শিরোনাম :
উখিয়ার রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুরের এনআইডি বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কলাতলীতে হোটেল দখলে নিতে তৎপর প্রতারক চক্র অবাধ তথ্য প্রবাহ দূর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে : সুজনের আলোচনা সভায় বক্তারা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১ জেলার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় কর্মরত রোহিঙ্গাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা বাতিলের দাবীতে আবেদন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর হাতে অপহৃত ৩ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব নাফ নদীতে অজ্ঞাত শিশুর লাশ উদ্ধার ১০ হাজার ইয়াবা সহ আটক ২ আইনজীবি হলেন স্বামী স্ত্রী জসিম উদ্দিন ও মর্জিনা আক্তার

ইসুলুঘোনাতেই ২ ডজন ইয়াবা কারবারী,যতধরে ততবাড়ে : উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, এপ্রিল ১৯, ২০২১
  • 697 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজার শহরের দিন দিন বেড়েই চলেছে মরণনেশা ইয়াবার বিস্তার। প্রশাসনের কঠোরতা সত্তে¡ও প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে ইয়াবা কারবারীর নতুন তালিকায় স্থানীয় উঠতি বয়সের যুবকরা। এছাড়া ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যাও আশংকা জনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা উদ্দ্যেশিত এলাকা বুহত্তর পাহাড়তলীকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট তার মধ্যে ছোট পাড়া ইসুলুঘোনাতেই রয়েছে অন্তত ২ ডজন ইয়াবা ব্যবসায়ি যার মধ্যে অনেকে পাইকারী আবার অনেকে খুচরা ইয়াবা কারবারী। রোজার দিনেও সন্ধ্যা হলেই ইসুলুঘোনাতে বসে ইয়াবার হাট। বিভিন্ন বাইরের এলাকা থেকে এসে কিনে নিয়ে যায় ইযাবা। সব কিছু দেখেই কিছুই বলার নেই স্থানীয় সচেতন মহলের কারন তাদের দাপটও বেশি। আবার কাউকে ধরে দিলে কিছুদিন পরে জেল থেকে বের হয়ে তার হামলার স্বীকার হতে হয়। তাই কেউ মুখ খুলতে চায়না। তবে ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে ইসুলুঘোনাকে ইয়াবা মুক্ত করার আহবান জানিয়েছে এলাকাবাসী।
শহরের পূর্ব পাহাড়তলীর বিভিন্ন লোকজনের দেওয়া তথ্য মতে ইসুলুঘোনাতেই বর্তমানে সকৃয় অন্তত ২ ডজন ইয়াবা ব্যবসায়ি। তার মধ্যে অন্যতম  লালু ভাড়াটিয়া প্রায় এক বছর আগে ইযাবা নিয়ে ধরা পড়ে জেল খেটে এসে বর্তমানে আবারো চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা।  স্ত্রী এরা প্রকাশ্য খুচরা বিক্রি করে গাইন্না পিতা লম্বা বাবুল তারা কাঠ মিস্ত্রির আড়ালে খুচরা ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। লাগাইয়া পিতা আনু মিস্ত্রি সে ইয়াবা ব্যবসা ছাড়া শহরের চুরি ছিনতাই অপহরণ সহ সব ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত। তানবির পিতা মোহাম্মদ হোসন মিকানিক এর আগেই জেল খেটে আসা এই তানবির বর্তমানে হোন্ডা নিয়ে চলাফেরা করে এবং নিয়মিত বাইরে থেকে ইয়াবা আনা নেওয়া সহ পাচার করে। সলিম পিতা দুলাল মাঝি তার নামে কয়েকটি ইযাবা মামলা আছে তবে বর্তমানে বেশ কৌশলে মোটা দাগের ইয়াবা পাচার করে। বুরিনি স্বামী মাছন পিতা কালা মিয়া এছাড়া আলমগীর,পাটোয়ারা,ইয়াছমিন এরা সবাই বরিনির পরিবারের সদস্য সবাই মিলে ভিন্ন কৌশলে চালাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। গেল বছর আলমগীর এবং শশুর বাড়ির লোকজন মিলে শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ায় প্রকাশ্য কপিয়ে বিডিআর ছৈয়দকে হত্যা করে পরে স্থানীয় এবং পুলিশি তদন্তেও উঠে এসে এই হত্যাকান্ডের পেছনে ইয়াবার টাকা ভাগভাটোরায়াই ছিল মুখ্য। জসিম পিতা আব বক্কর টুক্কু সে ইয়াবা বিক্রি ছাড়াই চুরি,ছিনতাই সহ নানান অপরাধের সাথে জড়িত সেও জেল ফেরত বলে জানান এলাকাবাসী। তার ভাই রাশেদ প্রকাশ কালা রাশেদ কিছুদিন আগে ইয়াবা বিক্রির টাকা ভাগভাটোয়ারা নিয়ে ভাইদের মধ্যে ব্যাপক মারামারিও হয়েছিল। সাদ্দাম পিতা মোহাম্মদ প্রকাশ মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ।সেই ইয়াবা বিক্রির বড় এজেন্ট বলে জানা গেছে। তার নিজস্ব অনেকে ছেলে আছে যারা প্রতিনিয়ত ৫ বা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইয়াবা আনা নেওয়া করে।এছাড়া মিজান প্রকাশ থাক মিজান পিতা থাক আবদুছালাম,রুবেল পিতা আবদুর রহিম ইয়াবার এজেন্ট বলে জানা গেছে। মামুন পিতা আবদুল হাকিম মাঝি বেশ কয়েকবার ঢাকাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে ফের ব্যবসা করে। আরিফ নাম করা ইয়াবা ব্যবসায়ি তার রয়েছে নিজস্ব অনেক সিন্ডিকেট,মনির আহামদ পিতা হাফেজ আহামদ তার ভাই জসিম কয়েক বার ইয়াবা সহ গ্রেফতারও হয়েছিল। তারাই এখন আবার নতুন করে ব্যবসা করছে।এছাড়া শামসু মিস্ত্রি মা এবং বোনও কিছুদিন আগে ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ পাহাড় এলাকার বড় ইয়াবা ডিলার হুসনাবি পিতা মৃত আবদুল করিম সহ অনেকে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া পাহাড়তলী বড়–য়াপাড়া সংলগ্ন আবদুল্লাহ খানের ছেলে আরিফও একবার ঢাকায় ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়ে জামিনে এসে আবারও ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বর্তমানে ইসুলুঘোনাতে বেশ কয়েকটি কলোনী বা ভাড়াবাসায় অসংখ্য রোহিঙ্গা বসাবাস করে যারা নিয়মিত ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা আসা যাওযা করে তারা সাথে ইয়াবা নিয়ে আসে এবং এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। তার মধ্যে অন্যতম কলোনী হলো ইউচুপের মার কলোনী,মালেক মুন্সির ভাড়াঘর,আালাউদ্দিনের ভাড়াঘর,আবুল মিস্ত্রির ভাড়াঘর, আয়েশার বাপ সে ক্যাম্পের একজন রোহিঙ্গা মাঝি কিন্তু বর্তমানে থাকে আলাউদ্দিনের ভাড়াবাসায় তার কাছে আসা রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত ইয়াবা আনা নেওয়া করে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসুলুঘোনার স্থানীয় সমাজ সেবকরা বলেন,আমাদের সমানেই সব কিছু হচ্ছে কিন্তু কিছুই করার নেই। কারন আমার ধরে দিলেও কয়েকদিন পরেই ফিরে এসে আমাদের হুমকি দেয় তাছাড়া কিছু রাজনৈতিক নেতা আছে তাদের আশ্রয় পশ্রয় দেয় তাই আমরা অসহায়। এলাবাসাীর দাবী ভবিষ্যত প্রজেন্মর জন্য এলাকাকে ইযাবা মুক্ত করা দরকার। এ ব্যপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,ইয়াবা ব্যাপক বিস্তার বন্ধ করতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। ইতি মধ্যে বেশ কিছু সফলতাও এসেছে। ইয়াবার বিস্তাররোধে তিনি সর্বস্থরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT