অতিরিক্ত বিদ্যূৎ বিলের চাপে অতিষ্ট মানুষ : অভিযোগ দিলেও কেউ শুনছে না

রির্পোটার:
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২০
  • 1896 বার সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহাবুবুর রহমান.
দেশে করোনা পরিস্থিতির কারনে পিডিবির আওতাধীণ এলাকায় অনেকের ২ মাস আবার অনেকে ৩ মাস বিদ্যূৎ বিল সরবারহ করেনি বিদ্যূৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ তবে জুন মাসে এসে সব গ্রাহকদের সেই বিল বকেয়া হিসাবে দিচ্ছে কিন্তু এতে অতিরিক্ত বিদ্যূৎ বিল চার্জ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বেশির ভাগ গ্রাহক। শত শত গ্রাহক বিভিন্ন গনমাধ্যমে ফোন করে বিদ্যূৎ বিলের এই অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে অভিযোগ করছেন। বাহারছড়ার বাসিন্দা অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেণ,স্বাভাবিক ভাবে আমার বাসায় বিদ্যূৎ বিল আসে ৫০০/৬০০ টাকা কিন্তু দেশে করোনা পরিস্থিতির কারনে গত ৩ মাস বিদ্যূৎ বিল দেয়নি কর্তৃপক্ষ এখন সেই বিল একসাথে দিচ্ছে কিন্তু বিলের কপি পেয়ে আমি রীতিমত হতবাক কারন প্রতি মাসে বিল দেখিয়েছে ১৫০০ টাকা সে হিসাবে প্রায় ৫ হাজার টাকার বিল এসেছে। এমনিতেই হাতে কোন টাকা নেই তারউপর বাড়তি এই বিল কিভাবে দেব। সে জন্য আমি অফিস খোলার সময় অভিযোগ করতে বিদ্যূৎ অফিসে গেলে তারা কোন সদোত্তর দেয়নি বরং বলেছে এই টাকা পরিশোধ করতে সামনে কমিয়ে দেবে। একই এলাকার আশরাফুল আজিজ সুজন বিদ্যূৎ বিলের কপি ফেইসবুকে দিয়ে জানিয়েছে তার বাসায় প্রতি আসে আগে বিল আসবো সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এখন সেই বিল ৩ মাসে দিয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। কিন্তু বিলে যে রিডিং দেখানো হয়েছে মিটারেও সেই রিডিং নাই এখন আমি বাড়তি টাকা কেন দেব। করোনা পরিস্থিতির কারনে সরকার সেখানে মানুষকে খাদ্য সহায়তা করছে সেখানে বিদ্যূৎ বিলে এখন ভুতুড়ে বিল আমি কেন মেনে নেব ? শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকার এক গৃহীনি বলেণ,আমাকে ৩ মাসের বিল দিয়েছে এক সাথে ২২ হাজার টাকা এখন হঠাৎ করে এত টাকা আমি কোথায় পাব। আর আমার মিটারে তার অর্ধেক রিডিংও নেই তাহলে কেন আমি এতটাকা বাড়তি দেব ? এদিকে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সমাজ সেবক বিদ্যূৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তুষের কথা জানিয়েন আলাপ কালে কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন,আমাদের এলাকায় অনেক মানুষ আমাকে ফোন করে এবং বিভিন্ন ভাবে অতিরিক্ত বিদ্যূৎ বিল নিয়ে অভিযোগ করেছে তারা অনেকে মিছিল করে বিদ্যূৎ অফিসে যেতে চায়ছে আমি বারণ করে বলেছি অফিসে গিয়ে আগে কথা বলতে তবে কয়েকজন গিয়েছিল তাদের নাকি বিদ্যূৎ অফিসে কোন ভাল উত্তর দিতে পারেনি। এভাবে হাঠৎ করে মানুষকে বিদ্যূৎ বিল চাপিয়ে দেওয়াটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। একই মত দেন কক্সবাজার আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড,জিয়া উদ্দিন আহামদ তিনি বলেণ,সরকার যেখানে মানুষকে কোন মতে খেয়ে পরে বেচে থাকার জন্য নানান ভাবে সহায়তা করছে সেখানে বিদ্যূৎ বিল নিয়ে জন অসন্তুষ তৈরি করা মোটেও উচিত না। যদি জনবল সংকটের কারনে মিটার ঠিকমত দেখতে না পারলে আগের বিল হিসাবে করে বিল দেওয়া উচিত আর মিটারে রিডিং না থাকলে গ্রাহক একটাকাও কেন বেশি দেবে। কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেণ,জন অসন্তুষ তৈরি হওয়ার আগে বিল ঠিকর জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের দাবী জানাচ্ছি। এ ব্যপারে কক্সবাজার বিদ্যূৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গনি বলেণ,লকডাউনের কারনে সঠিক ভাবে মিটার দেখে হয়তো বিল করতে পারেনি সে জন্য অনেক খেত্রে একটু কম বেশি হচ্ছে। তবে গণহারে বেশি হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। তবুও বিষয়টি আমি কিভাবে ঠিক করা যায় সেটা আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেব।

নিউজটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিষয়ে আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 cox71.com
Developed by WebArt IT