এক রোহিঙ্গা সোলতান আহামদ থেকে তিন প্রজন্ম

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
  • 393 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুব রহমান.
সোলতান আহামদ মায়ানমার থেকে এসেছিলেন ১৯৮৫ সালের দিকে। প্রথমে এসে কক্সবাজার শহরে ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ বোট শ্রমিক হিসাবে জীবন শুরু করেন। তিনি এখন বার্ধক্য জীবন হলেও সেই রোহিঙ্গার এখন তিন পুরুষ কক্সবাজারে বিচরণ করছে। ছেলে মেয়ে নাতী নাতনী সহ অনেকে এখন কক্সবাজারের প্রতিষ্টিত। অনেকে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্টানে চাকরী করছে। এভাবেই রোহিঙ্গাদের বংশ বিস্তার হচ্ছে আর স্থানীয়রা দিন দিন অসহায় হয়ে পড়ছে রোহিঙ্গাদের কাছে। শহরের পাহাড়তলী ইসুলুঘোনা এলাকায় গিয়ে সুলতান আহামদ প্রকাশ ভান্ডানী সুলতান আহামদের সাথে কথা বললে তিনি নিজেই জানান,আমি ১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে বার্মা থেকে বোটে করে এসেছিলাম। এর পরে এখানে অনেক কাজ করেছি সংসার করেছি,আমি যখন এসেছে তখন এখানে কিছুই ছিলনা। সব পাহাড় জঙ্গল ছিল,এগুলো আমরা আবাদ করেছি। তিনি নিজেই স্বীকার করেন এখানে কয়েক হাজার বার্মা থেকে আসা লোকজন বসাবাস করছে। তার ছেলের নাম শাহআলম,নুরুল আলম,শামসুল আলম,জাফর আলম,আবু আলম,বদি আলম,শফি আলম বেশির ভাগই মাছ ব্যবসার সাথে জড়িত। তার নাতী নাতনীদের মধ্যে অনেকে এখন প্রতিষ্টিত মাহবু আলম নামের এক নাতী ঢাকাতে ইঞ্জিনিয়ার বলে জানান,আরেক নাতীর জামাই সাতকানিয়ার আলেম নুরে বাংলা বলে জানান। (নুরে বাংলা ইতি মধ্যে সরকার বিরুদ্ধে কর্মকান্ডের জন্য বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিল)। তিনি বলেন,আসলে সব রোহিঙ্গা খারাপ না,কিন্তু কিছু আছে জানোয়ার। বিশেষ করে বর্তমানে পাহাড়তলী সহ আশপাশে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে সবাই কোন না কোন রোহিঙ্গা ছেলে অথবা নাতী এর আগেও অনেকে এখানে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছিল তারাও রোহিঙ্গা ছিল। এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,সোলতান ভান্ডারী একজন থেকে অন্তত ১০০ জন প্রজন্ম হয়েছে। তারা এখন সবাই প্রতিষ্টিত। এভাবে আরো কয়েকটি পুরাতন রোহিঙ্গা পরিবার আছে যারা এখন প্রতিষ্টিত হয়ে সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর ফলে রোহিঙ্গারা সহজেই এখানে প্রতিষ্টিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আবার অনেক স্থানীয় তাদের ছেলে মেয়ে বা নাতী নাতনী বিয়ে করে আত্বীয়তা করেছে ফলে কেউ তাদের সাথে ঝামেলায় যেতে চায় না। পুরাতন রোহিঙ্গাদের তালিকা করে সরকার তাদের আইডি কার্ড বাতিল সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভাল হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কারনে আমাদের ছেলেমেয়েরা চাকরী পাচ্ছে না,তারা নামী দামী চাকরী করছে সেটাও বন্ধ হবে। এ ব্যপারে জেলা নির্বাচন অফিসার শাহাদত হোসেন বলেন,সরকার রোহিঙ্গা বিষয়ে বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছে। ইতি মধ্যে পুরাতন রোহিঙ্গাদের তালিকা করার ও কাজ চলছে। আশা করি সময়ে অনুযায়ী সব ব্যবস্থা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT