শিরোনাম :

আলী‘র উত্থান যেন রুপকথার গল্প

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২১
  • 558 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহবুবুর রহমান.
কে এই আলী ? কিভাবে তিনি এত টাকার মালিক হলেন তা নিয়ে কক্সবাজারে সর্বত্রই আলোচনা চলছে। বছর দশেক আগে যিনি গৃহপরিচারক ছিলেন, তিনি এখন কক্সবাজারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কে ধর্ণা দেননা আলীর কাছে! তারঁ উত্থান যেন রূপ কথার গল্পের মত।
কক্সবাজারের ‘আলী’ এখন ‘টক অব দি টাউন’ কি নাই আলীর ? একাধিক আলীশান বাড়ি, ঢাকা-চট্টগ্রামে একাধিক ফ্ল্যাট, একাধিক দামী গাড়ি, শহর ও গ্রামে জমি আলিশান আড়ি, ইটভাটা, খামার, নামে-বেনামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার চেয়ে বড় কথা আলী এক রহস্য মানবের নাম কক্সবাজারে কখন কে নেতা হবে কখন কোন পুলিশ থানার ওসি হয়ে আসবে সবই নাকি হয় এই আলী ইচ্ছায়। আর তারসাথে সর্ম্পক বঙ্গবন্ধু পরিবার থেকে শুরু করে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাথে। তবে সব কিছুই প্রতারণা বলে দাবী করছে তার ঘনিষ্টজনরা। মূলত জমি দখল,দালালি থেকে শুরু করে মোটা অংকের টাকা আয় করার জন্যই তিনিএবং তার সিন্ডিকেট এসব বলে বেড়াতেন।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর বাসায় ‘কাজের ছেলে’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মো. আলী। মাসিক বেতন হিসেবে ৭০০ টাকা পেতেন। কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের গোলারপাড়া গ্রামের দরিদ্র নৌকার মাঝি দিনমজুর ইলিয়াস প্রকাশ কালু মাঝির ছেলে তিনি। দিনমজুর পিতার ছেলে আলীর অদৃশ্য উত্থান হয় মাত্র ১০ বছরে। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, নামের মিল থাকায় জালিয়াতি করে আলী হাতিয়ে নিয়েছেন তার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের বিশাল মার্কেট আর আট কোটি টাকা মূল্যের বসতভিটাও কৌশলে হাতিয়ে নিতে নানা ফন্দি-ফিকির করছেন। ভুয়া বন্ধকি দলিল বানিয়ে তার মার্কেটও দখলে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এমনকি মো. আলী তার আট কোটি টাকার বাড়ি দখলেরও চেষ্টা করেন। তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে।
অভিযোগ রয়েছে আলী যে আয়কর দেন তাঁর ফাইল সার্ভারে দেখতে চাইলে আইডি কার্ড আসে পৌরসভার পানি শাখার আবদুল্লাহ’র। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায় আলীর ক্ষমতার প্রভাব এতই বেশি, কক্সবাজার প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও আর্শীবাদ পেতে নিয়মিত হাজিরা দেন তার দরবারে। জটিল কোন সমস্যায় আটকে গেলে জেলার শীর্ষ আমলা ও রাজনীতিবিদরা সাহায্যের জন্য আলীর কাছে ছুটে যান। ‘আলীর’ প্রতারণার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেন আবদুল্লাহ ও তারেক সহ আরো কয়েকজন।
‘আলী’ হিলারি ক্লিনটন-বারাক ওবামা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে স¤পর্কে কথাও বলে বেড়ান। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন বলেও প্রচার করেন তিনি। পুলিশের সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ তাকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমন প্রচারও চালান। অসীম ক্ষমতাধর এই ‘আলী’ এখন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী হিসেবে পরিচিত। তিনি সাংবাদিকদের চাকরি দিতে পারেন আবার চাকরিচ্যুত করতে পারেন- এমন কথা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। অনেকে তাকে সিআই’র এজেন্ট, আবার কেউ কেউ তাকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এজেন্ট বলে মন্তব্য করেন। তাই দলীয় নমিনেশন, জেলা আওয়ামী লীগের পদবী, পুলিশ কর্তাদের বদলি ও বদলি ঠেকানোসহ নানা তদবিরের জন্য মানুষ তার কাছে এসে ভিড় করেন। তিনি শুধুমাত্র কক্সবাজারে ওসিদের বদলি ঠেকিয়ে কোটি কোটি কামিয়ে নিয়েছেন। উপহার হিসেবে পেয়েছেন দামী ব্র্যান্ডের কার গাড়ি।
তার উল্লেখযোগ্য স¤পদের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার শহরের পূর্ব নতুন বাহারছড়া বিমানবন্দর সড়কের পাশে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা বিলাসবহুল বাড়ি, কক্সবাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কস্তুরাঘাটের এন্ডারসন রোডের ডুপ্লেক্স বাড়ি, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বেপারীপাড়ার ৩৭০ এক্সেস রোডের ১০ তলা ভবন, নিজ গ্রামে পাঁচ কোটি টাকার প্রাসাদোপম বাড়ি, কক্সবাজার শহরের কলাতলী ও বাইপাস সড়কে তিনটি এবং ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, কক্সবাজার পৌরসভা ও তার পিএম খালী ইউনিয়নে নামে-বেনামে ৩০ একর, চট্টগ্রামে ১০ একর জমি, কক্সবাজার সদরের ঈদগাহে মেসার্স এসএমএ ব্রিক ফিল্ড, কক্সবাজার সদরের গোলারপাড়া গ্রামে নিজ নামে আলী ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি ফার্ম, মেসার্স আলী এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ নামে-বেনামে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে আলীর সাথে ঘনিস্ট এমন কিছু মানুষ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী একজন উচ্চ মানের প্রতারক। তিনি তার আত্বীয় স্বজনের নাম্বার বিভিন্ন ভিআইপি ব্যাক্তির নামে মোবাইলে সেভ করে রেখে মানুষজনকে বোকা বানানোর জন্য তাদের সামনে ভিআইপিদের সাথে কথা বলছে বলে প্রতারণা করে মানুষকে জিম্মি করে পরে তাদের কাছ থেকে কৌশলে জমি এবং টাকা হাতিয়ে নেয়।
‘আলী’ কারো সাথে ফোনে কথা বলেন না। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন । এতে তিনি দাবী করেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো স¤পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোন সামঞ্জস্য নেই। তিনি বাংলাদেশ সরকারের আয়কর প্রদানকারী একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর পরিবার তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT