ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার কাগজে ২ বছর আগে মারা গিয়েছিল এড,ছালামত উল্লাহ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, জুন ৯, ২০২১
  • 419 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কক্সবাজারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্ব প্রবীন আইনজীবি, জেলা বারের সাবেক সভাপতি,কক্সবাজার প্রেস ক্লাব,কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রতিষ্টাতা এড,ছালামত উল্লাহ মৃত্যু বরণ করেছেন চলতি বছরের ৬ জুন রাত সাড়ে ৮ টায়। পর দিন ৭ জুন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উনার জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার কাগজে কলমে এড,ছালামত উল্লাহ‘র মৃত্যু হয়েছে ২ বছরের বেশি সময় আগে। সম্প্রতী মরহুম এড,ছালামত উল্লাহ‘র নিজহাতে গড়া এই প্রতিষ্টানের কমিটি গঠন সংক্রান্ত কিছু কাগজ পত্র থেকে এই চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে,সদ্য প্রয়াত এড,ছালামত উল্লাহ কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার একজন প্রতিষ্টাতা সদস্য সে হিসাবে তিনি অতীতে বেশ কয়েকবার উক্ত বালিকা মাদ্রাসা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বপালন করেছেন। ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করেছেন রেজুলেশনেও উনার সহ তৎকালীন কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসক সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিদের স্বাক্ষর আছে। সর্বপরি তিনি প্রতিষ্টাতা সদস্য হিসাবে বেশ কয়েকবার কমিটিতে ছিলেন। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে গত ১০ জুন ২০১৮ সালে ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটিতে প্রতিষ্টাতা সদস্যের পদ শুন্য দেখানো হয়েছে,সেখানে আবার কারন হিসাবে দেখানো হয়েছে মৃত্যু জনিত। সে হিসাবে প্রায় দুই বছর আগেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন এড,ছালামত উল্লাহ। জটিলতার এখানে শেষ নয়,কমিটির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্টাতাদের মধ্যে যে কেউ বেঁেচ থাকলে সেই পদে অবশ্যই উনার নাম আসবে। জানা গেছে কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার আরেকজন প্রতিষ্টাতা সদস্য কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার। যিনি বর্তমানে জীবিত আছেন কিন্তু সেই কমিটি গঠনের সময়ে উনাকেও মৃত দেখানো হয়েছে। যদিও উনাকে অন্য স্থানে সদস্য করা হয়েছে তবে হওয়া উচিত ছিল প্রতিষ্টাতা সদস্য। এ ব্যাপারে কক্সবাজার ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহমুদুল করিম ফারুকী বলেন,আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি এসব বিষয়ে আগের অধ্যক্ষের সময়ে হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এড,ছালামত উল্লাহ এই মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা সদস্য হিসাবে যথেস্ট কাগজ পত্র আছে,এখন উনাকে কেন মৃত দেখানো হয়েছে তা আমি জানিনা। এ ব্যপারে আরেক প্রতিষ্টাতা সদস্য আবুল কাশেম সিকদার বলেন,এড,ছালামত উল্লাহ শুধু প্রতিষ্টাতা নয় অন্যতম প্রতিষ্টাতা উনার হাতধরে এই মাদ্রাসা আজকেরএই জায়গায় এসেছে। ২ বছর আগে কমিটি গঠনের সময় উনাকে মৃত দেখানোটা বড় বেয়াদবি। আমি সেই বিষয়ে জানার পর তার প্রতিবাদ করেছি। আমার মতে এটা মস্তবড় অন্যায় হয়েছে আর যারা করেছে তারা বড় অনিয়ম দূর্ণীতি করার জন্য এটা করেছে। এ ব্যপারে তৎকালীন অধ্যক্ষ (বর্তমান অবসরে) মৌলানা জাফর উল্লাহ নূরী বলেন,এড,ছালামত উল্লাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা এটা সত্য তবে সেটা গেজেটেট নয়,তাই মাদ্রাসার প্রয়োজনে যখন যা করতে হয়েছে তাই করেছি। এদিকে মাদ্রাসায় গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে অনেক শিক্ষক নিজ থেকে মাদ্রাসায় চলে আসা দীর্ঘ দিনের অনিয়ম দূর্নীতি এবং কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য আছে বলে জানান। এদিকে এড,ছালামত উল্লাহ‘র মত একজন গুনি মানুষকে কাগজে কলমে মৃত দেখিয়ে কমিটি গঠন এবং কাগজ পত্র সরবরাহ করার সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিদাবী করেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT