অস্বাভাবিক বেড়েছে চাল ও তেলের দাম : নাজুক অবস্থায় সাধারণ মানুষ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২১
  • 330 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না চাল ও তেলের দাম। সপ্তাহ ব্যবধানেই বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা সে হিসাবে বর্তমানে মোটামোটি ভাল মানের চালের দাম গিয়ে ঠেকেছে ২ হাজার ৯ শত টাকায়। অন্যদিকে পাল্লা দিকে বাড়ছে তেলের দাম, কয়েকদিনের ব্যবধানেই প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এদিকে শীত কালীন সবজি থেকে শুরু করে সব কিছুরই দাম অন্যান্য বছরের ছেয়ে বেশি তাই আয়ের সাথে ব্যায়ের সংঙ্গতি মেলাতে পারছেনা সাধারণ মানুষ।
শহরের কালুর দোকানের কয়েকটি চালের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বর্তমানে মিনিকেট বা পুরাতন পাইজাম ৫০ কেজী বস্তা প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। আরেকটু ভাল মানের চালের দাম আরো বেশি দোকানদারদের দাবী দুই সপ্তাহ আগেও একই মানের চালের দাম ছিল ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা। কিন্তু কেন দাম বাড়ছে তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে পারেনি কেউ। সবারই একই উত্তর বাড়তি দামে কিনেছি তাই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই ভাবে বড় বাজারের বেশ কয়েকটি পাইকারী চালের দোকানে গিয়ে জানা গেছে ২৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মোটামোটি খাওয়ার উপযুক্ত চাল।
শহরের বাহারছড়া এলাকার শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন,বাজারের অবস্থা খুবই সূচনীয় গত মাসে যে চাল কিনেছি ২৩০০ টাকায় এখন সেই চাল কিনতে হয়েছে ২৯০০ টাকায়। আর ৫ লিটার তেল কিনেছিলাম ৫২০ টাকায় সেই তেল এখন ৬৫০টাকায় কিনেছি। একই ভাবে মাছ,তরিতরকারী সহ সব কিছুর দাম বাড়তি। তবে আমাদের বেতন বাড়েনি এক টাকাও। তিনি বলেন,আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আমরা খেয়েপরে বেঁেচ আছি তবে আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ আছে যারা মুখে বলতে পারছে না কিন্তু বাস্তবে খুবই কষ্টে আছে। আর আমরা যারা সাধারণ কর্মজীবি মানুষ তাদের কষ্টের সীমানাই বল্লেই চলে।
পেশকারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ি নজির হোসেন বলেন,আমি সারা দিন রাস্তায় চা বিক্রি করে অথবা ঝালমুরি বিক্রি করে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। কিন্তু পরিবারের ৫ সদস্যের দৈনিক খাবার জোগাড় করতেই সব টাকা চলে যায় কারন বাজারে গেলে চাল,ডাল,মাছ কিনতেই সব টাকা চলে যায়। এর পরে কোন ছেলেমেয়ে অসুস্থ হলে অন্যদের কাছথেকে টাকা ধার নিয়ে চলতে হয়। তিনি বলেন,আমি সরকারের কাছে দাবী জানাই উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের উচিত হবে নিত্যপন্যের দাম নিয়ন্ত্রন করা। কারন উন্নয়ন দিয়ে পেট ভরে না।
চকরিয়া খুটাখালী এলাকার মনজুর আলম বলেন,শহরের মানুষ অনেক কিছু ভাবে আয় করতে পারে কিন্তু গ্রামের মানুষ কৃষি কাজ বা কিছু নির্ধারিত কাজকর্ম ছাড়া কোন আয় নেই। তবে খরচ একই বাজারে বর্তমানে চালের অস্বভাবিক দাম আর মাছ মাংসতো কথাই নেই তাই মানুষ খুবই কষ্টে আছে। তিনি জানান,সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করা। সরকার কয়েক দফা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়েছে কিন্তু অনিয়ম দূর্নীতি কি আসলেই কমেছে ? এসে যারা শোষন হওয়ার তারা শোষন হচ্ছেই। তাই চাল,ডাল সহ নিত্যপন্যের দাম কমনোরে প্রতি বেশি নজর দেওয়ার দাবীজানান সচেতন মহল।
এদিকে জেলা চাল ব্যবসায়ি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন,চালের দাম বাড়তি হওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে এতে কোন সন্দেহ নাই। আর চালের দাম বাড়ার কোন উপযুক্ত কারনও খুজে পাচ্ছি না তবে আমরা যেহেতু ঢাকা,চট্টগ্রাম,নারায়নগঞ্জ থেকে কিনে এনে ব্যবসা করি তাই সেখানে সেখানে দাম ধরে গাড়ি ভাড়া যোগ করে আমরা সামান্য লাভে ব্যবসা করি। তাই চালের দাম কমাতে হলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আরো কঠোর ভুমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT