দিনের আলো থাকতে পাহাড়ের বিভিন্ন লোকেশন থেকে তারা ছবি তুলছিলেন। কিন্তু ইউনুসের কথাও আমলে নেননি আয়াজ ও নুরুল আমিন।একপর্যায়ে পাহাড়ে ডাকাত উঠার খবর মসজিদের ইমাম জহিরুলকে মাইকে প্রচার করার অনুরোধ জানান আয়াজ আর নুরুল আমিন। কিন্তু তা করতে করতে রাজি হননি জহিরুল।এতে ব্যর্থ হয়ে উত্তর মারিশবুনিয়া উম্মুল কোয়া জামে মসজিদ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ে ডাকাত এসেছে বলে গ্রামবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে দু’জনই খবর দেয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীকে।জহিরুল আরও বলেন, নুরুল আমিন ও আয়াজকে জোর দিয়ে বলেছিলাম, পাহাড়ে লাইট মেরে দেখার দরকার নেই। তারা ডাকাত নন। কিন্তু কোনো ভাবেই মানতে নারাজ তারা দু’জন। তাদের সিদ্ধান্তে তারা অনড় ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী মেরিন ড্রাইভ চেকপোস্টে যান। সেখানে তার গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান মারা যায়। জহিরুল বলেন, পুলিশের করা মামলায় আয়াজ ও নুরুল আমিনকে সাক্ষী করার কথাও শুনি। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকার সবাই মর্মাহত হন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, আয়াজ উদ্দিন ও নুরুল আমিন দু’জনই পুলিশের সোর্স হিসেবে এলাকায় কাজ করে। যে কারণে তাদের পুলিশের মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।এছাড়া পুলিশকে খবর দেয়া এবং মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে ঘোষণা দেয়ার নেপথ্যে ছিলেন তারা দু’জন। তারা কখনও এ ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না।র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ১১ আগস্ট পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী মো. আয়াজ, নুরুল আমিন ও নিজাম উদ্দিনকে আটকের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। যে কারণে তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা বর্তমানে জেলা কারাগারে আছেন বলে জানায় র‌্যাব সূত্রটি।এদিকে পাহাড়ে ডাকাত উঠেছে বলে উত্তর মারিশবুনিয়ার যে মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছিল ওই মসজিদের ইমাম মুক্তার আহমেদ বলেন, ৩১ জুলাই তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় এশার ফরজ নামাজ আদায় করে বাসায় ফিরে যান তিনি। তবে মসজিদে আসার আগেই মাইকে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে ঘোষণা শুনতে পান তিনিও।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT