শিরোনাম :
রামু উপজেলা পরিষদের সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দোকান বরাদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ঈদগাঁও বটতলী-ইসলামপুর বাজার সড়কের বেহাল দশা আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে কোটিপতি রোহিঙ্গা জালাল : নেপথ্যে ইয়াবা ব্যবসা পৌর কাউন্সিলার জামশেদের স্ত্রী‘র ইন্তেকাল : সকাল ১০ টায় জানাযা উখিয়ায় বিদ্যুৎ পৃষ্টে একজনের মৃত্যু কক্সবাজারে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত মদপানে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু টেকনাফে নৌকা বিদ্রোহীদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে; সাবরাং পথসভায় মেয়র মুজিব ৮ হাজার পিস ইয়াবা, যৌন উত্তেজক সিরাপ নগদ টাকা সহ আটক ১ মহেশখালী পৌর বিএনপির সভাপতি বহিস্কার,কমিটি বাতিল করোনা:ছয় মাস পর দৈনিক শনাক্ত ৬ শতাংশের কম

অনলাইন ক্লাসের সুবিধা পাচ্ছেনা গ্রামের শিক্ষার্থীরা

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০
  • 227 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
মহেশখালী উপজেলার কালারছড়ার শাহ মজিদিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া জানান,চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে দেশে করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ঘরে বসে আছি কোন কোন ক্লাস নেই। মাঝে মধ্যে টেলিভিশনে দেখি অনেক স্কুলে বা মাদ্রাসায় অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে কিন্তু আমরা এখনো সেই সুযোগ পায়নি। আমাদের মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি। সেই ছাত্রীর অভিবাবকের দাবী আমরা গ্রামের মানুষ দুবেলা খেয়ে পরে বাচঁতে পারছিনা সেখানে দামী মোবাইল নিয়ে সেখানে ইন্টারনেট ভরে কিভাবে ক্লাস করাবো। তাছাড়া মাদ্রাসা থেকেও কখনো বলেনি। কক্সবাজার শহরের পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়াপাড়ার ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মুবিনা আক্তার বলেণ,করোনা শুরু হওয়ার ঘরে বসে আছি প্রথমে নিজে নিজে বই নিয়ে পড়তে বসলেও ২/৩ মাস ধরে বই ধরা হচ্ছেনা। অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে জানতে চাইলে উল্টো প্রশ্ন করে বসে সেটা আবার কি ? পরে ঐ স্কুলের এক মহিলা শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে বলেন,করোনার পর থেকে কেউ স্কুলে যায় নি। স্কুলের কারো সাথে যোগাযোগ নেই। অনলাইন ক্লাসের কথা মাঝে মধ্যে বল্লেও প্রধান শিক্ষক আমাদের কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন বলে দেয়নি তাই আমরাও করায় নি। ভারুয়াখালী সওদাগর পাড়া এলাকার স্কুল ছাত্রী স্বর্ণামনি জানান,অনলাইন ক্লাস টিভিতে দেখেছি তবে বাস্তবে কোন সময় করিনি স্কুল থেকে কখনো আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। যদিও আমাদের ঘরে এন্ড্রয়েট মোবাইল এবং ইন্টারনেট সবই আছে তবে উদ্দোগ না থাকার কারনে অনলাইন ক্লাস করা হয়নি। টেকনাফ উপজেলার মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিবাবক গিয়াস উদ্দিন বলেণ,আমার ঘরে ৩ জন স্কুল শিক্ষার্থী কারো স্কুল থেকে অনলাইন ক্লাসের জন্য কখনো যোগাযোগ করেনি। যদি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য রক্ত বিক্রি করে মোবাইল বা অন্য কিছু কিনতে হতো তাও কিনতাম কিন্তু কেউ যোগাযোগ করেনি। ফলে বর্তমানে ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া ভুলতে বসেছে। আগে আসায় প্রাইভেট মাস্টার আসতো এখন স্কুল না থাকায় তিনি আসেনা। বলতে গেলে লেখাপড়া বন্ধ। তবে ভিন্ন মত দিয়েছেন পাশে থাকা আরেক অভিবাবক নাছির আলম তিনি জানান,ঘরে একটি মোবাইল আছে সেটা ১৪০০ টাকা দামের এছাড়া কোন মোবাইল নেই তাহলে কিভাবে অনলাইন ক্লাস করবে। এভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে করোনা কালিন সময়ে শহরের শিক্ষার্থীরা কিছুটা অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেলে সেটা থেকে একেবারে বঞ্চিত ছিল গ্রামের শিক্ষার্থীরা। এ ব্যপারে রামু জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইনুল ইসলাম মাতবর বলেণ,গ্রামের পরিবেশ আর শহরের পরিবেশ সম্পূর্ন ভিন্ন এখানে ওয়াইফাই এখনো আসেনি। অনেকে খুচরা এমবি বা ইন্টারনেট ভরে মোবাইলে ফেইসবুক দেখা ছাড়া আর কোন কিছু জানেনা। যেখানে অনলাইন ক্লাসের নিয়ম কানুন শিখাতে শিক্ষকদের প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে হবে। সব চেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যূৎ থাকে না তাহলে কিভাবে অনলাইনে ক্লাস করাবে। তার পরও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সাধ্যমত সব কিছু করার চেস্টা করছি। চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন,করোনা কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বই মুখি রাখার জন্য সরকার অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে। আমার জানা মতে শহরের স্কুল গুলোর কিছুটা অনলাইন ক্লাস করালেও গ্রামের স্কুল গুলোতে সে ধরনের কোন কিছু দেখা যাচ্ছেনা। বিশেষ করে একেবারে প্রান্তিক পাহাড়ী এলাকা গুলোতে অনলাইন ক্লাস সি সেটাই চিনেনা বলে মনে হয়।
এ ব্যপারে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল আজম জানান,করোনা কালীন সময় বন্ধ দীর্ঘ হওয়াতে সরকারি নির্দেশনা মতে অনলাইনে ক্লাস করানোর উদ্দোগ নেওয়ার জন্য প্রতিটি স্কুলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তবে এটাও ঠিক বেশির ভাগ স্কুলে বা শিক্ষার্থীদের সমস্যাও কম না। তবুও তুলনামূলক ক্লাস হচ্ছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন,অনলাইনে ক্লাস মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক বেশি হয়েছে অনেক স্কুল বা কলেজ আছে সর্বোচ্চ ক্লাস করে বিভাগ সেরা হয়েছে এমনও আছে। তবে এটাও ঠিক গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT