অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, জুন ২৯, ২০২০
  • 225 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
বাবুর্চি,চিত্রশিল্পী,আকিয়ে,হোটেল বয়,গাছকাটা,কারিগর,বিমানকর্মী,বিমানবন্দরের ১১ ধরনের কর্মচারী,বীমাককোম্পানীর কর্মী সহ ৩৪ ধরনের মানুষের পেশাবন্ধ তাই তাদের সব ধরনের আয়েরপথও বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের একটি বেসরকারী সংস্থার জরীপি এই তথ্যউঠে এসেছে। এছাড়া আরো ৫৭ ধরনের পেশার মানুষের আয় অর্ধেনে নেমে এসেছে। এতে মানুষের আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
চলমান করোনা সংকটে কক্সবাজারে সাধারণ মানুষের আর্থিক এবং খাদ্য সংকট চরম পর্যায়ে পৌছেছে তার উপর কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি বন্দি মানুষ জীবন বাচাঁনোই কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলার গ্রামাঞ্চলের অসংখ্যা মানুষের কথা বলে জানা গেছে বর্তমানে নি¤œবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়া পাড়ার শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেণ,মার্চ মাস থেকে দেশে করোনার কারনে সব কিছুই বন্ধ বাইরে যেতে পারিনা কোন আয় ইনকাম নেই,সব কিছু স্থবির। কিন্তু পেটেখাবারতো দিতে হবে তাই ঘরের খরচ আগের মতই আছে। তাই ঘরে সামান্য যা জমনো ছিল সব কিছু সব শেষ হয়ে গেছে এমনকি স্ত্রী স্বর্ণ বিক্রি করে পর্যন্ত ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়েছে। শহরের টেকপাড়ার বাসিন্দা শাহিনুর ইসলাম বলেণ,আমাদের ঘরে ৫ জন সদস্য আমি একমাত্র উপার্যনকারী কিন্তু বর্তমানে করোনা সংকটের কারনে আগে মত কোন আয় নেই তার উপর এখন ভারী বর্ষণে একেবারে ঘর বন্দি মনে হয় না খেয়ে মারা যেতে হবে। প্রথম দিকে কিছু সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেলেও এখন কিন্তু কোন সহায়তা নেই।বৈদ্যঘোনা এলাকার নাছির উদ্দিন বলেণ,আমি হোটেল জোনের মিশুক হোটেলে কাজ করতাম ভালই চলতো সংসার কিন্তু করোনার কারনে প্রায় ৪ মাস ঘরে বন্দি এর মধ্যে ঘরে যে সামান্য টাকা জমা ছিল সেটা খরচ হয়ে গেছে এর পরে আরো কিছু টাকা ধার নিয়েছি তাই শেষ হয়ে গেছে। তার উপর এখন ভারী বৃষ্টির কারনে ৩ দিন শুধু কাচা মরিচ নিয়ে ভাত খাচ্ছি। এদিকে জেলা বিভিন্ন মানুষজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে বর্তমানে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে চরম অর্থ সংকট চলছে।শহরের ঘোনারপাড়াএলাকার বাবুর্চি শাহ আলম বলেণ,আমার পেশা হচ্ছে বাবুর্চি কিন্তু গত ৩ মাসে এক টাকা ও কোন ভাবে আয় করতে পারিনি। আর আমাদের ঘরেওএমন কোন টাকা ছিল না বসে বসে খাবার মত। আমি দেখছি অনেক পেশার মানুষ কিছুটা হলেও টাকা আয় করতে পারছে তবে বাবুর্চি,ডেকোরশেন,আমাদের সাথে কাজ করা সহকারীরা একটি পয়সাও আয়করতে পারছেনা কোন ভাবে। আমাদের মতে ভবিষ্যতেও আমাদের এই পেশা চরম ঝুকিতে পড়তে পারে। আর বর্তমানে ধারদেনা করে চলছি এভাবে আর কত দিন চলবো। মোট কথা জীবনের চরম খারাপ সময় পার করছি। পাহাড়তলী এলাকার দিনমজুর রহিম উল্লাহ বলেন,জীবনে এরকম দুঃসময় আর কখনো আসেনি পরিবারে ৫ জন সদস্য কেউ আয় করার মত নাই আমি একমাত্র আয় করার লোক কিন্তু চারিদিকে সব বন্ধ থাকা কোন টাকা আয় করতে পারছি না। মাঝে মধ্যে টমটম নিয়ে বের হলেও এখন সেটাও বন্ধ রাস্তায় বের হলে মারে তাই ঘরে বসে আছি। আশপাশে কেউ কাজের জন্য ডাকলে যায় সেখানে সামান্য টাকা পায়। এদিকে টেকপাড়ার আইনজীবি মোঃ আবদুল্লাহ বলেণ বর্তমানে সরকারি চাকরীজীবি ছাড়া কেউ ভাল নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে। আর এলাকা ভিত্তিক লকডাউন কোন কাজে আসবে বলে আমার মনে হয় না। যদি প্রয়োজন হয় আবারো সারাদেশে এক সাথে কঠোর লকডাউন দিলে কাজে আসতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT