আষাঢ়ের শুরতেই ভারী বর্ষণে লন্ডভন্ড কক্সবাজারের বেশির ভাগ এলাকা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২০
  • 230 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
বুধবার ছিল ৩ আষাঢ়, আর আষাঢ়ের শুরুতে ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে চারিদিকে থৈ থৈ পানি। ১৬ জুন মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বুধবার সারা দিন ঝুরেছে অঝোর ধারায়। গত ২৪ ঘন্টায় ২৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রেড জোন হিসাবে করোনা পরিস্থিতির কারনে সাধারণ মানুষঘর বন্দি থাকলে দিনের বেলায় কিছু খেটেখাওয়া মানুষ বের হতো কাজের সন্ধানে কিন্তু অবিরাম বর্ষণে তারাও এখন ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার পৌর এলাকা সহ জেলা শহরের বেশির ভাগ এলাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। এ সময় অনেকে বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়ম পানি প্রবাহের নালা পরিষ্কার রাখা সহ ¯েøাইস গেইট গুলো চালু রাখার দাবী জানান।
শহরের বাজারঘাটার ব্যবসায়ি আশীষ দে বলেণ,কাল রাত থেকে যখন ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল তখন আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে কারন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম দোকানে পানি ঢুকতে হয়েছেও তাই সকালে এসে দেখি দোকানে প্রচুর পানি। হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি হবে এটা চিন্তা করিনি তাই কিছু জিনিস উপরে উঠাতে ভুলে গেছি। তবে শুধু পানি নয় সাথে বেশ কিছু ময়লা আবর্জনাও ঢুকেছে সেগুলে পরিষ্কার করতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।বড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ি নাছির উদ্দিন বলেণ,ভারী বৃষ্টির পানিতে আমাদের দোকানে হাটু পানি ঢুকেছে এতে দোকানে মসলা,লবণ,চিনি সহ অনেক গুরুত্বপূর্ন জিনিস ভিজে গেছে এতে অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান আমরা প্রায় সময় বলে থাকি বড় বাজার এলাকায় আসার নালাটি সব সময় পরিষ্কার রাখার জন্য তবে কে শুনে কার কথা। আগে বার্মিজ মার্কেট এলাকায় কিছু নালা দখলমুক্ত করা হয়েছিল কিন্তু সেটা এখন আবার ভরাট হয়ে গেছে অথবা দখল হয়ে গেছে বলে আমরা জেনেছি তাই এখন আবারো বাজারঘাটা এবং বড় বাজারে পানি হচ্ছে। এদিকে ঘোনারপাড়া এলাকায় দিন মজুর রওশন আলী বলেন,লকডাউনে কারনে আমরা চরম খাদ্য সংকটে আছি সে কেউ বুঝতে চায়না। তারউপর এখন প্রচুর বৃষ্টি আমাদের জীবন বেচে থাকা মুশকিল করে দিয়েছে। আর সামান্য বৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কোন ভুতুড়ে নগরীতে এসে গেছি। রাস্তায় এখন ময়লা আবর্জনা ভরপুর। অনেক পাহাড় দখলকারীরা বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি কেটে দিয়ে পানির সাথে ভাসিয়ে দিচ্ছে এতে রাস্তায় এবং নালায় পাহাড়ের মাটিতে ভরে গেছে। এদিকে টেকনাফ,উখিয়ায় অন্তত ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে দাবী করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আলাপ কালে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন,আষাঢ়ের শুরুতে এমন ভারী বর্ষন হবে সম্ভবত কেউ আগে ধারনা করেনি তাই অনেকে প্রস্তুতি নিতে ও পারেনি সেজন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কারনে টেকনাফ উখিয়ায় এখন কোন পাহাড় নেই তাই এখানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নেই। তাই পাহাড় ধ্বসের ঘটনা যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে। এদিকে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ইতি মধ্যে মহেশখালী বদরখালী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছি। কুতুবজোম সহ আশপাশের এলাকা গুলোতে কোন গাড়ী যাওয়া আসা করতে পারছেনা। দ্বীপের বেশির ভাগ মানুষ অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে।
এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেণ,হঠাৎ করে প্রচুর বৃষ্টি হওয়াতে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। তবে নালা নর্দমা ভরাট হওয়ার প্রধানকারন পাহাড় কাটা। আমার মতে পাহাড় কর্তনকারীদের ভাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দ্রæত সাজার ব্যবস্থা করতে হবে তাহলেই কিছুটা নিয়ন্ত্রনেআসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT