আলোকিত প্রতিষ্টানে পরিনত কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৯
  • 210 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

মাহাবুবুর রহমান,কক্সবাজার
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সর্বস্থরের মানুষের মাঝে প্রশংসিত হয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে জেলার অন্যতম আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্টান কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল। সে জন্য যে কোন সচেতন অভিবাবক এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠছে এই শিক্ষা প্রতিষ্টান। এদিকে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় চমকপ্রদ ভাল ফলাফল এবং অন্যান্য কার্যক্রমে সেরাটা ধরে রাখতে এই স্কুলের কতৃপক্ষের যেন চেস্টার কমতি থাকেনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে সমস্ত শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির সকলে মিলে কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।একই ভাবে সরকারেরও রয়েছে সার্বিক সহযোগিতা।এলাকার সচেতন মহলও অভিবাবকদের দাবী একটি ভাল শিক্ষা প্রতিষ্টান একটি অঞ্চলকে আলোকিত করতে যথেস্ট,আর কক্সবাজারে কেজি ও কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল আমাদের এলাকাকে আলোকিত করে আসছে বহু বছর ধরে।
কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের এক সময়ের শিক্ষার্থী বাংলাদেশের গর্ব জাতিয় ক্রিকেট দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় মুমিনুল হক সৌরভ জানান,আমাদের স্কুল কক্সবাজারের ওয়ান অফদ্যা বেস্ট স্কুল। স্কুল জীবনের সৃতি কখনো ভুলার নয়। আজকে আমাকে তৈরি করার পেছনে আমার সম্মানিত শিক্ষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে সেটা আমি সব সময় স্বীকার করি। গত বছর সম্ভবত আমি কক্সবাজারে গিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম তখন দেখেছি স্কুলের সার্বিক পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর। চারিদিকে নতুন ভবন আর প্রাকৃতিক পরিবেশও বেশ সুন্দর। আর কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের একটি সুনাম সব সময় ছিল আছে সেটা থাকবে বলে আমি মনে করি।
এ ব্যপারের কক্সবাজারের সর্বজন শ্রব্ধেয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত সভাপতি একেএম মোজাম্মেল হকের ছেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহিনুল হক মার্শাল বলেন,১৯৮১ সালের পরে চট্টগ্রামের কালু ঘাটের ব্রীজের পরে কক্সবাজারেই প্রথম আধুনীক ব্যবস্থাপনায় এই কেজি স্কুল গড়ে উঠেছিল। তখন থেকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ছেলে মেয়েদের এই স্কুলে পড়ানোর জন্য বেশি আগ্রহী ছিল। মোট কথা এই স্কুলেই জেলারআধুনীক শিক্ষা বিস্তারের প্রথম স্কুল। আমি নিজে এই স্কুলের ছাত্র আমার ছেলে মেয়েরাও এই স্কুলে পড়েছে। আমি মনে করি একটি আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্টান একটি অঞ্চলকে আলোকিত করে তুলে। আর সেই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল বহু বছর ধরে আমাদের এলাকাকে আলোকিত করে আসছে।
আলাপ কালে কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমজান আলী বলেন,১৯৮১ সালে কেজি স্কুলের মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্টানের যাত্রা শুরু এই অঞ্চলের অন্যতম শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিত্ব আলহাজ্ব কবির আহামদ সওদাগর এই স্কুলের প্রতিষ্টা করেন। পরে ১৯৯২ সালে মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠদানে অনুমতি পাওয়ার পরে কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল পথচলা শুরু হয়। বর্তমানে কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল কক্সবাজারের অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্টান। ২ একরের বেশি জমিতে প্রতিষ্টিত এই স্কুলে ৩ টি ভবন আছে। ১২ শত শিক্ষার্থী নিয়ে বর্তমানে এখানে শিক্ষক সংখ্যা ২৪ জন।আমি নিজে প্রতিষ্টান প্রধানদের শিক্ষাক্রম ও বিস্তরণ বিষয়ক মাস্টার ট্রেইনার,আমাদের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম হোসাইনী আইসিটি মাস্টার ট্রেইনার এবং জেলা এম্বেসেডর। এছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষক জেএসসি ও এসএসসি প্রশ্নপত্র তৈরি ও মডারেশনের সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালে জেলার শ্রেষ্ট ডিজিটাল প্রতিষ্টান নির্বাচিত হয়,জাতিয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭ সালে জেলার শ্রেষ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়। ২০১৭ সালে স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় রানার আপ,১৯৯৮ সালে জাতিয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা প্রথম আলো সমকাল,কালেরকন্ঠ স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা সহ সব ধরনের সৃস্টিশীল প্রতিযোগিতায় আমাদের স্কুল থাকে সবার আগে। এছাড়া আমাদের স্কুলে প্রতিনিয়ত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয়,এছাড়া কম্পিউটার ল্যাবে নিয়মিত পাঠদান হয় তাই শিক্ষার্থীদের আগ্রহ পড়ালেখার প্রতি অনেক বেশি বেড়েছে। এ সময় তিনি বলেন,একটি শিক্ষা প্রতিষ্টানকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আর আমাদের স্কুলে সবার মধ্যে সেই পারস্পারিক সহযোগিতা আছে।
এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌর মেয়র কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের আজিবন দাতা সদস্য ও বর্তমান শিক্ষানুরাগী সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন,কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল এই এলাকার একটি অনন্য আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্টান। এই স্কুলের অন্তত ২০ হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্টিত। এবং এখনো কক্সবাজারের সুনামধন্য জেলার মানুষজন এই স্কুলে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করানোর জন্য উন্মোখ হয়ে থাকে। আমি মনে করি বিশ্বাষের জায়গা তৈরি না হলে সেটা সম্ভব হতো না।
আলাপ কালে কক্সবাজার কেজি এবং কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের প্রতিষ্টাতা কবির আহামদ সওদাগর বলেন,আমার জীবনের সব চেয়ে বড় অর্জন এই কেজি স্কুল। আমি মনে করি এটাই আমার মৃত্যুর পরে সদকায়ে জারিয়া হবে। এ সময় তিনি স্কুল প্রতিষ্টা সময়ে যারা সহযোগিতা করেছে এবং বিভিন্ন সময়ে যারা কমিটিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT