এক যুগ পর আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট কাম পাবলিক লাইব্রেরী

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২১
  • 198 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
অবশেষে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট কাম পাবলিক লাইব্রেরী। ইতি মধ্যে নব আঙ্গিকে শুরু হওয়া পাবলিক লাব্রেরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে তাই নতুন করে উৎসাহ উদ্দিপনা শুরু হয়েছে কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। সংশ্লিষ্ট্যদের দাবী ১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ আটকে থাকায় কক্সবাজারের সামগ্রিক সংস্কৃতি এবং রাজনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাবলিক লাইব্রেরী আবার পুরুদমে চালু হলে কক্সবাজারের সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গন পূর্নজীবিত হবে। তাই দ্রæত বাকি কাজ শেষ করার দাবী জানান তারা।
দীর্ঘ ১২ বছর প্রতিক্ষার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। তুলির আঁচড় ও নানা সাজ-সজ্জায় আধুনিকায়ন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শহীদ সুভাষ হল। কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি বহু জ্ঞানী-গুণী ও বরণ্য ব্যক্তিদের স্মৃতি বিজড়িত। এটি জেলার রাজনীতি ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।
কক্সবাজার থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব এড,তাপস রক্ষিত বলেন, ১৯০৫ সালে বিপিন বিহারী রক্ষিত এই পাবলিক লাইব্রেরীর জমি দান করেন। সেই থেকে এই পাবলিক লাইব্রেরী কাম ইনস্টিটিউট হয়ে উঠে কক্সবাজারের রাজনীতি,সাহিত্য,সাংস্কৃতির মুল স্থান। এই পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠকে ঘিরেই কক্সবাজারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য আন্দোলন সংগ্রামের শুরু এছাড়া সৈরাচার বিরুধী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই পাবলিক লাইব্রেরী। সর্বোপরি কক্সবাজারের রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, নাট্য বক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পরিচিতি এবং বেড়ে উঠা এই মাঠ থেকে। তাই দীর্ঘ ১২ বছর এই পাবলিক লাইব্রেরী বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী মার্চ মাসের দিকে এই পাবলিক লাইব্রেরী কাম ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন হলে নতুন করে আবারো জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন সজিব হবে।
কক্সবাবাজার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন জানান, শহীদ সুভাষ হল ঘিরে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নানা কর্মসূচিতে সমৃদ্ধ হতো সংস্কৃতি চর্চা। নাটক পাড়া হিসেবেও বেশ সুনাম ছিল ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি।
এছাড়া শহীদ দৌলত ময়দান ছিল রাজনীতি চর্চার উর্বর ভূমি। দাবা, ক্যারাম ও টেবিল টেনিস প্রেমীদের জন্যও পাবলিক হল ছিল মিলনকেন্দ্র। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রাণের এই মহান কেন্দ্রের সংস্কারের দাবি তুলেছিলাম আমরা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ এক যুগ আগে থেকে সংস্কার কাজ শুরু হলেও অবেহলা এবং নানা প্রতিবন্ধকতায় নিমার্ণ কাজ শেষ করতে পারেননি কোন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও সুভাষ হলের কাজ প্রায় শেষের পথে। ইতোমধ্যে শহীদ সুভাষ হলকে সাজানো হয়েছে নান্দনিক ডিজাইনে। শিগগিরই কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরিসহ শহীদ সুভাষ হল ও শহীদ দৌলত ময়দান ঘিরে আবারও চাঙা হয়ে উঠবে জেলার রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন। এমনই প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক সংগঠক ও রাজনৈতিক কর্মীদের।
সাংস্কৃতিক সংগঠক খোরশেদ আলম বলেন, কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি ঘিরে অনেক আবেগ ও ভালবাসা জড়িয়ে রয়েছে। সংস্কারে দেরি হওয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে এক প্রকার হতাশা বিরাজ করছিল। কিন্তু এখন হতাশা কাটিয়ে আঁধারে আলো আসবে।
কক্সবাজার সিটি কলেজের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্য নির্দেশক স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন,এক সময় ঢাকা চট্টগ্রামের পরে কক্সবাজারেই সব চেয়ে বেশি মঞ্চ নাটক হতো। এই নাটক চর্চার মধ্য দিয়ে স্থানীয় ছেলেমেয়েরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শানিত করতো। আর সহজ যোগাযোগ এবং কম খরচে নাটক করতে পারতো বলে নাট্যদল গুলোও ধারাবাহিকতা রাখতে পেরেছিল। কিন্তু ১২ বছরে সেই ধারার মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি করেছে। তাছাড়া বর্তমান ইন্টারনেট এবং আকাশ সংস্কৃতিক যুগে আবারো সেই মূল ধারায় ফিরে যাওয়া কঠিন হতে পারে তবে আমরা আশাবাদি চেস্টা করলে সফলতা আসবেই।
কক্সবাজার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের বদান্যতায় কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি আধুনিকায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি আবারও এখানে সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চর্চা পুরোদমে প্রাণ ফিরে পাবে। এই পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ ঘিরে রয়েছে আমার ব্যাক্তিগত অনেক আবেগ অনুভুতি বলতে গেলে সেই মাঠের দূর্বাঘাষেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার হাতেখড়ি। আমরা চাই আবারো দ্রæত প্রাণ ফিরে পাক প্রাণের এই প্রতিষ্টান।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT